ভেতরের পশুত্বকে নির্মূলই কুরবানির অন্তর্নিহিত শিক্ষা

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫

বছর ঘুরে ফিরে এল পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগ ও পশুত্ব শক্তিকে অবদমনের ঐশী আবাহনে বারবার ফিরে আসে ঈদুল আজহা। দেশ ও বৈশ্বিক বৈরউ পরিস্থিতিতে মুসলমানদের কঠিন দুঃসময়ে এবার মুসলিম বিশ্ব ঈদুল আজহা পালন করতে যাচ্ছে। ইরাক-লিবিয়া-সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি ও কোটি মানুষের শরণার্থউ জীবনযাপন ও দুর্ভোগময় পরিস্থিতিতে ঈদুল আজহা ফিরে আসায় নিরানন্দ পরিবেশে এবার মুসলিম বিশ্ব পালন করতে যাচ্ছে ঈদুল আজহা। মুসলমানরা হাজারো দুঃখ কষ্টে নিপতিত থাকলেও ঈদুল আজহার এ উৎসবে প্রতীকী পশু কুরবানির মাধ্যমে আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভের চেষ্টায় তারা নিবেদিত থাকতে সচেষ্ট হবেন এটা আশা করা যায়। প্রতীকী পশু কুরবানি দিয়ে মানুষের ভেতরের পাশবিক উপসর্গ নির্মূলের ঐশী আবাহনে ফিরে এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে বিলীন করে দেয়া এবং আত্মত্যাগে সমর্পিত হওয়ার দিনটি মুসলমানদের আজ দোরগোড়ায়। নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু আল্লাহর নির্দেশে কুরবানি তথা বিসর্জন দেয়াই ঈদুল আজহার দর্শন ও মর্মবাণী। মুসলমানদের ইমানি চেতনার জাগৃতির স্মারক পবিত্র ঈদুল আজহা। কুরবানির ত্যাগের উৎসবে শামিল হয়ে ও পশু কুরবানির নজরানা পেশ করে সামর্থ্যবান দীনদার মুসলমানরা মূলত নিজেদের ভেতরের পাশবিক প্রবৃত্তিরই নির্মূল করে থাকেন। কুরবানির ত্যাগ ও পরীক্ষার মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্যধন্য বান্দাহর কাতারে উপনীত হন। এভাবে ঘুচে যায় স্রষ্টার সঙ্গে বান্দাহর দূরত্ব। আল্লাহ পাকের সঙ্গে নিবিষ্ট বান্দাহর মেলবন্ধন গড়ে ওঠে পবিত্র কুরবানির মধ্য দিয়ে। মুসলমানদের অন্যতম বড় উৎসব ঈদুল আজহা ও কুরবানি। হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা ঈদুল আজহার কুরবানি পর্ব এবং অপরিহার্য এ ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রবর্তক হলেন মুসলিম মিল্লাতের আদি পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)।

মহান প্রভু আল্লাহর প্রেমে আত্মোৎসর্গিত এ মহান নবী নিজ প্রাণাধিক পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় নিবেদনের যে দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন তা এককথায় বিস্ময়কর। হজরত ইব্রাহিম (আ.) কর্তৃক পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্যার্জনে কুরবানি দেয়ার মর্মস্পর্শী ঘটনা ও স্মৃতিকে জীবন্ত করে রাখার জন্যই কুরবানির এ বিধান। যা বাহ্যিকভাবে প্রতীকী পশু কুরবানির মাধ্যমেই মুসলমানরা সাড়ম্বরে পালন করে আসছে। ঈদুল আজহার এই কুরবানির দিনে হালাল জন্তুর গলায় ছুরি চালিয়ে বস্তুত একজন মুসলমান তার অভ্যন্তরীণ কুপ্রবৃত্তির গলায়ই ছুরি চালিয়ে থাকে। অহমিকা, আত্মম্ভরিতা ও অহঙ্কারের খোরাক খেয়ে বান্দার ভেতর যে পশুত্ব দিনে দিনে হৃষ্টপুষ্ট হয়ে ওঠে, কুরবানির ছুরি দিয়ে বস্তুত সেই পশুত্বই নির্মূল করা হয়। নিজের জীবন থেকে পাশবিক উপসর্গগুলো দূরীভূত করতেই কুরবানি ও ঈদুল আজহা এক মোক্ষম অবলম্বন নিঃসন্দেহে।

আরবি ‘ঈদ’ শব্দের অর্থ হলো আনন্দ। ‘আজহা’ শব্দের অর্থ ত্যাগ। কিন্তু ঈদুল আজহা নিছক কোনো আনন্দোৎসব নয়; ত্যাগ ও মিলনের উৎসব ঈদুল আজহা প্রতি বছর নিয়ে আসে এক বৈচিত্র্যময়, স্বাতন্ত্র্যধর্মী উৎসবের আমেজ। ঈদুল আজহা হজরত ইব্রাহিম (আ.), হজরত মা হাজেরা (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরম ত্যাগের স্মৃতিই বহন করে। হজরত ইব্রাহিমকে (আ.) পবিত্র কুরআনে মুসলিম জাতির পিতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নবী পরিবারটি বিশ্ব মুসলিমের জন্য ত্যাগের উজ্জ্বলতর আদর্শ। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান ত্যাগের ফলই হচ্ছে ঈদুল আজহা। আর এর প্রধান উপলক্ষই হলো কুরবানি।

কুরবানির তাৎপর্য : ‘কুরবানি’ আরবি কুরবুন শব্দ থেকে উৎপন্ন। এর অর্থ হলো নিকটবর্তী হওয়া, নৈকট্য লাভ করা। মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শরিয়তের নির্ধারিত সময় জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে শরিয়ত সম্মতভাবে চতুষ্পদ পশু দ্বারা কুরবানি করতে হয়। কুরবানি শুধুমাত্র মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের উদ্দেশ্যেই করতে হবে; এতে কোনো রকম সামাজিকতা, লোক দেখানো বা বিত্ত বৈভবের প্রতিযোগিতা দেখানো হলে আল্লাহর দরবারে তা গ্রহণীয় হবে না। মনে রাখতে হবে কুরবানি আল্লাহর হুকুম, দীনের মান্যতা ও কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশিত ইবাদত। এটি কোনো রসম বা প্রথা নয়। তাই কুরবানির নামে উচ্চ দামের পশু কিনে বাহ্যিক আড়ম্বরতা প্রদর্শন বা বাহবা কুড়ানোর প্রবণতা দূষণীয় এবং তা অবশ্যই বর্জিত।

পৃথিবীতে মানবজাতির আগমনের শুরুতে প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী হজরত আদম (আ.)-এর পুত্রদ্বয়ের কুরবানিই প্রথম কুরবানি। হাবিল ও কাবিলের কুরবানির মধ্যে হাবিলের কুরবানিই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এবং কাবিলের কুরবানি হয় অগ্রহণযোগ্য। যখন হাবিল ও কাবিলের মধ্যে বিয়ে করা নিয়ে দ্ব›দ্ব দেখা দেয় তখন তাদের পিতা হজরত আদম (আ.) তাদের ইখলাসের দ্বারা দুম্বা কুরবানি করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন যে, যার কুরবানি আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে এবং আলামত হিসেবে আসমান থেকে আগুন এসে কুরবানিকৃত পশুকে জ্বালিয়ে দেবে তার বিয়ে হবে। হাবিল হৃষ্ট-পুষ্ট, সুন্দর দুম্বা কুরবানি দিল। কাবিল দিল একটি দুর্বল দুম্বা। আল্লাহ হাবিলের কুরবানি কবুল করলেন। এতে কাবিল ক্রুব্ধ হয়ে হাবিলকে হত্যা করল। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের সুরা মায়েদার ২৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রাসুলুল্লাহ (দ.)কে বলেছেন, ‘আদমের দুই পুত্রের বৃত্তান্ত তুমি তাদের শোনাও। যখন তারা উভয়ে কুরবানি করেছিল তখন একজনের কুরবানি কবুল হলো এবং অন্যজনের কুরবানি কবুল হলো না।’ সে বলল, ‘আমি তোমাকে হত্যা করবই।’ অপরজন বলল ‘অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকিদের কুরবানি কবুল করেন।’ এই আয়াতে দেখা যাচ্ছে কুরবানি আল্লাহর নামে, তার উদ্দেশ্যেই করতে হয়। কুরবানি গ্রহণ করা না করা, কবুল হওয়া না হওয়া আল্লাহর মর্জি, দয়া তার ইচ্ছাধীন। ইখলাস ও তাকওয়া কুরবানির ক্ষেত্রে সবচয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়তের যথার্থতা এ ক্ষেত্রে খুবই জরুরি। আর আল্লাহ কবুল করেন কেবল মুত্তাকিদের কুরবানি। কাজেই হজরত আদম (আ.)-এর নির্দেশে তার দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের প্রদত্ত কুরবানি থেকেই একদিকে যেমন কুরবানির অর্থ ও তাৎপর্য স্পষ্ট হয়, তেমনি অন্যদিকে এও বোঝা যায় যে, মানব সমাজে অহরহ প্রদত্ত কুরবানির সবটাই গ্রহণীয় নয় আল্লাহর কাছে। নিয়ত, ইখলাস, অন্তরের খুলুসিয়াত নিষ্ঠা ও তাকওয়াই এ ক্ষেত্রে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জন ও তার দয়া প্রাপ্তির পথ দেখাতে পারে। হজরত আদম (আ.)-এর সময় থেকেই কুরবানির যে ব্যবস্থা শুরু হলো পরবর্তী সময়ে রাসুলগণও আল্লাহর নামে কেবল তারই সন্তুষ্টির জন্য কুরবানির পথ দেখিয়ে গেছেন। এ কুরবানি কেবল পশু বিসর্জন নয়, নিজের ভেতরের পশুত্ব, নিজের ক্ষুদ্রতা, নীচতা, স্বার্থপরতা, হীনতা, দীনতা, আমিত্ব ও অহঙ্কার ত্যাগের কুরবানিই বড় কথা। এবং এটাই শিক্ষা সব নবী রাসুলের। কুরবানির শিক্ষা হলো দীন ইসলামের ওপর অধিষ্ঠিত থাকতে হবে আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ ও লালন করেই।

আজ মুসলিম উম্মাহর মধ্যে পশু কুরবানির যে প্রথা প্রচলিত রয়েছে এবং প্রবর্তন হয়েছে তা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কুরবানির ঐতিহ্য থেকেই। মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিমকে (আ.) একের পর এক পরীক্ষা করে সর্বশেষ নিজের বন্ধু হিসেবে ঘোষণা দেন। পবিত্র কুরআনে বিষয়টি এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যখন হজরত ইব্রাহিমকে (আ.) তার প্রতিপালক বলেছিলেন, তুমি আমার প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করো। জবাবে হজরত ইব্রাহিম (আ.) বলেন, আমি আত্মসমর্পণ করলাম আল্লাহর মহান দরবারে।’ এরপর থেকে শুরু হলো আত্মসমর্পণের মহান পরীক্ষা। প্রথমে নমরুদের মাধ্যমে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপের পরীক্ষা। হজরত ইব্রাহিম (আ.) চরম ধৈর্যের সঙ্গে মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস এবং আস্থার কারণে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর নিজের স্ত্রী ও দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে মরুভূমিতে নির্বাসনের নির্দেশ দেয়া হলে তিনি সেই পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হলেন। এভাবে বড় বড় পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে। আর প্রতিটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আল্লাহর বন্ধুত্বের আসনে সমাসীন হতে সক্ষম হন। সর্বশেষ পরীক্ষা নেয়া হয় নিজের প্রাণের টুকরা আদরের সন্তানকে কুরবানির নির্দেশের মাধ্যমে।

পবিত্র হাদিসে বর্ণিত আছে, হজরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর রাস্তায় ১ হাজার বকরি, ৩০০ গাভী এবং ১০০ উট কুরবানি দিয়েছিলেন। মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার এমন নিদর্শন দেখে মানুষ তো বটে ফেরেশতারাও অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এ অবস্থায় আবেগাপ্লুত হয়ে একদিন হজরত ইব্রাহিম (আ.) বললেন, আমার প্রভুর জন্য যা কিছু কুরবানি দিলাম তা তো কিছুই নয়। বরং আমার কাছে যদি একটি সন্তান থাকতো তাকেও আমি আল্লাহর রাস্তায় কুরবানি দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতাম। তিনি বয়স পেয়েছিলেন ১৬৫ বছর। ৮৫ বছর পর্যন্ত তার কোনো সন্তান সন্তুতি জন্মলাভ করেনি। যখন তিনি পবিত্র ভূমি মক্কাতে পদার্পণ করলেন, আল্লাহর দরবারে একটি সন্তানের ফরিয়াদ করলে আল্লাহ তার ফরিয়াদ কবুল করে একটি পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দেন এবং ৮৭ বছর বয়সে শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.)-এর জন্ম হয়। যখন ইসমাইলের বয়স মাত্র ১১ বছর তখন হজরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর পক্ষ থেকে স্বপ্নযোগে প্রাণাধিক পুত্র হজরত ইসমাইলকে কুরবানি করার জন্য আদিষ্ট হলেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) কিকর ইসমাইলকে আল্লাহ পাকের আদেশ সম্পর্কে জ্ঞাত করলেন। পুত্রের সায় পেয়ে মহান আল্লাহর নির্দেশ মতে কিকর ইসমাইলকে (আ.) কুরবানির যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হলো। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার যে, মিনা প্রান্তরে শায়িত করে ধারালো ছুরি বারংবার চালানোর পরও হজরত ইসমাইলের কোমল চামড়া কাটা যাচ্ছিল না। পিতা ইব্রাহিম অস্থির মন আর হতাশ হৃদয়ে ভেঙে পড়লেন, তখনি এক পর্যায়ে অনুভব করলেন কুরবানি হয়ে গেছে। এতক্ষণ পর্যন্ত যে চক্ষুযুগল বাঁধা অবস্থায় ছুরি চালনা করছিলেন তা যখন খুললেন দেখতে পেলেন তার সামনে আস্ত একটি দুম্বা জবেহ হয়ে গেছে। যা দেখে তিনি আরো বেশি হতবাক হয়ে গেলেন। আর বললেন তাহলে অবশেষে আমার সব প্রচেষ্টা কি ব্যর্থ হলো? তার এ আকুতির পর আল্লাহর পক্ষ থেকে অদৃশ্য আওয়াজ এলো, ‘আমি আহ্বান করলাম হে ইব্রাহিম। নিশ্চয়ই তুমি তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছ, এভাবেই আমি পুণ্যবানদের পুরস্কৃত করি’ (আল কুরআন)। বস্তুত সেদিন বেহেশত থেকে দুম্বা এনে শিশু ইসমাইল (আ.)-এর স্থলাভিষিক্ত করে কুরবানি কবুল হওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনাকে অবিস্মরণীয় রাখার জন্যই আজ উম্মতে মুহাম্মদীর ওপর কুরবানি ওয়াজিব করা হয়েছে। ঈদুল আজহার এ কুরবানি প্রদান মূলত মুসলিমদের পক্ষে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ ও আত্মনিবেদনের উজ্জ্বলতর বহিঃপ্রকাশ।

ঈদুল আজহার কুরবানিতে পশু কুরবানির দ্বারা আল্লাহর হক যেমন আদায় হয় তেমনি গরিব-দুঃখী মানুষের ভাগ্যও সুপ্রসন্ন হয়। যে দরিদ্র লোক সারা বছর গোশত খেতে পারেন না এই কুরবানিতে তার স্বাচ্ছন্দ্যে রসনা তৃপ্তির সুযোগ মেলে। কুরবানির মাধ্যমে একই সঙ্গে আল্লাহ হুকুম এবং গরিবের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার যে সুন্দর সহজ বিধান মুসলিম সমাজে চর্চিত ও পালিত হয় তাতে ইসলামের সামাজিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাই ফুটে ওঠে। কুরবানিদাতাদের উচিত গরিব-দুঃখী অভাবী মানুষের মাঝে কুরবানির গোশত বণ্টন করে তাদের হাসিখুশিতে রাখা। দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে পারলে নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি আশা করা যায়। ধর্মীয় আয়োজনের মধ্যে মানুষ ও সমাজকে তুলে আনার এই যে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি তা অবশ্যই গুরুত্ববহ এবং ইসলামি বিধানের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যই উন্মোচিত করে। ইচ্ছা করলেও কুরবানির গোশত একা ভক্ষণের সুযোগ নেই। এতে নিকটাত্মীয় ও গরিব মানুষের অধিকার জুড়ে দিয়ে মানবতার পতাকাকে উড্ডীন করা হয়েছে। ঈদুল আজহার আত্মোৎসর্গ ও আত্মনিবেদনের চেতনায় আল্লাহ পাক আমাদের পরিশীলিত করুন, উজ্জীবিত করুন। ঈদুল আজহার ত্যাগের শিক্ষায় সবাই অনুপ্রাণিত হোক এবং মানবিক চেতনা জাগ্রত হোক সবার মাঝে।

অতীব উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, ঈদুল আজহার এই পবিত্র দিনকে ঘিরেও একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি কুরবানির পশু কেনাকাটা নিয়ে অনৈতিক তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ে। পশুর হাটের দখলদারিত্ব নিয়ে গত সোমবার স›দ্বীপের একটি হাটে গোলাগুলিতে ৩ জন মানুষের করুণ মৃত্যুতে আমাদের রক্তক্ষরণই হওয়ার কথা। কোরবানির পশুর হাটকে ঘিরে মলমপার্টির তৎপরতা, চাঁদাবাজি, গরুর ট্রাক থামিয়ে পুলিশের বখরা আদায়, যানজটসহ প্রতি বছর প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে কাটে ঈদুল আজহার কয়টি দিন। কুরবানির উৎসব এ কারণে অনেকের জন্য নিরানন্দ ও বিষাদময় হয়ে ওঠে। পবিত্র এ কুরবানির মৌসুমে কুরবানির গরু নিয়ে অনৈতিক ও অমানবিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিষাক্ত ওষুধ ও ক্ষতিকর ভিটামিন খাইয়ে কুরবানির গরু কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা হচ্ছে। এ জঘন্য কাজে যারা জড়িত তারা শুধু অমানবিক-অনৈতিকতার দিকে নিজেদের ঠেলে দিয়েছে তা নয়; ওরা ইসলামের বিধানও লঙ্ঘন করে যাচ্ছেন। কেননা বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ করে নিরীহ পশুকে কষ্ট দেয়া এবং কুরবানিদাতাদের ক্ষতিকর মাংস ভক্ষণে বাধ্য করা অবশ্যই জুলুম ও বড় অপরাধ। কুরবানির মৌসুমে এই অপতৎপরতা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। কুরবানির উৎসবকে ঘিরে সব ধরনের অপতৎপরতার আমরা কঠোর নিন্দা জানাই। যারা ঈদুল আজহাকে ঘিরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মানুষের ঈদ আনন্দকে মাটি করে দিচ্ছে তাদের রাশ টেনে ধরা সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেই আমরা মনে করি।

আ ব ম খোরশিদ আলম খান : সাংবাদিক, কলাম লেখক।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj