×

রাজনীতি

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ঢাবির দুই শিক্ষার্থীর উপর হামলার অভিযোগ

Icon

ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:৩৪ পিএম

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ঢাবির দুই শিক্ষার্থীর উপর হামলার অভিযোগ

মেহেদী হাসান রায়হান ও সাকিবুল সুজন ( ছবির বা দিক থেকে)

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভাসমান দোকানে খাওয়ার সময় হাতের পানি পড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৬-১৭ সেশনের দুইজন সিনিয়র শিক্ষার্থীর উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের হল পর্যায়ের দুই নেতার বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান গেইটে এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

অভিযোগ অনুযায়ী অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিবুল সুজন ও একই শিক্ষাবর্ষের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রায়হান। সুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রলীগের গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক উপ-সম্পাদক ও রায়হান হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ছাত্রবৃত্তি সম্পাদক। তারা উভয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন, টেলিভিশন ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সামাদ আকন্দ ও একই শিক্ষাবর্ষের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী হিরন তালুকদার। 

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সামাদ আকন্দ বলেন, আমি এবং আমার বন্ধু হিরন দুপুরের খাবার খেতে টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান গেইটে যাই। আমরা যখন খাবার নিতে চাই তখন আমার হাতের এক ফোঁটা পানি দোকানের খাবারের পাত্রে পড়ে। তখন সাকিবুল সুজন ও মেহেদী হাসান রায়হান আমাদেরকে বাজেভাবে কথার মাধ্যমে আক্রমণ করে। আমরা তাদের সিনিয়র হিসেবে পরিচয় দিলেও তারা আক্রমণাত্মক হয়ে আমাদের গায়ে হাত তোলে। এক পর্যায়ে আমরা যখন বের হয়ে আসতে চাই তখন তারা ৫-৬ জন সংঘবন্ধ হয়ে আমাদের উপর হামলা করে। 

সামাদ বলেন, এ হামলায় আমার মুখে বাজেভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হই। এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম রয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জেষ্ঠ্য শিক্ষার্থী হিসেবে তাদের এই হামলায় আমরা শারীরিক ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে অন্য শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এমন আচরণে আমরা ব্যথিত। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সজুনকে ফোনে পাওয়া যায়নি। অপর অভিযুক্ত রায়হান বলেন, ভাত খেয়ে হাতের পানি ছিঁটকে ফেলায় সেটা দোকানের তরকারিতে গিয়ে পড়লে সুজন ওনাকে বলেন যে ভাই আপনি তো কাজটা ঠিক করেন নাই। এই থেকে ওনার সাথে কথা-কাটাকাটি হয়। তিনি সিনিয়র পরিচয় দেওয়ায় পাশাপাশি বারবার আমাদের উপর আক্রমণ করেন এবং আমরা শুধু প্রতিরোধ করেছি। জখমের চিহ্ন তো আমাদেরও রয়েছে। উনার ডিপার্টমেন্টের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের এক ভাই ও আশেপাশের দোকানদারসহ ওনাকে আটকানোর চেষ্টা করলেও তিনি থামতে চাননি। ফলে উভয় পক্ষের হাতাহাতিতে উনার গায়ে আঘাত লাগে। এখন উনি আগে গিয়ে অভিযোগ দিয়েছেন, আমরাও ভাইয়ের (শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত) সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিব। 

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতকে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাকসুদুর রহমান বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি। রবিবার ওয়ার্ক ডে'তে বিষয়টি নিয়ে আমরা বসবো এবং কি করা যায় তখন সিদ্ধান্ত নিব। উদ্যান যারা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের কাছেও আমরা সহযোগিতা চাইব যাতে সেখানে দোকানপাট কমিয়ে আনা হয়। এতে করে বিশৃঙ্খলা অনেকটা দূর করা যাবে বলে আশা করছি। 

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App