শেষ হলো প্রাণের খেলা

রবিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৫

শরীফা বুলবুল : একদিকে সুরের সমুদ্রে ভেসে যাওয়ার উচ্ছ¡াস, অন্যদিকে বিদায়ের করুণ সুর। বাংলার লোকসঙ্গীতের সঙ্গে বিদেশি লোকসঙ্গীতের সেতুবন্ধন আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে লোকসঙ্গীতের ঐতিহ্যে উদ্ভাসিত করার প্রত্যয়ে গত রাতে পর্দা নামল তিনরাতের ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোকফেস্ট, আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসব-২০১৫’।

মাছরাঙা টেলিভিশন ও সান ইভেন্টসের আয়োজনে গত ১২ নভেম্বর রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে শুরু হয় আন্তর্জাতিক এই লোকসঙ্গীত উৎসব।

হারিয়ে যাওয়া লোকবাদ্যযন্ত্র একতারা, দোতারা, বায়া, বাঁশি, খমক, খঞ্জনি, মন্দিরার সংমিশ্রণে উৎসবের সমাপনী রাতে মর্তলোকে সৃষ্টি হয় স্বর্গীয় সুখের অনুভূতি। সুরের সমুদ্রে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে ঐতিহ্যের খোঁজে এ রাতে শিল্পীরা প্রাণান্তর চেষ্টায় মেতে ওঠেন। দিনের আলো নিভে গিয়ে অন্ধকার নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে সুরের আলোয় হৃদয়ে এক ভিন্ন আলোর পরিস্ফুটন ঘটে। সে আলো স্টেডিয়ামের হাজারো রঙের আলোকেও হার মানায়।

জনপ্রিয় ফোক ফিউশন ব্যান্ড ‘জলের গান’ এর মনমাতানোর পরিবেশনার মধ্য দিয়েই শুরু হয় সঙ্গীতের এই মহা আসর। জীবনের ছবি ও বাঙালির স্বাভাবিক জীবনযাপনের ছবিগুলো ভেসে ওঠে জলের গানের পরিবেশনায়।

জনপ্রিয় এই গানের দলটি এ সময় পরিবেশন করে ‘শুঁয়া যাও যাও গো যাওরে তেপান্তর’, ‘বকুল ফুল বকুল ফুল সোনা দিয়া হাত কেন বান্ধাইলি, ‘এই পাগলের ভালোবাসাটুকু নিও’, ‘আমি একটা পাতার ছবি আঁকি’। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত গান ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা’ গানটি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মঞ্চ ত্যাগ করে জলের গান। এরপর মঞ্চে আসেন আয়ারল্যান্ডের শিল্পী নিয়াভ নি কারার। মঞ্চে এসেই তিনি আগত অতিথিদের উদ্দেশে বলেন, সাত হাজার মাইল দূর থেকে আমরা গান শোনাতে এসেছি। বেহালা, একুষ্টিক গিটার ও ড্রামসের সুরে তারা আইরিশ লোকজ সঙ্গীতের একটি ইন্সট্রুমেন্টাল দিয়ে শুরু করেন। ইংরেজি গানের পাশাপাশি আইরিশ ভাষায়ও গান পরিবেশন করেন তারা। কণ্ঠের যাদুর পাশাপাশি এ সময় নৃত্যের তালে তালে দর্শক শ্রোতাদের দোলাতে থাকেন আয়ারল্যান্ডের শিল্পীরা। গানের পর বেহলার সুরের আলোর ঝলকানি দিয়ে মঞ্চ থেকে নামেন বিদেশি এই শিল্পী। এরপর মঞ্চে আসেন দক্ষিণ ভারতের শিল্পী ইন্ডিয়ান ওশিন। দক্ষিণ ভারতের একটি লোকসঙ্গীত দিয়ে শুরু করে এদেশের সঙ্গীতপ্রিয়দের মানসে দোলা দিয়ে যান। এরপর তিনি পরিবেশন করেন ‘আরে রুক জানে বন্ধ,’ নামের হিন্দি গান। শিল্পীর কণ্ঠের জাদুতে এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে নাচের ধুম পড়ে যায়। এরপর মঞ্চে আসেন দি ম্যাঙ্গানিয়াস ফ্রম হামিরা,পার্বতী বাউল ও পাকিস্তানের আবিদা পারভীন।

শেষ রাতের আসরে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার অঞ্জন চৌধুরী।

সমাপনী রাতের সবচেয়ে কাক্সিক্ষত শিল্পী ছিলেন পাকিস্তানের বিখ্যাত শিল্পী আবিদা পারভীন। এই শিল্পীর গানের সুরে ঝাঁপ দেয়ার প্রত্যয়ে সন্ধ্যা থেকেই সুরপিয়াসীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। মঞ্চ থেকে বিভিন্ন শিল্পীর সুরের নির্যাসে বিমোহিত হলেও শ্রোতাদের মাঝে যেন আরেকটু পাওয়ার প্রত্যাশা। আসরের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী আবিদা পারভীনের সুরে স্নাত হওয়ার জন্য চাতক পাখির জন্য সুরানুরাগীদের অপেক্ষার পাল যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছিল না।

আসরের প্রথম রাতে বৃহস্পতিবার সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের ফরিদা পারভীন, চন্দনা মজুমদার, কিরণ চন্দ্র রায়, লাবিক কামাল গৌরব, শফি মণ্ডল, ভারতের পাপন এন্ড ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, অর্ক মুখার্র্জী কালেক্টিভ ও পাকিস্তানের সাঁই জহুর।

দ্বিতীয় রাতের আসর শুক্রবারে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের বাউল ভজন ক্ষ্যাপা, বারী সিদ্দিকী, আয়েশা জেবীন দিপা, বিউটি খাতুন, দিতি সরকার, মরিয়ম আখতার কণা,মাসুমা সুলতানা সাথী, আব্দুল আলীমের তিন সন্তান আজগর আলীম,জহির আলীম, নূরজাহান আলীম, মমতাজ, অর্ণব এন্ড ফ্রেন্ডস, ভারতের পবন দাস বাউল, ও ইউনান আর্ট ট্রুপ।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj