×

রাজনীতি

মির্জা ফখরুল

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪, ০৫:৩৮ পিএম

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই

ছবি: ভোরের কাগজ

সরকার পরিবর্তনে ‘ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন’ এর কোনো বিকল্প পথ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সামনে আর কেনো বিকল্প পথ নেই। বাংলাদেশকে যদি আমরা রক্ষা করতে চাই, জনগণকে যদি রক্ষা করতে চাই, তবে সবাইকে দলমত নির্বিশেষে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে আজকে একত্র হয়ে এই ভয়াবহ দানবীয় সরকারকে সরাতে হবে। তাই এখন একমাত্র কাজ হচ্ছে তাদের নিজেদের বৃত্ত তৈরি করা আর অন্য দেশের যে প্রভুত্ব সেটা মেনে নিয়ে তাদের যে স্বার্থ সেই স্বার্থ রক্ষা করা।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ভাসানী অনুসারি পরিষদের উদ্যোগে ‘ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ফারাক্কা লং মার্চের দিবসটি উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে মাওলানা ভাসানী রাজশাহী থেকে ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে লং মার্চ করেন।

‘সরকার ভারতের কাছে অত্যন্ত দূর্বল’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা (ভারত) সবসময় বাংলাদেশটাকে একটা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যে তাদের সব কার্য্ক্রম পরিচালনা করেছে। শুধু ফারাক্কা বাঁধ নয়, গঙ্গার পানি নয়, বাংলাদেশের ১৫৪টি অভিন্ন নদীর পানিবন্টনের ক্ষেত্রে তারা (ভারত) সবসময়ই গড়িমসি করেছে এবং তারা এই সমস্যার সমাধান করেনি, করছে না।’

আপনারা সবাই জানেন, দীর্ঘকাল ধরে তিস্তা নদীর পানি বন্টন নিয়ে এই চুক্তি করছি, এই হয়ে যাবে, এখন ভালো অবস্থায় আছে এই করে করে এই সরকার সময় পার করেছে। এই যে ব্যর্থতা এর মূল কারণ হচ্ছে যে, সরকার এখন আছে সেই সরকার পুরোপুরিভাবে একটা নতজানু সরকার। তারা কখনোই জনগণের স্বার্থে যে একটা স্ট্যান্ড নেয়া সেই স্ট্যান্ড নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ব্যর্থ হচ্ছে কারণ তারা (সরকার) তাদের (ভারত) কাছে অত্যন্ত দূর্বল।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে তার অধিকার আদায়ের জন্য তাদের নিজেকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে হারিয়ে ফেলেছি, গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করছি, লড়াই করছি; আমরা সব রাজনৈতিক দলগুলো সেই সংগ্রাম করছি গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য। এজন্য আমাদের অনেকে প্রাণ দিয়েছেন, আমাদের অনেককে নিপীড়ন-নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে।

আরো পড়ুন: বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র আগের অবস্থানেই

এই সরকারের নির্যাতনের কারণে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে, আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেবকে মিথ্যা মামলায় বিদেশে নির্বাসিত করে রাখা হয়েছে, ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। এই ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে তিনদিনে ২৭ হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনো নিপীড়ন-নির্যাতন-গ্রেপ্তার চলছে, আমাদের নেতা-কর্মীদের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। আজকে এমন একটা সরকার দখলদারিত্ব নিয়ে ক্ষমতায় বসে আছে তাদের একমাত্র কাজ হচ্ছে তারা তাদের স্বার্থ এবং প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য জনগণের ওপর আজকে নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে।

ফখরুল বলেন, আজকে তিস্তা সমস্যার সমাধান হবে কি করে, অন্যান্য অভিন্ন নদীগুলোর সমস্যার সমাধান কি করে হবে? কারণ তারা তো এখানে দখলদারিত্ব করছে। তারা (সরকার) তো বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে এই সরকারের ক্ষমতায় বসে আছে। তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার নয়। তারা কোনো নির্বাচন করে না। নির্বাচন করলে তারা জানে যে, তাদের পরাজয় হবে, তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে সেই কারণে বিভিন্ন কৌশলে তারা এখানে একটা নির্বাচন দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকছে।”

‘আজ হোক কাল হোক সরকার বদলাবেই’

