কথা বলতে চাইলেন তুহিন, মুখ আটকাল পুলিশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সাবিনা আক্তার তুহিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও, পুলিশ তার মুখ আটকে ধরায় তিনি কথা বলতে পারেননি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে ঢাকার রেবতী মেনশনের সামনে। রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলায় সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ৩০ জনকে আদালতে হাজির করা হয়।
‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ওই মিটিংয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের নাম রয়েছে।
সোমবার দুপুর ২টার দিকে মাথায় হেলমেট ও বুলেটপ্রুঢ় জ্যাকেট পরিয়ে আসামিদের ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এ নেওয়া হয়। তবে বিচারক ছুটিতে থাকায় পরবর্তী শুনানি ২ মার্চ ধার্য করা হয়।
এরপর বেলা আড়াইটার দিকে সাবিনা আক্তার তুহিনসহ অন্য আসামিদের মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় ফের নেওয়া হয়। পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করার সময় এক নারী পুলিশ সদস্য তার মুখ আটকে দেন। এরপর তাদের আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে প্রিজনভ্যানে করে তাদের গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হয়। মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয় ২১ জানুয়ারি। অভিযোগপক্ষ ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী উপস্থিত ছিলেন।
সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ৩০ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জন পলাতক। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন খুলনার যুবলীগ নেতা পারভেজ খান ইমন, চট্টগ্রাম জয় বাংলা ব্রিগেড প্রধান কবিরুল ইসলাম আকাশ, বরিশালের কামরুল ইসলাম, সোহানা পারভীন রুনা, হাফিজুর রহমান ইকবাল, মাহবুবুর রহমান মধু, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আল মারুফ, এলাহী নেওয়াজ মাছুম ও সাজ্জাদুল আনাম।
আরো পড়ুন : রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন, জানালেন ডিএমপি কমিশনার
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এ সময় শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের সামনে দেশবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দিয়েছেন। এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
দশম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ছিলেন সাবিনা আক্তার তুহিন। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে থেকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পাওয়া এবং সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার আশা পূরণ না হওয়ায় তিনি রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত বছরের ২২ জুন ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
