×

রাজনীতি

মেয়র আতিক

নগরবাসীর আস্থাই আমার কাজের শক্তি

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৪, ০৫:৩৩ পিএম

নগরবাসীর আস্থাই আমার কাজের শক্তি

মেয়র আতিকুল ইসলাম

সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়তে নগরবাসীকে দেয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উত্তর সিটি কর্পোরেশন বদ্ধ পরিকর বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মেয়র আতিকুল ইসলাম। নগরপিতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের চার বছর পূর্তিতে তিনি নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, আমার প্রতি নগরবাসীর আস্থা-বিশ্বাসই আমার কাজের শক্তি। ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে শেষ পর্যন্ত কাজ করে যাব। আজ সব প্রাপ্তি নগরবাসীর; আর ব্যর্থতা সব আমার। 

সোমবার (১৩ মে) দুপুরে ডিএনসিসির নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার চার বছরপূর্তি উপলক্ষে ডিএনসিসি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আতিক এসব কথা বলেন। এ সময় তার মেয়াদের পরবর্তী সময়কালে নতুন ১৮ ওয়ার্ডের উন্নয়ন কাজ শেষ করা এবং খাল উদ্ধারে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানান মেয়র আতিক। পাশাপাশি কাওরান বাজার হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে সব প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে কাজ করে যাবেন বলে জানান তিনি। 

২০২০ সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ‘সুস্থ ঢাকা, সচল ঢাকা ও আধুনিক ঢাকা’ এই তিন রূপরেখার মাধ্যমে মোটাদাগে তিনি দিয়েছিলেন ৩৮টি প্রতিশ্রুতি। এরপরই রাজধানী ঢাকাকে স্মার্ট সিটি করার ঘোষণা দিয়ে তিনি নেমে পড়েছিলেন নগরবাসীর সেবায়। মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার আগে তিনি নগরবাসীর কাছে যেসব ওয়াদা করেছিলেন, তার বেশির ভাগই বাস্তবায়ন হয়েছে। কিছু চলমান আছে; অল্প কিছু এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটিতে মো. আতিকুল ইসলাম মেয়র হিসেবে শপথ নেন। আগের মেয়রের মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার নিয়ম আছে। এ জন্য তিন মাস পর ওই বছরের ১৩ মে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব নেন আতিকুল ইসলাম। 

সংবাদ সম্মেলনে খালের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতির বিষয়ে মেয়র বলেন, সেনাবাহিনী তাদের কাজ করে যাচ্ছে। সিএস, আরএস, এসএ তিনটি ধাপ পার করে কাজটি করা হচ্ছে। পিলার নির্ধারণের ক্ষেত্রে একেক খালের বেলায় ভিন্ন মাপে পিলার বসাতে গিয়ে কিছু জায়গায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এরই মধ্যে ১২০০র মতো পিলার বসানো হয়েছে।

আরো পড়ুন: হজ ভিসা অনুমোদনের সময় বাড়াতে সৌদির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

ডেঙ্গু নিধনে হাজার কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। কিন্তু মশা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এ জন্য নতুন কৌশল নেয়া হচ্ছে না কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, কোভিডের সময় ৫৪টা ওয়ার্ডে দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। এখনো ক্যাম্পেইনের ওপর জোর দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। বিটিআই (বাসিলাস থুরিনজেনসিস ইসরায়েলেনসিস) এনে ফেল করেছি এ কথাটা সত্যি নয়, আমরা এখন সরাসরি বিটিআই আনছি। নতুন সংযোজন টারবাইন মেশিন আনা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কীটতত্ত্ববিদ আনা হয়েছে। ডেঙ্গু নিধনে ডেঙ্গু আবাস (পরিত্যক্ত পণ্য) কিনে নেয়া হচ্ছে। আমরা ডেঙ্গু থেকে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে চেষ্টার কমতি রাখছি না। 

সুস্থ ঢাকা ইশতেহারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি মেয়র। তিনি বলেন, উত্তর সিটি এলাকায় এক হাজার ২৫০ কিলোমিটার ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করছে ডিএনসিসি। এছাড়া বাসাবাড়ির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় ৫৫টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। আমিনবাজারে ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ডিএনসিসির প্রকৌশল দপ্তর সূত্র জানায়, গত চার বছরে ২৪টি পার্ক ও খেলার মাঠ উদ্বোধন করা হয়েছে। চলতি বছর উদ্বোধন করা হয়েছে গুলশানের ডা. ফজলে রাব্বি পার্ক। 

