×

রাজনীতি

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবার হয়েছেন মন্ত্রী, কতটুকু চেনেন মোক্তাদিরকে?

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:২৩ পিএম

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবার হয়েছেন মন্ত্রী, কতটুকু চেনেন মোক্তাদিরকে?

ছবি: সংগৃহীত

র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরীর প্রথম পরিচয় তিনি একজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা। পরে ছিলেন একজন তুখোড় ছাত্রনেতা। আবার করেছেন সরকারি চাকরিও। অবসর নিয়ে আবার রাজনীতিতে। এছাড়া তিনি একজন চিন্তক, লেখক ও সম্পাদক। এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের নির্বাচিত এমপি উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হয়েছেন। আসনটি থেকে টানা চারবার নির্বাচিত হয়েছেন যুদ্ধাহত এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের কোনো সংসদ সদস্য।

বর্ণাঢ্য সেই রাজনৈতিক জীবনেরই যেন প্রতিদান পেলেন র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের এই সংসদ সদস্যকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার জন্য ডাকা হয়। 

এদিকে বুধবার (১০ জানুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির মন্ত্রী হওয়ার খবরে সর্বত্র আনন্দ ও রাতে জেলা শহরে বেশ কয়েকটি মিছিল বের হতে দেখা যায়।

জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকতাদির চৌধুরীকে নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা চলছিল। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩(সদর-বিজয়নগর) আসনে (নৌকা প্রতীক) ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে চতুর্থবারের মতো বিজয়ী হন।

রাজনৈতিক জীবন

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর জন্ম ১৯৫৫ সালের ১ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চিনাইর গ্রামে। তার বাবা মো. আবদুর রউফ চৌধুরী ও মাতা মোসাম্মৎ হালিমা খাতুন চৌধুরী। 

তুখোড় মেধাবী ছাত্র ছিলেন উবায়দুল। ঢাকা মাদরাসা-ই-আলিয়া থেকে ফাজিল পাস করে ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা অবস্থায় ১৯৬৯ সালে তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন।

১৯৭০ সালে উবায়দুল মোক্তাদির ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। যুদ্ধের ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর গুলিতে তার একটি পা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। 

স্বাধীন দেশের রাজনীতিতে ১৯৭৩-৭৪ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠন হলে ২১ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত হন উবায়দুল। ১৯৭৫ সালের কালরাত্রিতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদে ২০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিলের নেতৃত্বদান ও ৪ নভেম্বর ঢাকার রাজপথে প্রথম প্রতিবাদ মিছিলের অন্যতম সংগঠক হিসেবে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন তিনি।

চাকরি ও ফিরে আসা

১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ‘‘একতরফা’’ নির্বাচনের বিরুদ্ধে  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের অফিসারদের নিয়ে গঠিত জনতার মঞ্চের অন্যতম সংগঠক হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা ছিল তার। ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব ছিলেন। পরবর্তীতে সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন।

২০১০ সালের ২২ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের এমপি অ্যাডভোকেট লুৎফুল হাই সাচ্চু মৃত্যুবরণ করলে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার এবং ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা তৃতীয় বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, দশম জাতীয় সংসদে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং একাদশ জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App