‘জনগণের ভাষা বুঝুন, রাজপথের আন্দোলন ভালো বার্তা বয়ে আনবে না’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আজ জনগণ দাবি আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে। রাজপথের আন্দোলন আপনাদের জন্য ভালো বার্তা বয়ে আনবে না।
জনগণের ভাষা বুঝুন, তাদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করবেন না।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকি মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত গণমিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে’ এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সরকারের উদ্দেশে এটিএম আজহার বলেন, আপনারা নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করবেন।
কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর এখন সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন। কোন সংবিধানের বলে আপনারা ক্ষমতায় আছেন, এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন? একটি আইন মানবেন, আর একটি আপনাদের বিরুদ্ধে গেলে মানবেন না-এটি জনগণ মেনে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শক্তিকে দেশের মানুষ ১৬ বছর আন্দোলন করে বিদায় করেছে। আপনারা যদি মনে করেন পেটুয়া বাহিনী দিয়ে আন্দোলন দমন করবেন, তবে আপনারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। মনে রাখতে হবে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাউকে আজীবন ক্ষমতায় রাখে না। আওয়ামী লীগ ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেনি; দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন সংকট নেই, অথচ মানুষ তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। সংকট না থাকলে স্কুল ও সরকারি কর্মকাণ্ড কেন কমাতে হলো? জনগণের রোষানলে পড়লে আপনারা সব বুঝতে পারবেন।
দলের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৬ বছরে আমরা ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছি, কিন্তু জামায়াত নিশ্চিহ্ন হয়নি। ২০০৮ সালে মাত্র দুটি আসন থেকে আজ আমরা শক্তিশালী অবস্থানে আছি। জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে। এই পরিবর্তনের ভাষা না বুঝলে আপনাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ হবে।
সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
গণমিছিল কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সহ-সভাপতি মেজর (অব.) ডা. আবদুল ওহাব মিনার, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ নেজামি পার্টির মুসাবিন এজাহার এবং খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী।