মেয়র বলেন, মিরপুরে প্যারিস রোড মাঠ পরিত্যক্ত ছিলো। মাঠটি শিশু-কিশোরদের খেলার জন্য সংস্কার করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন নাগরিকদের যেসব সেবা দিয়ে থাকে এর মধ্যে মশা নিধন বা নিয়ন্ত্রণ অন্যতম। এ জন্য ডিএনসিসি ৫৪টি ওয়ার্ডে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়া বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মশা নিধনে ল্যাব স্থাপন এবং পাঠ্যপুস্তকে এডিস মশা সম্পর্কে সচেতনতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যবস্থা নিয়েছে ডিএনসিসি। সকাল-বিকেল লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং করছে। এডিসের লার্ভা পেলে ম্যাজিস্ট্রেটরা জরিমানা করছেন। 

মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে মেয়র আতিক বলেন, সব পরিত্যক্ত দ্রব্যে পানি জমে এডিসের লার্ভা জন্মাতে পারে, সেসব দ্রব্য সিটি কর্পোরেশন কিনে নিচ্ছে। ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, আইসক্রিমের কাপ, দইয়ের কাপ, পুরনো টায়ার, কমোড, রঙের কৌটা- এগুলো ডিএনসিসির কাউন্সিলরদের কাছে নিয়ে গেলে তারা কিনে নিচ্ছেন। বায়ুদূষণ রোধে জার্মান প্রযুক্তির অত্যাধুনিক স্প্রে-ক্যানন ব্যবহার করছে ডিএনসিসি। এছাড়া ১০টি ওয়াটার ব্রাউজার দিয়ে দৈনিক চার লাখ লিটার পানি ছিটানো হয়। চলমান তাপদাহের মধ্যে চিফ হিট অফিসার বুশরা আফরিনের পরামর্শে স্প্রে-ক্যাননের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন স্থানে পানি ছিটানো হচ্ছে। গত বছর ৮০ হাজার গাছ লাগিয়েছে উত্তর সিটি। চলতি বছর আরো এক লাখ ২০ হাজার গাছ লাগানো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মেয়র আতিক দায়িত্ব নেয়ার পর গত চার বছরে ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় ৪৯টি নতুন পাবলিক টয়লেট স্থাপনসহ ১৫টি সংস্কার করা হয়েছে। 

আরো পড়ুন: নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবাসন প্রকল্পের উদ্যোগ নিচ্ছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

এসব পাবলিক টয়লেটে নারী ও পুরুষদের জন্য রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে ডিএনসিসির মিয়র বলেন, গোসল, অজু, লকার, ব্রেস্ট ফিডিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। নগরীর অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাস্তা নির্মাণে সিটি কর্পোরেশনের বরাদ্দ পেতে হলে অবশ্যই তা ২০ ফুট প্রশস্ত হতে হবে। এমন নির্দেশনার পর মিরপুরের মোল্লা রোড, আদর্শ রোড, পীরের বাগ, কাওলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ২০ ফুট চওড়া করে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। ২০২১ সালে ওয়াসা থেকে ২৯টি খালের দায়িত্ব বুঝে পায় ডিএনসিসি। এরপর খাল উদ্ধার, খনন, পরিষ্কার, খালের পার সবুজায়ন, সাইকেল লেন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ শুরু করে ডিএনসিসি। ইসিবি স্কয়ার থেকে কালশী পর্যন্ত ৩.৭০ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত করেছে সংস্থাটি। 

এছাড়া কুড়িল ফ্লাইওভার সংলগ্ন জলাধার ভরাট করে পাঁচতারা হোটেল নির্মাণের কাজ শুরু করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্মাণকাজ স্থগিত করেছেন জানিয়ে মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে কুইক রেসপন্স টিম গঠন করে দিয়েছে ডিএনসিসি। জনদুর্ভোগ দূর করতে কাজীপাড়া-শেওড়াপাড়া এলাকায় ওয়াসা থেকে পাওয়া ড্রেনেজ অংশ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আনুমানিক ৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ডিএনসিসি। অবশ্য চলতি অর্থ বছরের মধ্যে নগর পরিবহনে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস চালু করার উদ্যোগ থাকলেও সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। 

মেয়র বলেন, ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো ডিএনসিসি ডিজিটাল পশুর হাট চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছরও ডিজিটাল পশুর হাট আয়োজন করা হয়েছে। এবারো ডিজিটাল পশুর হাটের আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ঘরে বসেই একজন গ্রাহক অনলাইনের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স পাচ্ছেন। কিউআর কোডভিত্তিক রিকশার লাইসেন্স, ক্যাশলেস মার্কেট ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়েছে। ডিএনসিসি-১, খিলগাঁও তালতলা মার্কেটকে কিউআর কোডভিত্তিক ক্যাশলেস মার্কেট হিসেবে ঘোষণা করেছে ডিএনসিসি। টিকাদানের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ই-ট্র্যাকার জিআইএসের মাধ্যমে শিশুদের তথ্য সংগ্রহ করে টিকা দেয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়রুল আলম, সচিব (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফিদা হাসান ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App