নুর
শ্রমবাজার খুলতে মালয়েশিয়ার দেওয়া শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দেশটির দেওয়া শর্ত পূরণ না হওয়ায় এখনো তা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং আলোচনা ফলপ্রসূ হলে শ্রমবাজার খুলে যেতে পারে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে প্রবাসী ভবনে আয়োজিত এক অভিবাসী সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে অতীতে সরকারের উচ্চপর্যায়ে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সফর ও আলোচনা হয়েছে। তবে মালয়েশিয়ার দেওয়া ১০টি শর্তের কারণে প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে পড়ে।
তিনি জানান, ওই শর্ত অনুযায়ী এজেন্সিগুলোর তালিকা প্রস্তুত করলে মাত্র ছয় থেকে সাতটি প্রতিষ্ঠান প্রাথমিকভাবে যোগ্যতা অর্জন করে। পরে কিছু শর্ত শিথিল করে মোট ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা তৈরি করে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়।
নুরুল হক নুর বলেন, মালয়েশিয়ার সব শর্ত পুরোপুরি মানলে বাংলাদেশের অধিকাংশ এজেন্সিই তালিকার বাইরে চলে যায়। এ কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে চিঠিপত্র আদান-প্রদান ও আলোচনার মাধ্যমে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার হলেও এর মধ্যে ৪৫০ থেকে ৫০০টির কার্যক্রমের যোগ্যতা নেই। পাশাপাশি কিছু লাইসেন্সধারী এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে।
কম্বোডিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে ব্যাপক তদবিরের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা তুলনামূলক দুর্বল হলেও বিভিন্ন মহল থেকে ফাইল অনুমোদনের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনলাইন ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের যাচাই-বাছাই শেষে কর্মী পাঠানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যথাযথ যাচাই ছাড়া কিছু ছাড়পত্র দেওয়ার ঘটনা নজরে এসেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রে নতুন ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের সুপারিশ আসছে। বর্তমানে দেশে ১১০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে এবং আরও ৪০-৫০টি স্থাপনের পরিকল্পনা আছে। তবে প্রয়োজন ও বাস্তবতা যাচাই করে এসব কেন্দ্র স্থাপনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
নুরুল হক নুর বলেন, অনেক স্থানে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণার্থী না থাকলেও সুপারিশের ভিত্তিতে ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা কার্যকর নয়। সরকার এখন চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আধুনিকায়নের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) আয়োজিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
