রণজয়ী সৈনিকের আত্মক্রন্দন

মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪

টুকটাক টুকটাক

হঠাৎ কিসের শব্দ!

নাহ আর পারলাম না

বিছানা ছেড়ে নেমেই পড়লাম

কেমন একটি আবছা ছায়া আমি জেগে উঠতেই উধাও।

গভীর এক বিষণœতা ভিড় করলো মনে

আর ঘুমোতে পারলাম না,

পাশে ঘুমিয়ে থাকা মানুষটি ভীষণ ক্লান্ত

অগত্যা খোকাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমানোর চেষ্টা।

নিস্তব্ধতা চারিদিক গ্রাস করছে

আবারও দেখলাম এক কালোছায়া প্রতিমূর্তি

ভয়ে ইন্দ্রিয় যেন বন্ধ হয়ে আসছে

একদিন দুদিন প্রতিদিন এমন

আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি নাতো?

বুঝতেই হবে ভেবে ঘুমের ভানে পড়ে থাকা

জাগরণে আঁধারে ভয়াল আত্মবিলাপ

আধবোজা চোখে দেখি বলিষ্ঠ একটি হাত

খোকার মাথায় পরশ বুলিয়ে যাচ্ছে অনবরত

অদম্য ভয়ে শিরা-উপশিরায় আতঙ্ক!

নিরূপণে তবু রইলাম চুপ

সাহসিকতায় অজান্তেই তার হাতটি চেপে ধরলাম।

আগন্তুক আমার মুখটি চেপে ধরে

পাঁজাকোলা করে নিয়ে গেলো নির্জন আঁধারে

টর্চ লাইটের স্বল্প আলোয় মুখোশ খুলে দেখালো অবয়ব

চিৎকার করে উঠলাম ‘তুমি’?

অঝোর প্লাবন ঝরিয়ে বলল বড্ড দেরী হয়ে গেছে নুরী

যুদ্ধান্তে জ্ঞানহারা হয়ে ঘুরেছি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে

যেদিন ফিরে এলাম দেখলাম খোকার পিতৃত্ব পূরণে

আমারি অনুজ তোমাদের পাহারা দিচ্ছে প্রতিনিয়ত

তুমি হয়েছো ধর্মীয় বিধিতে তার অনুকম্পা

খোকাকে দেখার অদম্য পিপাসায়-

ফিরে আসি বারবার অন্তরালে তোমাদের কাছে।

সান্ত¡নার নিঃশ্বাস নেই ভাষার স্লোগানে

মুক্তিকামী মানুষের সফলতা অর্জনে

বাংলাভাষার উন্নয়নের প্রগতিশীলতা দেখে

তার প্রতিটি কথায় বাকরুদ্ধ হয়ে-

লিখে গেলাম বাংলার বিজয়ের কষ্টার্জিত ইতিহাস।

:: মৌসুমী সেন

বিজয় দিবস : বিশেষ আয়োজন ২০১৪'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj