গণতন্ত্রের নব যাত্রা
মাহবুব মাসুম
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
ছবি: মাহবুব মাসুম
নতুন ইতিহাস। নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন পর শুরু হলো গণতন্ত্রের নব যাত্রা। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন চিত্র আগে কখনো দেখা যায়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। উৎসব মুখর পরিবেশে ১৬ বছর পর নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পেল জনগণ। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। নতুন ইতিহাস গড়লেন তারেক রহমান। এবারই প্রথম নির্বাচনের পর পরাজিত দলের বাসায় গিয়ে ফুলের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান। শুরু হলো গণতন্ত্রের নব যাত্রা।
সত্যিকারের গণতন্ত্র তো এরকমই হওয়া উচিত। নির্বাচনে হার-জিত থাকবেই। জনগণ ভোটের মাধ্যমে যাকে বেছে নেবে তারাই সরকার গঠন করবেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে থাকবে পারস্পরিক সৌহার্দ। দেশের কাল্যানে জনগণের কল্যাণে হবে রাজনীতি। তারেক জিয়ার হাত ধরে ঠিক এমন রাজনীতির দিকেই গুচ্ছে দেশ। বিশাল জয় পাওয়ার পর তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। কোন ধরণের অন্যায় অবিচারকে প্রশ্রয় দেবে না বলে ঘোষণা করেছেন। এছাড়া পরাজিত দলগুলোর সাথে দেখা করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন তারেক রহমান।
এবারের বিরোধী দলও নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে দেশের মানুষের কল্যানে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, তাঁরা দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করবে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ফলাফল মেনে নিয়ে সরকারের ইতিবাচক কাজে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছেন। এটি বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন ধারা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশ এগিয়ে যাবে। গণতন্ত্র এগিয়ে যাবে। দেশের মানুষের ভোটাধিকার আর কেউ কেরে নিতে পারবে না।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বিএনপি। জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে। ২০২৬ সালে ঠিক আবারও একই লক্ষ্যে জনগণের রায় পায় বিএনপি। ইতিহাস গড়ে জনগণ বিপুল ভোটে বিজয়ী করে তারেক রহমানকে।
ঐতিহাসিক বিজয়ের পর রাজনৈতিক সৌজন্য ও গণতান্ত্রিক ঐক্যের বার্তা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'র চেয়ারম্যান তারেক রহমান গতকাল পৃথকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম-এর বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সৌজন্য সাক্ষাতে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র পুনর্গঠন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং আগামীর রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে পারস্পরিক মতবিনিময় হয়। বিএনপি চেয়ারম্যানের এ সৌজন্য সাক্ষাৎকে রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকরাও বলছেন এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নব যাত্রা শুরু হলো।
মাহবুব মাসুম, সাংবাদিক
masum86cu@gmail.com
