হাইপেশিয়া : প্রাচীন আলেকজেন্দ্রিয়ার মহান নারী দার্শনিক

শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০১৫

মূল : সারাহ জেইলিন্সকি

অনুবাদ : মেহেদী হাসান

৪১৫ অথবা ৪১৬ সালের একদিন, মিসরের আলেকজেন্দ্রিয়া শহরের রাস্তায় পিটার দ্য লেকটরের নেতৃত্বে খ্রিস্টান চরমপন্থীদের একটা দল একজন নারীকে বহনকারী ঘোড়ার গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং তাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে একটি গির্জায় নিয়ে তুলে, সেখানে তারা তাকে উলঙ্গ করে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তার দিকে ছাদের টালি নিক্ষেপ করতে থাকে। এরপর তারা তার লাশ ছিন্নভিন্ন করে পুড়িয়ে ফেলে। কে ছিল এই নারী এবং কি ছিল তার অপরাধ? হাইপেশিয়া ছিল প্রাচীন আলেকজান্দ্রিয়া শহরের একজন সর্বশেষ মহান চিন্তাবিদ এবং সর্বপ্রথম নারী যে গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, এবং দর্শনের ওপর অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা করত। যদিও তার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য তাকে অনেক বেশি স্মরণ করা হয়, তবে নাটকীয়তায় ভরপুর তার জীবনটি হচ্ছে এমন একটি কৌত‚হলোদ্দীপক লেন্স যার ভেতর দিয়ে আমরা ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক যুদ্ধের যুগে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার দুরবস্থার চিত্র দেখতে পাই।

খ্রিস্টপূর্ব ৩৩১ অব্দে আলেক্সেন্ডার দ্য গ্রেট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আলেকজেন্দ্রিয়া শহরটি বেশ দ্রুত প্রাচীন সমাজের সংস্কৃতি এবং শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। শহরটির প্রাণকেন্দ্রে ছিল একটি জাদুঘর, যাকে এক ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ও বলা চলে, যার সংগ্রহের পাঁচ লাখেরও অধিক প্রাচীন গ্রন্থ (ঝপৎড়ষষং) আলেকজেন্দ্রিয়া লাইব্রেরিতে সাজানো ছিল।

আলেকজেন্দ্রিয়া, খ্রিস্টপূর্ব ’৪৮ সালের শুরু থেকে ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে আরম্ভ করে, যখন জুলিয়াস সিজার রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে শহরটিকে দখল করে নেয় এবং আকস্মিকভাবে লাইব্রেরিটিকে পুড়িয়ে ফেলে। (তখন এটাকে আবার পুনর্গঠন করা হয়।) ৩৬৪ সালের মধ্যে, যখন রোমান সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে এবং আলেকজেন্দ্রিয়া প্রাশ্চাত্যের অর্ধেক অংশে পরিণত হয়, তখন শহরটি খ্রিস্টান, ইহুদি এবং প্যাগানদের মধ্যকার সংঘর্ষের কেন্দ্রভূমি হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ের গৃহযুদ্ধগুলো লাইব্রেরিটির অধিকাংশ সংগ্রহ ধ্বংস করে ফেলে। ৩৯১ সালে, আর্চবিশপ থিওফিলিস সব প্যাগান গির্জাকে ধ্বংস করে ফেলার রোমান সম্রাটের আদেশকে কার্যে পরিণত করলে, জাদুঘরটির সাথে সাথে লাইব্রেরির অবশিষ্টাংশও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। বেশ কিছু প্রাচীন গ্রন্থ (ঝপৎড়ষষ) অবশিষ্ট থাকা সেরাপিস (ঝবৎধঢ়রং)-এর গির্জাকে থিওফিলিস সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে ফেলে এবং সেই জায়গার ওপর গড়ে তোলে অন্য একটি খ্রিস্টীয় গির্জা।

জানা গেছে, এই জাদুঘরের সর্বশেষ সদস্য ছিল গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ থিওন-হাইপেশিয়ার বাবা।

সৌভাগ্যবশত, থিওনের কিছু লেখা টিকে যায়। বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ইউক্লিডের এলিমেন্টস (ঊঁপষরফ’ং ঊষবসবহঃং)-এর ওপর তার ভাষ্যটি (ঈড়সসবহঃধৎু) (টীকাভাষ্য সংবলিত চিরায়ত গ্রন্থের প্রতিলিপি) ছিল জ্যামিতির ওপর ঐ মূল কাজটির একমাত্র পরিচিত ভার্সন। তবে তার এবং হাইপেশিয়ার পারিবারিক জীবন সম্বন্ধে খুব কমই জানা গেছে। এমনকি হাইপেশিয়ার জন্ম তারিখ নিয়ে এখনো বিতর্ক চলছে- পণ্ডিতরা অনেক দিন ধরে দাবি করে আসছে, সে জন্মগ্রহণ করেছে ৩৭০ সালে, তবে আধুনিক কালের ইতিহাসবিদদের ধারণা তার জন্ম সাল ৩৫০ হওয়ার সম্ভাবনা অধিক। তার মায়ের পরিচয় এখনো পুরোপুরি রহস্যাবৃত এবং হাইপেশিয়ার সম্ভবত একজন ভাই ছিল, এপিফানিয়াস, যদিও সে ছিল থিওনের একমাত্র প্রিয় শিক্ষানবিস।

থিওন তার কন্যাকে গণিত এবং জ্যোতির্বিদ্যা শিক্ষা দেয় এবং সে ও তার কন্যা একসাথে মিলে কিছু ভাষ্য (ঈড়সসবহঃধৎু) তৈরির কাজও করে। মনে করা হয় যে, টলেমির আলমাজেস্ট (চঃড়ষবসু’ং অষসধমবংঃ) গ্রন্থের থিওন ভার্সনের তৃতীয় অধ্যায়ের গবেষণা কার্যটি- যা পৃথিবী কেন্দ্রিক মহাবিশ্বের মডেলকে প্রতিষ্ঠিত করে এবং যেটা কোপার্নিকাস এবং গ্যালেলিও এর সময়কাল পর্যন্ত স্বীকৃত হয়ে এসেছে- প্রকৃতপক্ষে হাইপেশিয়ার কাজ ছিল।

হাইপেশিয়া নিজেই একজন গণিতবিদ এবং জ্যোতির্বিদ ছিল এবং নিজে থেকেই ভাষ্য (পড়সসবহঃধৎরবং) তৈরির কাজ করত এবং নিয়মিতভাবে নিজ বাড়িতেই নানা পাঠ্যক্রমের ছাত্রদের পাঠদান করত। সেই ছাত্রদের মধ্যকার একজন, সাইনেসিয়াসের একটি চিঠি ইঙ্গিত করে যে, পাঠগুলোর মধ্যে ছিল কিভাবে একটি অ্যাস্ট্রোল্যাবের (এক ধরনের বহনোপযোগী জ্যোতির্বিদ্যক ক্যালকুলেটর যা বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়ে আসছে।) নকশা করতে হয়।

তার বাবার বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতার পরিমণ্ডল বাদেও, হাইপেশিয়া এমন একটা চিন্তার দার্শনিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে যা এখন নিওপ্ল্যাটোনিক স্কুল (ঘবড়ঢ়ষধঃড়হরপ ংপযড়ড়ষ) হিসেবে পরিচিত, চিন্তাটি হল- যাবতীয় কিছু শুধুমাত্র একটি জায়গা থেকে প্রবাহিত হয়। (পরবর্তীতে, তার ছাত্র সাইনেসিয়াস খ্রিস্টীয় গির্জার বিশপ পদে অধিষ্ঠিত হয় এবং নিওপ্ল্যাটোনিক চিন্তাকে ট্রিনিটি (ঞৎরহরঃু) মতবাদে রূপান্তরিত করে। জনসম্মুখে দেয়া হাইপেশিয়ার ভাষণগুলো ছিল বহুল জনপ্রিয় এবং তা অনেক মানুষের সমাগম ঘটাত। দার্শনিক ডামাস্কিয়াস হাইপেশিয়ার মৃত্যুর পরে লেখেন, ‘হাইপেশিয়া পণ্ডিতের আলখাল্লা গায়ে চাপিয়ে শহরের ভেতর দিয়ে ঘুরে বেড়াত এবং যারা প্লেটো, এরিস্টটলের ব্যাপারে শুনতে চায় তাদের ব্যাপারগুলো বুঝিয়ে বলত।’

