×

জাতীয়

দেশে বিনিয়োগ ‘স্থগিত করেছে’ কোকা-কোলা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩৩ পিএম

দেশে কোকাকোলার চাহিদা দিন দিন অবনতির দিকে। ফিলিস্তিনে ইসারায়েলের আগ্রাসনের কারণে মানুষ এখন কোকাকোলাকে বয়কট করেছে। এছাড়াও  এ বছরের বাজেটে কোমল পানীয়তে কর বাড়ানোর কারণে পুরনো এই কোম্পানিটি দেশে বিনিয়োগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

নতুন বাজেটে বেভারেজ শিল্পে শুল্ক-কর বাড়ানোয় নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত করেছে কোকা-কোলা বাংলাদেশ বেভারেজ লিমিটেড। শিল্পের বিকাশের জন্য ১৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে বর্ধিত করহার এবং শুল্ক বিবেচনা করে ভবিষ্যতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কোকাকোলা কোম্পানি।

কোকাকোলার বিনিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিতের তথ্য জানিয়ে কোমল পানীয়র ওপর বিদ্যমান শুল্ক-কর কমাতে ও অযৌক্তিক হারে পণ্যটির ওপর রাজস্ব না বসাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। গত ২ জুলাই বিডার পরিচালক মু. জসিম উদ্দিনের সই করা চিঠিটি এনবিআর চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, কোকা-কোলার পাশাপাশি স্প্রাইট, ফান্টা এবং কিনলে উৎপাদন ও বাজারজাত করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ খাতে বিগত ২০২০-২১ অর্থবছরে এক হাজার ৭২ কোটি টাকা ও ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। সবশেষ (২০২৩-২৪) অর্থবছরে পানীয় খাত থেকে রাজস্ব আদায় কমেছে ২০ শতাংশ।

সম্প্রতি ১৩ কোটি মার্কিন ডলারে কোকা-কোলা বাংলাদেশ বেভারেজ লিমিটেড (সিসিবিবি) অধিগ্রহণ করে তুর্কি কোম্পানি কোকা-কোলা আইসেসেক (সিসিআই)।

শুল্ক-করের কারণে দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের গণহত্যার কারণেও বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের মানুষ কোকা-কোলাসহ অনেক পণ্য বয়কট করছে। এ কারণেও দেশে কোকা-কোলার বিক্রি কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় কোম্পানিগুলোর উৎপাদিত কোমল পানীয়র বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে পানীয় বিক্রির ওপর ৩ শতাংশ ন্যূনতম কর ধার্য করে ।যা আগে ছিল শূন্য দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। এটি চালুর সঙ্গে বিদ্যমান মোট করহার বেড়ে হয়েছে ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ। ক্রমবর্ধমান কর বাড়ার কারণে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এতে পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরকারের রাজস্ব সংগ্রহকেও যা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছে।

চিঠিতে বিডা জানায়, বর্তমান নিম্নমুখী ব্যবসায়িক অবস্থা বিবেচনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে আগে আরোপিত ন্যূনতম কর ৩ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ না কমিয়ে বরং সম্পূরক শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০ শতাংশ। এ করহার বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে মোট করহার হবে প্রায় ৫৩ শতাংশ। অন্য শিল্পের তুলনায় এ করহার সর্বোচ্চ। বাজেটে প্রস্তাবিত বর্ধিত করহার এবং শুল্ক বিবেচনা করে আগের বিনিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত কোকাকোলা কোম্পানি।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে কার্বোনেটেড বেভারেজের (কোমল পানীয়) ওপর সম্পূরক শুল্ক ও কর বাড়িয়েছে সরকার। কোমল পানীয় ও আইসক্রিম থেকে চলতি অর্থবছরে বাড়তি ২৫০ কোটি টাকা ভ্যাট আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে এনবিআরের।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App