মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতাবিরোধীদের ষড়যন্ত্র

মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪

একমাত্র রাজাকার, আলবদর, আলশামস আর্থাৎ স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীরা ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন না, এমন কোনো দল বা গোষ্ঠী বাংলাদেশে আছে বলে মনে হয় না। তবে এই চেতনার ধারণা একেকজন একেকভাবে বহন করেন। যে চেতনার কারণে বাঙালিকে মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করতে হয়েছে। তা ত্রিশ লাখ বাঙালির রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সংবিধানে স্থান করে নিয়েছে। আসলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনায়ই মুক্তিযুদ্ধের মূল উৎস। পাকিস্তানে বসবাস করেও বাঙালি কখনো পাকিস্তানি হতে পারেনি। ভাষা সাহিত্য-সংস্কৃতিভিত্তিক সক্রিয়তায় তারা তাদের বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেছে। আর এই স্বকীয়তা স্বাধীন সত্তা রক্ষার সংগ্রামই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বিভিন্ন প্রকার অনুভূতিও তার বহিঃপ্রকাশ। আমরা যারপরনায় লক্ষ্য করে থাকি, এ দেশের প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবীরা- যাদের অনেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে শুধু গণতন্ত্রকে বুঝান। এমন এক গণতন্ত্র যা খুব বেশি হলে শতকরা ২৫ জন লোকের কথা বলে তাদের অধিকার সংবলিত এই গণতন্ত্র সাধারণ মানুষের স্বার্থকে কখনো স্পর্শ করে না। ওই গণতন্ত্রে বঙ্গবন্ধুর ভাষায় দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর কথা নেই। নেই শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির কথা। অথচ বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চের ঘোষণায় প্রথম মুক্তি, তারপর স্বাধীনতার কথা বলেছিলেন। আর এই মুক্তি কাদের জন্য? তা তিনি স্পষ্ট ভাষায় বিদেশের মাটিতে ঘোষণা করেছিলেন (বিশ্ব আজ দুভাগে বিভক্ত, শোষক ও শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে)। এই শোষিতের গণতন্ত্রের কথা তিনি কখনো ভুলতে পারেননি। ভুলতে পারেননি বলেই একটা পর্যায়ে তিনি দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ রেখেছিলেন। তার দৃষ্টি ছিল বঞ্চিত কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণীর প্রতি। তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই তিনি আওয়ামী লীগের স্থলে কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন করেন। শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রæতি ব্যক্ত করেই তিনি ক্ষান্ত ছিলেন না। দ্বিতীয় বিপ্লবের অর্থসামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করে তিনি সত্যিকার অর্থে কৃষক ও শ্রমিকদের প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।

