×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

রাজনীতি

আমাদের অর্থনীতি এখনো নিম্নগামী: জিএম কাদের

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৪, ০৬:৫৩ পিএম

আমাদের অর্থনীতি এখনো নিম্নগামী: জিএম কাদের

ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স মুখে বললেও কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এখনো সমাজের বিভিন্ন বড় বড় আমলাসহ নানান অসাধু ব্যক্তিরা দুর্নীতি করেই যাচ্ছে। তাদের বিচার না হওয়ায় আজ দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভঙ্গুর, আমাদের অর্থনীতি প্রতিদিন এখনো নিম্নগামী বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

শনিবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারন আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী কোভিড মহামারীর প্রকোপ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি কারণে সারা বিশ্বে বড় ধরনের অর্থনেতিক মন্দার ধাক্কা লেগেছিলো। ধীরে ধীরে প্রায় দেশই এর থেকে উত্তরনে সক্ষম হয়েছে। অনেক দেশ উত্তরনের পথে অগ্রসরমান। কিন্তু বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন। আমাদের অর্থনীতি প্রতিদিন এখনো নিম্নগামী। উত্তরতো দুরের কথা অধঃপতন ঠেকানোই বড় চ্যালেঞ্জ মনে হচ্ছে। এসময় তিনি কালো টাকা সাদা করতে হলে ৫০ শতাংশ ট্রাক্স ধার্য় করার প্রস্তাব করেন।

সামষ্টিক অর্থনীতিতে যে অস্থির চিত্র তার কিছু কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ঘাটতি, টাকার বিনিময় হারের পতন, সীমিত রপ্তানির প্রবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, ক্রমবর্ধমান সুদের হার, উচ্চ নন-পারফরমিং ঋণ, সরকারের সংকুচিত আর্থিক ক্ষমতা, এডিপি ব্যায়ের হ্রাস, বৈদেশীক ঋণ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ, বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের জন্য ব্যাংক ঋণের উপর অতি নির্ভরশীলতা, বিদেশী বিনিয়োগের পতন, বেসরকারী বিনিয়োগে স্থবিরতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি হ্রাস বড় কারণ।

আরো পড়ুন: ‘বাজেট উচ্চাভিলাষী নয়, বাস্তবায়নের সক্ষমতা সরকারের আছে’

জিএম কাদের বলেন, কোনো দেশের রিজার্ভকে নিরাপদ মাত্রায় রাখতে হলে কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান রিজার্ভ রাখতে হয়। সে ক্ষেত্রে আমাদের রিজার্ভ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নেমে এসেছে বলা যায়। রপ্তানি আয় ও প্রবাসি আয় যতক্ষন না দেশের মোট আমদানি ব্যয়ের সমান বা বেশী না হবে ততক্ষন পর্যন্ত রিজার্ভের ক্রমাবনতি অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে আইএমএফের ঋণের ছাড় ও অন্যান্য বিদেশী সাহায্য বা অন্যান্য ঋণের অর্থে হঠাৎ রিজার্ভ বৃদ্ধি হতে পারে। কিন্তু এই রিজার্ভ আবার কমতে থাকবে যতক্ষন পর্যন্ত না রপ্তানি ও প্রবাসী আয় আমদানি ব্যয়ের চেয়ে বেশী থাকবে। এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষনীয় বর্তমানে আমদানি ব্যয় যথেষ্ট পরিমানে নিয়ন্ত্রণ করার পরেও রিজার্ভ ধরে রাখা যাচ্ছে না। মনে রাখতে হবে আমদানি ব্যয় একটা পর্যায়ের নীচে কখনই নামানো সম্ভব হবে না। যেহেতু দেশে আমদানী চাহিদার একটি নিম্নতম স্তর আছে। তাছাড়াও বৈদেশীক মুদ্রার রিজার্ভের হ্রাস এবং আমদানি হ্রাস পেলে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি হয়, টাকার অবমূল্যায়ন হয় এবং মূল্যস্ফীতি হয়। ফলে আমদানি ব্যয় সংকোচনের ফলে সর্বনিম্ন স্তরে নিয়ে আসার মাধ্যমে যদি রিজার্ভের স্থিতিশীল অবস্থা ধরে রাখা না যায়; তাহলে সার্বিক অর্থনীতিতে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখা দিবে।

প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট একটি গতানুগতিক বাজেট উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগের ৪-৫ বছরের বাজেটে যে ধরনের ধ্যান ধারনার উপরও যে প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয়েছিলো, যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিলো মোটামুটি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এ বছরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনেক বেশী সঙ্কটময় বলা যায়। যেটা আগেই বলেছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বে কম বেশী অর্থনৈতিক মন্দা ও যা থেকে প্রায় দেশই উত্তরনের পথে। কিন্তু আমাদের ক্রমাবনতি চলমান। সে প্রেক্ষিতে, আমাদের দেশের চরম অর্থনৈতিক দুর্দশা আমলে নিয়ে সে অনুযায়ী কোনো দিক নির্দেশনা বা উদ্যোগ এ বাজেটে লক্ষ করা যায় নি। সবগুলো না হলেও কিছু কিছু সমস্যা বাজেটে চিহ্নিত করার প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু বাজেট প্রনয়নে বরাদ্দ, রাজস্ব আহরনে যে কর প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে করে চিহ্নিত সমস্যাসমূহ সমাধানের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা বাড়বে। তিনি গ্যাস বিদ্যুৎতের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় জনর্দূর্ভোগের কথা তুলে ধরে বলেন, এরই মধ্যে বিদ্যুতের দাম বছরে ৪ বার বাড়াচ্ছে সরকার। এতে জনদূর্ভোগ বাড়বে ও উৎপাদন কমবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App