×

রাজনীতি

কাদের-চুন্নুকে পরাজিত প্রার্থীরা

আমাদের মাথা বিক্রি করা টাকার হিসাব দিতে হবে

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:০৫ পিএম

আমাদের মাথা বিক্রি করা টাকার হিসাব দিতে হবে

নির্বাচন এলে আমাদের মাথা বিক্রি করেন, আমাদের মাথা বিক্রি করা টাকা আত্মসাৎ করেন। আর মাথা বিক্রি করবেন না। সংসার, দোকানপাট বিক্রি করে নির্বাচন করেছি, নিঃস্ব হয়ে গেছি। নৌকা-স্বতন্ত্র প্রার্থীদের হামলার মুখে নির্বাচনী মাঠে ছিলাম। কথা দিয়েও আমাদের একটা টাকা দিলেন না। চেয়ারম্যান-মহাসচিব একটিবার ফোন ধরলেন না। আপনাদের সহযোগিতা তো চাইনি, কিন্তু আমাদের জন্য যে টাকা আসল সেটা কোথায় গেল, আপনাদের জবাব দিতে হবে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে উদ্দেশ করে এভাবেই তুমুল সমালোচনায় বিদ্ধ করলেন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবির জেরে পরাজিত প্রার্থীরা। 

রবিবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন হলে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন দলের বিক্ষুব্ধ পরাজিত প্রার্থীরা। বেলা ১১টায় সভা শুরু হয়ে চলে ২টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলের কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা-৪ থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়া সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।

নির্বাচনে ভরাডুবি, দলীয় ও নির্বাচনী ফান্ড কুক্ষিগত করে রাখা, জিএম কাদেরের স্ত্রী শেরিফা কাদেরের আসনের বিনিময়ে সিনিয়র নেতাদের বাদ দেয়া, নির্বাচনে অসহযোগিতার অভিযোগ এনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা বেশ কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রার্থীদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। দলের পক্ষ থেকে চিঠি ও জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ না নিতে অনুরোধ করা হলেও ঠেকানো যায়নি প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের যোগদান। বেলা ১১টার মধ্যেই নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সভাস্থল ভরে যায়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৭০ এর বেশি প্রার্থী উপস্থিত হন। সভায় নির্বাচনে দলের এমন ভরাডুবির জন্য জাপা চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও চেয়ারম্যান পত্নীকে দায়ী করেন নেতারা। জিএম কাদের ও চুন্নুকে বাটপার, প্রতারক বলেও গালি দেন পরাজিত প্রার্থীরা।

সভায় জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সেন্টু বলেন, নির্বাচনের সময় সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। প্রার্থীদের জাপা মহাসচিব টাকা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জানিয়ে সেন্টু বলেন, কিন্তু পরবর্তীতে উনি বললেন, এটা শেরীফা কাদের (জিএম কাদেরের স্ত্রী) দেখবেন। নির্বাচনে সরকার কোনো কৃপণতা করেনি জানিয়ে সেন্টু বলেন, সিট আপনারা বাড়িয়ে নিতে পারেননি, এটা আপনাদের ব্যর্থতা। সেন্টু দাবি করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত শেরীফা কাদেরের সিট কনফার্ম হয়নি, জিএম কাদের বললেন আমি ভোটে যাব না। যখনই তার স্ত্রীর সিটটা দিয়ে দিয়েছে, সে দৌঁড়ায়ে চলে গেছে। জিএম কাদেরকে উদ্দেশ্য করে সাবেক এমপি ও সিলেট এর প্রার্থী ইয়াহয়া চৌধুরী বলেন, আপনি গণতন্ত্র শিখিয়েছেন, আপনার মধ্যে গণতন্ত্র নেই। আপনি স্ত্রীর জন্য দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কোরবানি দিয়েছেন। আমাদের টাকা আপনারা ভাগ বাটোয়ারা করেছেন। আপনাদের জবাব দিতে হবে। 

নোয়াখালীর ফজলে এলাহী সোহাগ বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব, আপনি কোনো ওয়াদা রাখেননি। আপনি চেয়ারম্যান হওয়ার আগে নীতিকথা বলতেন, চেয়ারম্যান হওয়ার পর পরিবর্তন হয়ে গেছেন। সিরাজগঞ্জের প্রার্থী ফজলুল হক নুরু বলেন, দুই লাখ টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে এনে লাঙল দেয়া হয়। এভাবে আপনারা মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন। সিরাজগঞ্জের মুখতার হোসেন বলেন, রক্ত মাংসে গড়া দোকানপাট বিক্রি করে নির্বাচন করেছি। স্বতন্ত্র ও নৌকার লোকদের হামলার মুখে জীবন যায়, কিন্তু‘ দলের কোনো সহযোগিতা পাইলাম না। আমাদের বরাদ্দকৃত টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন। আমাদের আত্মসাৎ করা টাকার হিসাব দিতে হবে। ভৈরবের নুরুল কাদের সোহেল বলেন, আমরা সব কিছু দিয়ে নির্বাচন করেছি। একটু খবর তো নেয়নি, দশটা টাকা পর্যন্ত দেয়নি। আর কত মাথা বিক্রি করবেন। আর মাথা বিক্রি করবেন না। মুন্সীগঞ্জের আব্দুল হামিদ খান ভাসানি বলেন, চেয়ারম্যান ও মহাসচিব চার আন্ডাবেষ্টিত (ডিম) হয়ে পড়েছেন। এই আন্ডামুক্ত না হলে দল ধ্বংস হয়ে যাবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর উত্তর সভাপতি শফিকুল ইসলাম সেন্টু, সাবেক এমপি ইয়াহয়া চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, আমানত হোসেন খান, যুগ্ম মহাসচিব আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, ফখরুল আহসান শাহজাদা, আব্দুল হামিদ খান ভাসানি, হাসান ইফতেখার, মিজানুর রহমান মিরু, সাহিন আরা চৌধুরী রিমা, সুজন দে, শাহনাজ পারভিন প্রমুখ। তৃণমূল প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুন্সীগঞ্জ-৩ এর আব্দুল বাতেন, সিরাজগঞ্জ-৫ এর ফজলুল হক নুরু, নোয়াখালী-৩ এর ফজলে এলাহী সোহাগ, সিরাজগঞ্জ-৬ এর মুখতার হোসেন, সিরাজগঞ্জ-১ এর জহিরুল ইসলাম, গাজীপুর-৪ এর শামসুদ্দিন খান, ভৈরবের নুরুল কাদের সোহেল প্রমুখ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App