প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ ও গণতন্ত্রায়ন, বাধ্যতামূলক বহুমুখী গ্রাম্য সমবায়, বিচার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে তিনি সত্যিকার অর্থে উৎপাদন ও উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলেন। বাকশালের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার পূর্বেই তাকে সপরিবারে হত্যা করা হলো। তাই ওই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। অথচ এখন বলা হয় বাকশালই আজকের অর্থসামাজিক বিপর্যয়ের মূল কারণ। শোষিত বঞ্চিত মানুষের কারণে জীবন দিয়েও বঙ্গবন্ধু প্রমাণ করতে পারেননি তিনি সত্যিকার অর্থে কাদের জন্য জীবন দিলেন। সুদীর্ঘ দিনের অপপ্রচার বিশেষ করে স্বাধীনতা বিরোধীরা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার এবং তার ওপর ভর করে যখন এ দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা বঙ্গবন্ধুর মূল্যায়ন করেন তখন সত্যিই অবাক হতে হয়। এমনকি এক সময়ে তার দলের সিনিয়র নেতারা ও তার সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা বাকশাল গঠন করার কারণে বঙ্গবন্ধুকে অভিযুক্ত করতে ছাড়েননি। তাদের ভাষায় বঙ্গবন্ধুর সব ভালো ছিল কিন্তু বাকশালই তার পতন ডেকে এনেছে। মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক জাতির জনক হিসেবে যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তাই তাকে চির অমর করে রাখা উচিত। অথচ তার দলের লোকেরাই এ ব্যাপারে বিভ্রান্ত বলে মনে হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে যা বুঝায় তার সার সংক্ষেপ মেলে আমাদের মহান জাতীয় সংবিধানের চারটি আনুচ্ছেদে। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ। আসলে এই ৪টি মৌলিক উপদানের কোনোটাই বঙ্গবন্ধুর নিজস্ব সৃষ্টি নয়। গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র পূর্ব থেকেই বিশ্বব্যবস্থায় বিদ্যমান ছিল, ধর্মনিরপেক্ষতা একটা প্রগতিশীল দর্শন। সভ্য সমাজের জন্য শান্তি ও স্থীতিশীলতা বজায় রাখার জন্য একান্ত প্রয়োজন আর বাঙালি জাতীয়তাবাদ তা প্রায় পরোক্ষভাবে তিন হাজার বছর আর প্রত্যক্ষভাবে এক হাজার বছরের সৃষ্টি। তাই এই ৪ উপাদানের কোনোটাই বঙ্গবন্ধুর নিজস্ব সৃষ্টি নয়। তাহলে বঙ্গবন্ধুর কৃতিত্ব কোথায়? বঙ্গবন্ধুর কৃতিত্ব এখানে, স্বৈরাচারকবলিত পাকিস্তানে বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তানে গণতন্ত্র সব সময় নির্বাসিত ছিল। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে বাংলার মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশ স্বাধীন করার কারণে সম্ভব হয়েছিল এবং ওই কাজটি তিনিই করেছিলেন। সমাজতন্ত্রের কথা যদি ধরা হয় তবে পঞ্চাশ, ষাট ও সত্তরের দশকে পুঁজিবাদের বিপরীতে বিপ্লবের মাধ্যমে যে দুটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল মাও সেতুং এর মহাচীন ও লেলিনের সোভিয়েত ইউনিয়ন। এই দুটি রাষ্ট্রের গতি ও প্রকৃতি ছিল ভিন্ন। বঙ্গবন্ধু কিন্তু গণতন্ত্র বিবর্জিত সমাজতন্ত্র চাননি। তিনি চেয়েছিলেন সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের সমন্বয় ঘটিয়ে বাংলাদেশে একটা নতুন শোষণমুক্ত সমাজ গঠন করতে। তাই সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কোনো দেশের অবিকল অনুকরণ নয়; বরং দেশীয় পদ্ধতিতেই শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণই ছিল তার লক্ষ্য। বঙ্গবন্ধু পরিকল্পিত সমাজবাদকে গণতান্ত্রিক সমাজ বলে অনুসরণ করা যায় এবং তা ছিল সোভিয়েত ও চীন থেকে পৃথক। ঐতিহাসিক প্রয়োজনেই তিনি ধর্মনিরপেক্ষাতার দর্শনকে সংবিধানে স্থান করে দিয়েছিলেন। এই উপমহাদেশে বহুদিন ধরে যে সম্প্রদায়গত বিভেদের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছিল তা থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্যই তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার দর্শন গ্রহণ করেছিলেন। ধর্মনিরপেক্ষ দর্শন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল প্রেরণা। বাংলার জনগোষ্ঠী হিন্দু-মুসলামানকে মাত্র ধর্মনিরপেক্ষতার কারণেই একমাত্র শান্তির পরিবেশ ও সহাবস্থানের সৃষ্টি করতে পারতো। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি তাই করেতে চেয়েছিলেন। শোষণমুক্ত সমাজ তিনি গঠন করতে চেয়েছিলেন কিন্তু গণতন্ত্রের বিনিময়ে নয়। গণতন্ত্র সমাজতন্ত্রের সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি এক নতুন বাঙালি সমাজ গঠন করতে চেয়েছিলেন। তিনি জীবিত থেকে তার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারলে হয়ত বিশ্বে ওটা এক নতুন দর্শনে রূপান্তর হতে পারত। কিন্তু ওই রূপটা হয়নি বলেই বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায় না। যারা বঙ্গবন্ধুকে গণতন্ত্রের হত্যাকারী বলে বেড়ান, গণতন্ত্রের ধ্বংস করাই যদি তার লক্ষ্য হতো তাহলে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি কেন ১৯৭২-এর সংবিধান ও ১৯৭৩-এর নির্বাচন দিতে গেলেন? তার শাসনামলের প্রথম ৩ বছর এ দেশে তো সংসদীয় গণতন্ত্র বিদ্যমান ছিল। সে গণতন্ত্র বিপর্যস্ত হলো কাদের কারণে। এক দল আছেন যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে শুধু সমাজবাদ-সমাজতন্ত্রকে বুঝান। আবশ্য তারা এখন অনেকটাই মৌন। কেননা বিশ্বে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে ওঠার সম্ভবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না। এরা গণতন্ত্রের কঠোর সমালোচক। বুর্জোয়া গণতন্ত্রের খারাপ দিকটাই এদের চোখে পড়ে। গণতন্ত্র¿ ও প্রগতিশীলতার ভেতর তারা এমন বিভেদ সৃষ্টি করেছেন যে গণতন্ত্র প্রায় পরিত্যায্য হয়েছে। এরা সমাজের কোনো পরিবর্তনকেই প্রগতির পথে অগ্রসরমান বলে মনে করেন না। গণতন্ত্রের যে ক্রমাগত বিবর্তন ঘটছে তাও তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের চিন্তায় এখনো তারা বিশেষভাবে প্রভাবিত। অতীতে বিশ্বব্যাপী যা ঘটেছে এখনো তারা অনুরূপ ঘটনা ঘটাতে চান। শ্রেণী সংগ্রাম বলতে তারা যা বুঝান তা প্রায় জঙ্গিবাদের কছাকাছি বলে মনে হয়। জঙ্গিবাদ চায় সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে ধর্মরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে। আর তারা চান সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে সমাজবাদ প্রতিষ্ঠা করতে। শ্রেণী সংগ্রাম যে দুর্বল সামাজিক অবস্থানের ওপর প্রতিষ্ঠিত তা বিবেচনায় নিতে রাজি নন তারা। তাই বাংলাদেশব্যাপী বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে যে সন্ত্রাসবাদ আজো বিদ্যমান তার ব্যাখ্যা মার্কসিস্টরা একভাবে দিচ্ছেন আর মৌলবাদীরা দিচ্ছেন অন্যভাবে। জনগণ সত্যাসত্যই বিভ্রান্ত ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এখন অনেকেরই অনুভূতি শ্রেণী সংগ্রাম বা জঙ্গিবাদের সন্ত্রাস এর কোনোটাই বাঙালি সমাজকে স্থীতিশীল করতে সক্ষম হবে না। এখানেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বাস্তববাদী চিন্তাধারা যে কতো প্র্যাগমেটিভ ছিল তা এখন অনেকেই অনুভব করতে শুরু করেছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বাধীনতার শত্রু মৌলবাদী জামায়াত জঙ্গিরাই প্রথম তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার কারণে মসজিদ ও মাদ্রাসাভিত্তিক রাজনীতি শুরু করে। মাত্র কয়েক বছরের ভেতর তারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দখল করতে সক্ষম হয়। অপরদিকে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগ ও সপক্ষের শক্তি ওই সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ছিল একেবারেই উদাসীন। আর আজ ওই সব প্রতিষ্ঠান যতটা না ধর্মীয় তারচেয়ে বেশি রাজনৈতিক।

জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদ আজ এতই শক্তিশালী যে তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করছে। অপরদিকে বিভ্রান্ত নব্য তথাকথিত জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ক্ষমতার লোভে তাদের খপ্পরে পড়েছে। এদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। তাই স্বাধীনতার সপক্ষের বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তি যতই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্য সম্পর্কে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করুক না কেন, ওরা কিন্তু ধর্মরাষ্ট্র পাকিস্তানের আদলে জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ধর্মরাষ্ট্রে রূপান্তর করতে চায়। জঙ্গিবাদের মাধ্যমে তা অর্জন করতে চায়। ওদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধের কথা একবারো শোনা যায় না। ধর্মই ওদের রাষ্ট্রীয় দর্শন এবং জঙ্গিবাদী তৎপরতার মাধ্যমে ওরা ধর্মরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

মহান বিজয় দিবসে স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তিকে আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধের সঠিক মূল্যায়ন করতে হবে। আর বাঙালি জাতীয়তাবাদে সঠিকভাবে বিশ্বাসী হয়ে তা করা সম্ভব। প্রায় ৪৩ বছর পার হয়েছে। এখনো যে তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত তা-ই জনগণের কাছে সঠিকভাবে বোধগোম্য নয়। তাই আমাদের উচিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ এবং স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য হিসেবে সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ বক্তব্য উপস্থাপন করা। এখানে কোনো অস্বচ্ছতার স্থান নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে একেকজন একেক রকম উক্তি করবেন এটা একেবারেই অবাঞ্ছনীয়। এ ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলেই তো আমরা স্বাধীন হতে পেরেছি। ওই চেতনা ও মূল্যবোধের যারা বিরোধী তারাই বাংলাদেশের শত্রু। তারাই বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না। জাতিরাষ্ট্রকে ধর্মরাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে চায়। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর এই বিতর্কের অবসান হয়নি। আর কখনো হবে না। রাষ্ট্রীয় দর্শনগত এই বিরোধের কারণেই এই বাংলাদেশ সৃষ্টির দর্শন বিরোধী, রাষ্ট্রের সাথে সমঝোতা সম্ভব কি? তাই সময় এসেছে নতুন করে বাংলাদেশকে এগুবার। বাঙালি জাতীয়তাবাদী নেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার অবস্থান অদ্বিতীয়, জাতির জনকের কন্যা হিসেবে এবং বাংলাদেশ দর্শনের সত্যিকার বিশ্বাসের কারণেই তার স্থান অদ্বিতীয়। এ কারণেই ওরা শেখ হাসিনা ও তার রাজনীতিকে ধ্বংস করতে চায়। এটা মূলত একাত্তরেরই অনুরূপ।

:: ডা. এস এ মালেক

লেখক : চিকিৎসক, কলাম লেখক।

বিজয় দিবস : বিশেষ আয়োজন ২০১৪'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj