দৈনিক ‘আজাদী’র ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সম্পাদকরা : সংবাদপত্র যে কোনো সংকটময় মুহূর্তে চেতনার বাতিঘর হিসেবে ভূমিকা রাখে

সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬

চট্টগ্রাম অফিস : অশুভ শক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ পরিচালনায় সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের সব অনিশ্চয়তা দূর করতে এবং যে কোনো সংকটময় মুহূর্তে সব অশুভ শক্তিকে পরাস্ত করতে সংবাদপত্র বা গণমাধ্যম চেতনার বাতিঘর হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে গণমাধ্যম। মানবমুক্তি এবং সামাজিক অগ্রগতির লক্ষ্যে কাজ করাই সাংবাদিকদের প্রকৃষ্ট পথ। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র দৈনিক আজাদীর ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গত শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর রেডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও মিলনমেলায় দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক। দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন দৈনিক ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, দ্য নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, ভোরের কাগজ সম্পাদক দৈনিক কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান, দ্য ডেইলি অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রমুখ।

সুধী সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর প্রথম দৈনিক আজাদী বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। আজাদী কেবল চট্টগ্রামেরই গৌরব নয়, এটি বাংলাদেশের গৌরব। অবহেলিত চট্টগ্রামের উন্নয়ন এবং এ জনপদে আলোকিত মানুষ সৃষ্টিতে দৈনিক আজাদী ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের পত্রিকা জগতে সাফল্যের আরেক নাম দৈনিক আজাদী। এ প্রতিষ্ঠান (কোহিনূর ইলেক্ট্রিক প্রেস) থেকে ভাষা আন্দোলনের কঠিন মুহূর্তে ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসীর দাবি নিয়ে এসেছি’-এর মতো কবিতা প্রকাশ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠান থেকে দৈনিক আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেককে একুশে পদক এবং দৈনিক আজাদীকে একটি লাইফ টাইম অ্যাওয়ার্ড দেয়ারও আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে ১৮টি সংবাদপত্রের সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সেক্টরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল যেন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল।

ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ’৬০-এর দশকে আইয়ূব খানের শাসনামলে সময়টা ছিল বৈরী। এ বৈরী সময়ে একটা পত্রিকা বের করার ইচ্ছা পোষণ, সত্যিই একটি সাহসের ব্যাপার। এ চিন্তা যিনি করেন, বুঝতে হবে তিনি সময়ের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। আজকে চট্টগ্রামের উন্নয়ন, চট্টগ্রামের অগ্রগতি যা কিছু আছে, তার সঙ্গে আজাদী ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেছেন, জয় বাংলা বাংলার জয় স্লোগানে স্বাধীনতার প্রথম প্রহর ১৭ ডিসেম্বর দৈনিক আজাদীর প্রকাশ ঐতিহাসিক। ঢাকায় থাকলেই জাতীয়। ঢাকার বাইরে হলে আঞ্চলিক- এ মানসিকতা ঠিক নয়। দৈনিক আজাদী সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। এখানে ঢাকা-চট্টগ্রাম বলে কোনো কথা নেই।

বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালেদী বলেন, সবদিক দিয়ে অনিশ্চয়তার এ যুগে ৫৭ বছর একটি পত্রিকা টিকে থাকলে বুঝতে হবে এ পত্রিকার সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততা রয়েছে। দেশের স্বার্থের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অনুষ্ঠানে লিখিত শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার।দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, মিডিয়া হচ্ছে একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যা সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। মিডিয়ার স্বাধীনতা মানেই মানুষের স্বাধীনতা। মিডিয়ার স্বাধীনতা সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত ও নিশ্চিত হলে যে কোনো দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।

দ্য ডেইলি অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, যে বক্তব্য দিয়ে আজাদীর যাত্রা শুরু হয়েছিল তা আজো আমাদের জাতিকে প্রেরণা জোগাচ্ছে। ৫৭ বছর ধরে পথ চলা, এ সাফল্য শুধুমাত্র আজাদীর নয়, আমরা যারা মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত আছি, পেশাজীবী সাংবাদিক আছি, এ সাফল্য আমাদের সবার। দৈনিক আজাদী সাংবাদিকতার ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

স্বাগত বক্তব্যে দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, আজ থেকে ৫৬ বছর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬০ সালে আজাদী আত্মপ্রকাশ করে। এর আগে অবশ্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক ‘কোহিনূর’ নামে এক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। পত্রিকা প্রকাশের দুই বছরের মাথায় ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬২ সালে তিনি মারা যান। এই সময় অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে আমৃত্যু কাজ করে যান। ষাটের দশকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে যত আন্দোলন সংগ্রাম- সবকিছুর সঙ্গে আজাদী ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল। আমাদের পরম আনন্দের বিষয়, আজাদী স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দৈনিক। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পত্রিকা সম্পাদকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সংবাদ সম্পাদক আলতামাস কবির, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নইম নিজাম, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, বাসস সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, দৈনিক পূর্বকোণ সম্পাদক তছলিম উদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক পূর্বদেশ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদ, দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ সম্পাদক সৈয়দ ওমর ফারুক প্রমুখ।

এ ছাড়া সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর মু. সিকান্দার খান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চট্টগ্রামের জিওসি জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, চট্টগ্রামের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, নগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার, জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, চিটাগং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নুরুন নেওয়াজ সেলিম, এফবিসিসিআইয়ের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোয়ারা হাকিম আলী, প্রাক্তন এমপি সরওয়ার জামাল নিজাম, জাতীয় পার্টি নেতা সোলায়মান আলম শেঠ, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, সেক্রেটারি মহসিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj