×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

জাতীয়

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি

আলোচনা বর্জন করে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৪, ০২:৪১ পিএম

আলোচনা বর্জন করে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা

ছবি : ভোরের কাগজ

বিদ্যুৎ বিভাগের লিখিত মাইনর্স প্রতিপালন না করে আলোচনা আহবান করায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এসময় আলোচনা বর্জন করে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সারাদেশে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে এজিএম রাজন কুমার দাস সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়। 

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে একীভূত করে অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের দুই দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। আন্দোলনের চতুর্থ দিনেও কর্মবিরতি পালন করছে সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্মার্ট ও টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিনির্মাণে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসমূহকে একীভূতকরণসহ অভিন্ন চাকুরিবিধি বাস্তবায়ন এবং সকল চুক্তিভিত্তিক বা অনিয়মিত কর্মচারীদের চাকরি নিয়মিতকরণের দাবিতে গত ১ জুলাই থেকে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে পূর্বের ন্যায় জরুরি বিদ্যুৎ সেবা সচল রেখে কর্মবিরতি চলমান রয়েছে। 

আরো পড়ুন : সুপ্রিম কোর্ট কি আন্দোলন দেখে বিচার করবে: প্রশ্ন প্রধান বিচারপতির

একই দাবিতে গত ৫ মে কর্মবিরতি শুরু হলে বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেয়া হয়। গত ১০ মে বিদ্যুৎ বিভাগের মাননীয় সিনিয়র সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মহোদয়ের উপস্থিতিতে আলোচনায় বসা হয়। তিনি যৌক্তিক যে কোনো দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে শর্ত সাপেক্ষে কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়।

শর্ত দুইটি হলো, এই ইস্যুতে বরখাস্ত, সংযুক্ত, স্ট্যান্ড রিলিজকৃত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অব্যাহতি দিয়ে স্ব স্ব কর্মস্থলে পুনর্বহাল করতে হবে। এবং প্রত্যেক স্তরের এমপ্লয়ির প্রতিনিধিসহ ১৫ দিনের মধ্যে দাবি-দাওয়া সংক্রান্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

উক্ত আলোচনা সভায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রতি কোনো আস্থা নাই মর্মে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ হতে জানানো হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ হতে সুষ্ঠু সমাধানের দায়িত্ব নেন। এসময় বরখাস্ত কর্মকর্তাসহ সকলকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয়কে নির্দেশনা প্রদান করেন। পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির হাজার ৫৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষরিত প্রস্তাবনা বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও প্রস্তাবনার আলোকে আলোচনা বা কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয় নাই।

এছাড়া সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাময়িক বরখাস্তকৃত দুইজন এবং স্ট্যান্ড রিলিজ থাকা দুইজন কর্মকর্তাকে অদ্যাবধি অব্যাহতি দিয়ে নিজ কর্মস্থলে পুনর্বহাল করা হয় নাই। বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিকবার বাপবিবো এর চেয়ারম্যান মহোদয়ের শরণাপন্ন হলেও তিনি আমাদের সাথে দেখা করেন নাই।

এমনকি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এই ইস্যুতে প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা হয়রানির উদ্দেশ্যে কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের তালিকা সংগ্রহ করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্ত অমান্য করে গত ৮ জুন ভিন্ন প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জিএমগণ ঢাকাতে একটি সভা করে একটি কমিটি গঠন করে, যা শুধুমাত্র সিনিয়র জিএম/জিএম মহোদয়গণের নিজস্ব বক্তব্য এবং ১০ মে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের বরখেলাপ।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক এই নিয়ম বহির্ভূত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দেয়া হয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড গত ২২ জুন ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বোর্ড সভাপতি মহোদয়গণকে নিয়ে ঢাকাতে আরো একটি সভা করে আন্দোলনকে প্রতিহত করার জন্য বিভিন্ন উষ্কানিমূলক নির্দেশনা প্রদান করেন, যা বিদ্যুৎ বিভাগের লিখিত সিদ্ধান্তের সাথে সাংঘর্ষিক।

সমস্যা সমাধানের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করে গ্রাহক ও সমিতির মত প্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ন করে জবাবদিহিতার বাহিরে গিয়ে গ্রাহক ও সমিতিকে ব্যাপকভাবে শোষণ করা জন্য ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আইন ২০১৩’ এর কিছু ধারা সংশোধন ও সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়াও গত ১৫ ডিসেম্বর সমিতির কর্মচারী চাকুরি বিধি যুগোপযোগী করার নিমিত্তে একটি কমিটি গঠিত হলেও আজ পর্যন্ত তার কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি জানা যায়নি। ঠিক একইভাবে চলমান বৈষম্যগুলোর ব্যাপারে বিভিন্ন সময় প্রতিক্রিয়া দেখালে এরকম ডজনখানেক কমিটি গঠিত হলেও কোনোটাই আলোর মুখ দেখেনি। 

সামগ্রিক বিষয়ে কোনো সুরাহা না পাওয়ায় এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রতিনিয়ত সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি তাদের নীল নকশার অংশ হিসেবে চলতি দায়িত্ব থেকে নিয়মিত না করা, ভবিষ্যতে পদোন্নতি আটকে দেয়া, হয়রানিমূলক বদলি করা ইত্যাদি হুমকি-ধামকির মাধ্যমে হয়রানি বৃদ্ধি করায় দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি পুনরায় কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, কর্মসূচী ঘোষণার পর বাপবিবো কর্তৃক বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মহোদয়কে প্রধান অতিথি করে আগামী ৫ জুলাই সভা অনুষ্ঠানের একটি দপ্তরাদেশ জারি করা হয়। যেখানে বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সিনিয়র জিএম/জিএম ও সমিতির বোর্ড সভাপতিগণের সাথে সভা এবং কমিটি গঠনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।  

সমিতির জন্য বাপবিবো’র চরম বৈষম্যমূলক পলিসি প্রণয়ন, নিম্ন-মানের মালামাল দিয়ে ভঙ্গুর বিতরণ ব্যবস্থা নির্মাণের মাধ্যমে গ্রাহক হয়রানি করা, দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা, সর্বোপরি সমিতি ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং উপর্যুক্ত ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে আরইবির প্রতি সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আস্থা হারায়।

এমতাবস্থায়, যেহেতু বাপবিবো বৈঠকের সকল সিদ্ধান্ত অমান্য করা হয়েছে, আলোচনায় বসতে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে অনীহা জ্ঞাপন করা হলো। উক্ত আলোচনা সভায় কেউ অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক নয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App