অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ২০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:৩৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বলে জানিয়েছেন ইউএসএইড’র প্রতিনিধি অঞ্জলি কর। রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান তিনি।
এর আগে রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পৌঁছায় এ প্রতিনিধি দল। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি।
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস সামাজিক প্ল্যাটফর্মে দেয়া এ সংক্রান্ত পোস্টে বলেছে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে ভালো লেগেছে। আমরা আমাদের অংশীদার বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে মার্কিন প্রতিনিধি দলটি দুদফায় ঢাকা পৌঁছায় গতকাল শনিবার। এদিন সকালে প্রথম দফায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব দপ্তরের ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি ব্রেন্ট নেইম্যানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের দলটি ঢাকায় আসে। এরপর বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দিল্লি থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু। সবমিলিয়ে ৬ সদস্যের মার্কিন প্রতিনিধি দল এলেও মূল কৌতূহল ডোনাল্ড লু’কে নিয়ে। সর্বশেষ গত কিছুদিন ধরে ঘন ঘন ঢাকা সফর করে যাওয়া ডোনাল্ড লু এবার কী আলোচনা করবেন সেটা নিয়েই নানা বিশ্লেষণ হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুুক একজন সরকারি কর্মকর্তার মতে, ডোনাল্ড লু ওয়াশিংটন থেকে গত ১০ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করে দিল্লি এসেছেন। এরপর সেখানে ‘টু প্লাস টু’ শীর্ষক এক বৈঠকে যোগদান করেন। সেই বৈঠক সেরে গতকাল শনিবার ঢাকায় এসেছেন। তার মতে, ওয়াশিংটন সরাসরি ঢাকায় আসে না, দিল্লি হয়ে আসে। গত ডিসেম্বরেও ডোনাল্ড লু দিল্লি এসেছিলেন এবং ‘টু প্লাস টু’ শীর্ষক বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। এরপরই জানুয়ারিতে বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন হয়েছিল। এবারো তিনি দিল্লিতে ‘টু প্লাস টু’ শীর্ষক বৈঠক সেরে এসেছেন।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের মানবাধিকার, গণতন্ত্র, নির্বাচন ও সুশাসন নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে বেশ সরব অবস্থানের জানান দেয় ওয়াশিংটন। তবে তাতে গুরুত্ব দেয়নি শেখ হাসিনা সরকার। আর এতে করে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক যেমন তলানিতে গিয়েছে; তেমনি ভিসানীতির মতো কিছু শাস্তিও পেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন। সরকার পতনের তিন দিনের মাথায় ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। নতুন সরকার গঠনের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অভিনন্দন জানিয়েছে।
পাশাপাশি দেশ গঠনে ড. ইউনূসকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। আর ইউনূস সরকারও দায়িত্ব নেয়ার পর মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে অগ্রাধিকার দিয়ে গুমবিরোধী সনদে সই করেছে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার উৎসাহের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা করবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
