ঈদের আগে এটিএম বুথে টাকা সংকট, ভোগান্তিতে গ্রাহক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন এটিএম বুথে দেখা দিয়েছে নগদ অর্থের সংকট। কোথাও টাকা শেষ, কোথাও বুথ বন্ধ, আবার কোথাও দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও টাকা তুলতে পারছেন না গ্রাহকরা। ফলে ঈদের কেনাকাটা ও প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে নগদ অর্থ তুলতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
রোববার ঈদের আগের শেষ কার্যদিবসে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এটিএম বুথে বাড়তি চাপ দেখা যায়। তবে অতিরিক্ত গ্রাহক সামাল দিতে না পেরে অনেক বুথেই দ্রুত ফুরিয়ে যায় নগদ অর্থ। কোনো কোনো বুথে আবার কারিগরি ত্রুটির কারণে সেবা বন্ধ ছিল।
বড় ছুটির সময় এটিএম বুথে নগদ সংকট নতুন ঘটনা নয়। ব্যাংক বন্ধ থাকায় এ সময় বুথের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যায়। তবে এবার ছুটি শুরুর আগেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
রাজধানীর রামপুরা, মতিঝিল, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। অনেক গ্রাহক একাধিক বুথ ঘুরেও টাকা তুলতে পারেননি। কোথাও টাকা থাকলেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে দীর্ঘ সময়।
রামপুরার একটি বুথে টাকা তুলতে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর জানতে পারেন বুথে আর নগদ অর্থ নেই- এমন অভিজ্ঞতার কথা জানান বেসরকারি চাকরিজীবী রহমান মাসুম। একইভাবে মতিঝিল এলাকায় কয়েকটি বুথ ঘুরেও টাকা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যাংকের প্রধান শাখায় গিয়ে অর্থ তুলতে সক্ষম হন এক গ্রাহক।
শুধু এটিএম বুথ নয়, কিছু ব্যাংক শাখাতেও নগদ অর্থের সংকট দেখা গেছে। মগবাজারে একটি ব্যাংক শাখায় দীর্ঘ অপেক্ষার পর গ্রাহকদের অন্য শাখায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক গ্রাহক। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছরই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা দিলেও বাস্তবে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে একই ধরনের ভোগান্তি তৈরি হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে। কোনো ব্যাংক টাকা না পেয়ে ফেরত যায়নি বলেও তিনি দাবি করেন। তার মতে, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নগদ সরবরাহ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব দায়িত্ব।
তিনি আরো বলেন, ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও অনলাইন পেমেন্ট সেবা সচল রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক অবহেলা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারি করা নির্দেশনায় ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক নগদ অর্থ সরবরাহ, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান এবং নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি পিওএস, ই-পেমেন্ট গেটওয়ে ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বলা হয়।
তবে বাস্তবে সেই নির্দেশনার পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে মনে করছেন গ্রাহকরা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে- নির্দেশনা জারি করাই কি যথেষ্ট, নাকি বাস্তবায়ন নিশ্চিতে আরও কঠোর তদারকি প্রয়োজন?
উল্লেখ্য, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো টানা সাত দিনের ছুটিতে থাকবে। তবে গ্রাহকসেবা সচল রাখতে শনিবার ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