সম্ভবত প্লেটোর পরিবার ব্যবস্থা বিলোপের ধারণাকে লালন করার ফলে, হাইপেশিয়া কখনো বিয়ে করেনি এবং কুমারী জীবনযাপনেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত। দ্য সুডা লেক্সিকন, দশম শতাব্দীয় ভূমধ্যসাগরীয় সভ্যতার ওপর এনসাইক্লোপেডিয়া, তাকে বর্ণনা করে, ‘দৈহিক অবয়বে অসাধারণ সুন্দর ও সুঠাম স্বাস্থ্যের অধিকারী এবং তার বক্তব্য বাগ্মীতায় পূর্ণ ও যৌক্তিক, তার কার্যক্রম দূরদর্শিতার পরিচায়ক ও জনসাধারণের মঙ্গলসাধনকারী এবং শহরের সকলে তাকে উষ্ণ অভিবাদন জানাত ও বিশেষ শ্রদ্ধায় ভূষিত করত।’

তার অনুরাগীদের মধ্যে আলেকজান্দ্রিয়ার গভর্নর অরেস্টেসও একজন ছিল। গভর্নরের সাথে সম্পৃক্ততাই পরিণামে তার ভয়াবহ মৃত্যু ডেকে আনে।

আলেকজান্দ্রিয়ার বিশাল লাইব্রেরিটির ধ্বংসকারী আর্চবিশপ থিওফিলিসের মৃত্যু পরবর্তীতে তার স্থলাভিষিক্ত হয় ভাতুষ্পুত্র ক্রিল, যে তার চাচার অন্যান্য বিশ্বাসের বিরুদ্ধে শত্রুতাকে চালিয়ে নিয়ে যায়। (তার অন্যতম প্রথম কার্যক্রম ছিল নোভাটিয়ান খ্রিস্টান সম্প্রদায় (ঃযব ঘড়াধঃরধহ ঈযৎরংঃরধহ ংবপঃ)-এর গির্জাগুলোকে বন্ধ করে দেয়া এবং লুণ্ঠন করা।)

আলেকজেন্দ্রিয়া শহরের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে, শহরের মূল ধর্মীয় অংশের নেতৃত্বে থাকা ক্রিল এবং জনসরকারে (পরারষ মড়াবৎহসবহঃ) দায়িত্বপ্রাপ্ত গভর্নর অরেস্টেসের মধ্যে লড়াই শুরু হয়। যদিও অরেস্টেস ছিল একজন খ্রিস্টান, তবে সে গির্জার কাছে ক্ষমতা অর্পণের পক্ষপাতী ছিল না। ইহুদি চরমপন্থী কর্তৃক একদল খ্রিস্টানকে হত্যা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রিলের নেতৃত্বে উন্মত্ত জনতার একটি দল সব ইহুদিকে শহর থেকে বের করে দেয় এবং তাদের বসতবাটি এবং গির্জা লুণ্ঠন করে- এর ফলে ক্ষমতার লড়াই সর্বোচ্চ আকার ধারণ করে। অরেস্টেস কনস্টান্টিনোপলে রোমান সরকারের কাছে এর প্রতিবাদ জানায়। অরেস্টেস, ক্রিলের আপস-মীমাংসার প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করলে ক্রিলের অনুসারীরা তাকে হত্যার একটি ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।

যাহোক, হাইপেশিয়া আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেশ সহজ ছিল। সে ছিল একজন প্যাগান যে অখ্রিস্টীয় দর্শন, নিওপ্লাটোনিজম সমন্ধে জনসম্মুখে কথা বলত এবং সে অরেস্টেসের মতো সৈন্যবাহিনী দ্বারা সুরক্ষিত অবস্থায় থাকত না। এমন একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, অরেস্টেস এবং ক্রিলের মধ্যকার মতদ্বৈধতাকে কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে হাইপেশিয়া বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপর থেকেই পিটার দ্য লেকটরের নেতৃত্বে একদল চরমপন্থী তাদের কাজে নেমে পড়ে এবং হাইপেশিয়াকে বরণ করতে হয় ভয়াবহ পরিণতি।

