এক বছরে ঋণ বেড়েছে আড়াই লাখ কোটিরও বেশি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
এক বছরে সরকারের ঋণের পাল্লায় যুক্ত হলো আরও ২ লাখ ৫৪ হাজার ৯২ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব অনুযায়ী, সরকারের মোট ঋণের স্থিতি এখন ২১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। এক বছর আগেও এই ঋণের পরিমাণ ছিলো ১৮ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ‘২০২৪-২০২৫ অর্থবছর শেষে বা ২০২৫ সালের জুন শেষে সরকারের মোট পুঞ্জিভূত ঋণের স্থিতি ছিলো ২১,৪৪,০৩৪ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১,৪৯,০৪৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকারের মোট ঋণ বেড়েছে ৫ হাজার ১০ কোটি টাকা।’
অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের মোট পুঞ্জিভূত ঋণের ৫৬ শতাংশ অভ্যন্তরীণ এবং অবশিষ্ট ৪৪ শতাংশ বৈদেশিক।অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ৬৫ শতাংশ নেওয়া হয়েছে ব্যাংক খাত থেকে। এছাড়া সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ২৮ শতাংশ এবং জিপিএফ (GPF) তহবিল থেকে ৭ শতাংশ ঋণ নেওয়া হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ ঋণের চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ‘ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের গৃহীত ঋণের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি। ২০২৫ সালের জুন শেষে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের পুঞ্জিভূত ঋণের স্থিতি ছিল ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা।’
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫) তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ৮২০ কোটি টাকা।
সরকারের পুঞ্জিভূত ব্যাংক ঋণের মধ্যে ট্রেজারি বন্ড ও স্পেশাল ট্রেজারি বন্ড থেকে নেওয়া হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা, ট্রেজারি বিল থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯২২ কোটি টাকা, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৭ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা এবং সুকুক থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকা।
অপরদিকে, ‘ব্যাংক-বহির্ভূত খাত থেকে গৃহীত পুঞ্জিভূত ঋণের স্থিতি সামান্য কমেছে। ২০২৫ সালের জুন শেষে এ খাতে সরকারের ঋণ ছিলো ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে এ খাতে ঋণ কমেছে ৪৯৮ কোটি টাকা। তবে ব্যাংক-বহির্ভূত খাতের ভেতরে সঞ্চয়পত্র খাতে ঋণ বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে সঞ্চয়পত্র খাতে পুঞ্জিভূত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ২২ কোটি টাকা, যা জুন শেষে ছিলো ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে এ খাতে ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘সরকারের মোট ঋণ বাড়লেও তা এখনো ঝুঁকিসীমার নিচে রয়েছে। বৈদেশিক ও সামগ্রিক ঋণঝুঁকির ক্ষেত্রে দেশ বর্তমানে নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছে। তবে ঋণ-জিডিপি অনুপাত এখনো সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও তা ধীরে ধীরে বাড়ছে।’
এদিকে, বৈদেশিক ঋণ-রফতানি অনুপাত ১৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং রফতানির তুলনায় এর মূলধন ও সুদ পরিশোধের চাপ ভবিষ্যতে বৈদেশিক ঋণের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে রাজস্ব আহরণ বাড়িয়ে অর্থের জোগান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