নাগরিক ঐক্যে সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এই সরকার তো বদলাবে। আজ হোক কাল হোক বদলাবেই। কেউ কেউ মনে করেন যে, শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছর কেউ কিছু করতে পারবে না, আবার কেউ কেউ বলেন, যতদিন জীবিত আছেন তাকে নড়াতে পারবেন না। কিন্তু আমি দেখি সরকার এমনিই নড়ছে। কারণ রিজার্ভ নাই। সরকার ভয়াবহ রকমের একটা অর্থনৈতিক সংকটে আছে। সব মিলে পরিস্থিতি এরকম এই যে, এখানে মাহবুব উল্লাহ ভাই আছেন, মোস্তফা জামাল হায়দার ভাইও আছেন আমরা একটা পরিবর্তনের কথা বলতাম না অবজেক্টিভ রিয়েলেটি কি, মানে এখানকার বস্তুগত পরিস্থিতি কি, বাস্তবতা অবস্থাটা কি বিরাজ করে নাকি পরিবর্তনের পক্ষে। আমি বলি, সব দিক থেকে পক্ষে।

তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারি আমরা জিতেছি না হেরেছি; সেই বির্তক বাদ দেন। কিন্তু মানুষ এখন আমাদের পক্ষে আছে। মানুষ এখন সমর্থন করছে এই জন্য না যে, ভারতকে দেখতে পারে না। আমার এখানে নির্বাচন হবে ভারত এখানে বলে আমরা সিকিউরিটি প্রশ্ন বিবেচনোয় রেখে নির্বাচন করতে হবে। সে (ভারত) কে?

আরো পড়ুন: দেশের মানুষ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত

আমাদের দেশের জনগন ভোট দেবে কাকে? গোটা মানুষ ঠিক করবে। জনগণ যাকে ভোট দেবে সে ক্ষমতায় যাবে। ভারতের যদি দরকার লাগে আমাদের সেই সরকারের সঙ্গে অথবা যেকোনো সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করবে। ওরা কি রকম সরকার চায় তার ভিত্তিতে নির্বাচন হবে এখানে। এটা আমি বলছি না…এটা হতে পারে না। লড়াইটা তাই অনেক বড়। লড়াই অনেক বেশি দৃঢ়, লড়াইটা অনেক বেশি শক্ত এবং লড়াইটা হতেও পারে একটু দীর্ঘ।

‘সীমান্ত হত্যা: অসম সম্পর্কের দায় শোধ করছে ওরা’

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সীমান্ত হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সীমান্ত হত্যা হচ্ছে; প্রতিদিন আমরা যখন বলছি, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ শিখরে…এটা বলেই শেষ করেনি। বলেছে কি? ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রক্তের সম্পর্ক, রক্তের বাঁধন। তারা এই রক্তের বাঁধনের জন্য প্রতিদিন সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা করে, জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে এই অসম সম্পর্কের দায় শোধ করতে হচ্ছে। খুবই লজ্জার খুবই অপমানের। নিজেদের স্বদেশী হত্যা হচ্ছে তার উপযুক্ত প্রতিবাদ পর্যন্ত হয় না। আমার এখানে লাশ ফেরত পাবো কিনা এটার জন্য পতাকা বৈঠক হয়… এটা খুব লজ্জার, দূঃখের এবং অপমানের।”

‘দিল্লী আছে তো আমরা আছি’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, আমাদের দেশের পররাষ্ট্র নীতি বলে কিছু নেই। তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো কাজ নেই। দিল্লী আছে আমরা আছি, আমেরিকার দিল্লীকে দরকার, দিল্লীরও আমেরিকার দরকার। দিল্লী আছে, আমরা আছি; বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ওবায়দুল কাদের সাহেব পরিস্কার করে ঘোষণা দিয়েছেন।

এরকম একটা পররাষ্ট্রনীতিতে চলা মানে হচ্ছে, বাংলাদেশ যে রাষ্ট্র রক্ত দিয়ে অর্জন করা হয়েছে একটা সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আজকে সেই রাষ্ট্রকে দাসত্বের দিকে পরিস্কারভাবে ঠেলে দিয়ে আবার ঘোষণা করা হয়েছে। এটা বাংলাদেশের বর্তমান পরিণতি ….৫৪ বছরে এসে রাজনৈতিক দিক থেকে সার্বভৌমত্বের দিক থেকে আমরা দাসত্বের কবলে পড়েছি। 

বাংলাদেশের মানুষকে আজকে মওলানা ভাসানী যেভাবে এদেশের মানুষের আত্মমর্যাদা, এদেশের মানুষের অধিকার এদেশের সব মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কথা বলেছেন সেই জায়গা থেকে আমাদেরকে আজকে নতুন করে আন্দোলন করতে হবে বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য, আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ওই জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবু ইউসুফ সেলিমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম জেএসডির তানিয়া রব, ভাসানী অনুসারি পরিষদের বাবুল বিশ্বাস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বক্তব্য রাখেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App