ইতোমধ্যে, হাইপেশিয়া নারীবাদীদের পথিকৃৎ, প্যাগান এবং নাস্তিকদের কাছে একজন শহীদ এবং গল্প-উপন্যাসে একটি চরিত্র হয়ে উঠেছে। গির্জা এবং ধর্মকে দোষারোপ করতে গিয়ে ভলতেয়ার হাইপেশিয়ার নামোল্লেখ করত। ইংরেজ যাজক চার্লস কিংসলে তাকে মধ্য ভিক্টোরিয়ান রোমান্সের (সরফ-ঠরপঃড়ৎরধহ ৎড়সধহপব) মূল বিষয়বস্তুতে পরিণত করে তোলে। সে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে স্থান লাভ করেছে রাচেল অয়েইসজ পরিচালিত স্প্যানিশ চলচ্চিত্র আগোরা (অমড়ৎধ)তে যা ২০০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রদর্শনের জন্য মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটিতে হাইপেশিয়ার একটি কাল্পনিক কাহিনী (ঃযব ভরপঃরড়হধষ ংঃড়ৎু ড়ভ ঐুঢ়ধঃরধ) উপস্থাপন করা হয়, যেখানে দেখানো হয় যে, খ্রিস্টান মৌলবাদীদের হাত থেকে সে লাইব্রেরিটিকে রক্ষা করার চেষ্টা চালায়।

হাইপেশিয়ার মৃত্যুর সাথে সাথে আলেকজেন্দ্রিয়াতে প্যাগানবাদ ও জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার কোনোটিরই সমাপ্তি ঘটেনি, তবে তা ছিল নিশ্চিতভাবেই বিশাল একটা আঘাত। ‘প্রায় একাকী, কার্যত সেই যুগের সর্বশেষ পণ্ডিত ব্যক্তি, হাইপেশিয়া তার জীবন বাজি রেখেছিল মননশীলতা, কঠোর গণিত, আত্মনিরোধী নিওপ্লাটোনিজমের চর্চা এবং সমাজে মানব চিন্তার ভূমিকা, নাগরিক জীবনে সহনশীলতা এবং সভ্যতার বাণীকে রক্ষা করার জন্য,’ ডিকেইন লেখে। সে সম্ভবত ধর্মীয় উচ্চতার শিকার হয়েছিল, তবে এমনকি আধুনিক যুগেও হাইপেশিয়া অনুপ্রেরণার একটি উৎস হিসেবে টিকে আছে।

স্ক্রল (ঝপৎড়ষষ)১- লেখার জন্য কাগজ বা চামড়ার ফালি; ঐরূপ কাগজে লেখা প্রাচীন গ্রন্থ।

সেরাপিস (ঝবৎধঢ়রং)২- সেরাপিস হচ্ছে মিসরীয় গ্রিকদের ঈশ্বর। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় অব্দে মিশরের টলেমি (প্রথম)-এর নির্দেশে মিসরীয় এবং গ্রিকদের ঐক্যবদ্ধ করার উদ্দেশে সেরাপিসকে কল্পনা করা হয়।

ইউক্লিডের এলিমেন্টস (ঊঁপষরফ’ং ঊষবসবহঃং)৩- খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দে আলেকজেন্দ্রিয়ার গ্রিক গণিতবিদ ইউক্লিড কর্তৃক লিখিত তেরটি অধ্যায় সংবলিত গাণিতিক এবং জ্যামিতিক গবেষণামূলক গ্রন্থ।

টলেমির আলমাজেস্ট (চঃড়ষবসু’ং অষসধমবংঃ)৪- দ্বিতীয় শতাব্দীতে রোমান যুগের মিসরীয় পণ্ডিত ক্লডিয়াস টলেমি কর্তৃক নক্ষত্র এবং গ্রহের সুস্পষ্ট গতিপথের ওপর লিখিত গাণিতিক এবং জ্যোতির্বিদ্যক গবেষণা গ্রন্থ।

ট্রিনিটি (ঞৎরহরঃু)৫- এই মতবাদ, ঈশ্বরকে একই উপাদানে গঠিত তিনটি ব্যক্তি, অভিব্যক্তি বা ধারণার সমাহার হিসেবে দেখায়। পিতা, পুত্র (যিশুখ্রিস্ট) এবং পবিত্র আত্মা। তিন ব্যক্তির মিলিত রূপ একজন ঈশ্বর।

নোভাটিয়ান খ্রিস্টান স¤প্রদায় (ঃযব ঘড়াধঃরধহ ঈযৎরংঃরধহ ংবপঃ)৬- ধর্মতাত্তি¡ক এবং লেখক এন্টিপোপে নোভাটিয়ান এর অনুসারী প্রথম দিককার খ্রিস্টান সম্প্রদায়।

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj