চট্টগ্রামের সহিংসতায় সম্পৃক্ততা নেই ইসকনের
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৪, ১১:৩৭ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
চট্টগ্রামের নগরীর হাজারী গলি এলাকায় সহিংসতার ঘটনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। শুক্রবার সকালে রাজধানীর স্বামীবাগে ইসকন আশ্রমে ইসকন বাংলাদেশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক শ্রী চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী। সহিংসতার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য দেন ইসকন বাংলাদেশের সভাপতি সত্য রঞ্জন বাড়ৈ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসকনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিমলা প্রসাদ দাস।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সম্প্রতি চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানাধীন হাজারী গলি এলাকায় হামলা-ভাংচুরসহ সহিংসতার মতো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। এমন ঘটনা সমাজের শান্তি, সৌহার্দ ও নিরাপত্তার ওপর বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ সহিংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইসকন বাংলাদেশকে নানাভাবে জড়িয়ে আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। আমরা এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করছি যে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব ঘটনার সঙ্গে ইসকনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
লিখিত বক্তব্যে চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী জানান, চট্টগ্রামের পুন্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলারাজ গৌরদাস ও সদস্য স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাসকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ইসকনের যাবতীয় কার্যক্রম থেকে অনেক আগেই অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তাদের দ্বারা সংঘটিত কোনো কার্যক্রম ইসকনের কার্যক্রম নয়। তবে চট্টগ্রামের ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তারা জানেন না এবং যাদের আটক করা হয়েছে তারা নিরাপরাধী বলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলা হয়। তিনি বলেন, ইসকন নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো নতুন কিছু নয়। পরিকল্পিতভাবে ইসকন ও হিন্দুদের বিরুদ্ধে নানা পোস্ট দেয়া হচ্ছে। আর এতে উল্টো হিন্দুরাই নির্যাতিত হয়ে আসছে। কোনো কিছু না করেও হিন্দুরা ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় আছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সব সরকারের কাছেই জানিয়েছি। এই সরকারের কাছেও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এক প্রশ্নের জবাবে ইসকন সাধারণ সম্পাদক বলেন, দুর্গা পূজাসহ ধর্মীয় উৎসবে কড়া নিরাপত্তা দেয় হয়। সমানে-পিছনে মিলিটারি, পুলিশ, আনসার থাকে। আমরা এমন নিরাপত্তা চাই না। মন-প্রাণ খুলে এবং শঙ্কামুক্ত পরিবেশে পূজা-উৎসব করতে চাই।
লিখিত বক্তব্যে চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী আরো বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, ইসকন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একটি অরাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সংগঠন, যা সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সহনশীলতা ও মানবকল্যাণে নিবেদিত। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সর্বজীবে দয়া, প্রেম, সেবা ও অহিংস নীতির বাণী অবলম্বন করে ইসকন বাংলাদেশ কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই ঈশ্বরের সৃষ্টি এবং পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনই আমাদের নীতি। এজন্য ইসকন দুর্যোগকালে আর্তজনের মধ্যে উদারতার সঙ্গে ত্রাণকার্য ও সামাজিক সহায়তা পরিচালনা করে আসছে যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। অতএব, রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা সহিংসতার মতো বেআইনী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইসকনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ ধরনের অবাঞ্ছিত ঘটনা রোধে সরকার ও প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেয়া এবং একইসঙ্গে নিরীহ জনসাধারণ যেন কোনো হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী। পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা এবং যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রবাহরোধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান। শান্তি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ বজায় রাখার জন্য ইসকন বাংলাদেশ সবসময় জনগণের পাশে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত মঙ্গলবার ওসমান আলী নামে হাজারী গলির এক ব্যবসায়ীর দেয়া ইসকনবিরোধী ফেসবুক পোস্ট ঘিরে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে কোতোয়ালি থানার এসআই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা ও অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগে ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। একই দিন ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় পোস্ট শেয়ারকারী ওসমান আলীকে। পাশাপাশি হিন্দু ধর্মের ৮২জনকে আটক করা হলেও ৪৯জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
