×

জাতীয়

সংসদে অর্থবিল পাস

১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৪, ০৯:১৫ পিএম

১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ

ছবি: সংগৃহীত

১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রেখে এবং কতিপয় সংশোধনী গ্রহণ করে সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে অর্থবিল-২০২৪ পাস হয়েছে। এছাড়া এমপিদের গাড়ি আমদানীতে ২৫ শতাংশ করারোপের বিষয়ে সরকারী দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবুল হাসান মাহমুদ আলী। আবার খাদ্য নিরাপত্তায় বাজেটে ১৭ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থবিল-২০২৪ পাসের প্রস্তাব করে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। সেটি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ভোটে দিলে স্থিরিকৃত আকারে তা পাস হয়ে যায়। রবিবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পাস হবে।

বিলে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু অর্থবছরের জন্য আর্থিক বিধান, বিদ্যমান কতিপয় আইন সংশোধনসহ কর প্রস্তাবসমূহ অনুমোদন করা হয়েছে। এর আগে গত ৬ জুন প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ এবং বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের কর অবকাশসহ ৮টি কর সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এছাড়া বেশকিছু খাতে কর ও ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। 

অর্থমন্ত্রী অর্থবিলের উপর আনীত সংশোধনী তালিকার কয়েকটি প্রস্তাব গ্রহণ করেন। বাকী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। অর্থমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ,  ব্যাংকসুদের হার বাজারভিত্তিক ও নীতি সুদহার প্রবর্তন করা হয়েছে। ডলারের দাম স্বাভাবিক রাখতে ক্রলিংপেগ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। নতুন অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

আরো পড়ুন: গুলশান-বারিধারায় লোডশেডিং দিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

তিনি বলেন, এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সব সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ১১ টি পদক্ষেপ পূরণে বাজেটে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি,  জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলা ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ হলে ২০৪১ সালের মধ্যে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ৫০০ ডলার। দারিদ্র্য শূণ্যের কোঠায় নেমে আসবে। খাদ্য নিরাপত্তায় টিসিবির মাধ্যমে কোটি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা, ওএমস কার্যক্রম চালু রাখা ও সামাজিক সুরক্ষার আওতায় খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে।

বিলে অর্থনৈতিক অঞ্চল কর অবকাশ সুবিধা বহাল, অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্কে মূলধনি যন্ত্র আমদানি শুল্কমুক্তই থাকছে। অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের বাজেটে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে ১ শতাংশ শুল্কারোপের প্রস্তাব করেছিলেন তবে রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে সরকার দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলোতে বিনিয়োগে কর অবকাশ সুবিধার কথা জানিয়েছিলো সরকার। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দাবির মুখে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে মূলধনি যন্ত্রপাতির ওপর ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব থেকে সরে আসছে সরকার। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এই শুল্কারোপের কথা বলেছিলেন। পরে ব্যবসায়ীরা তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। 

এছাড়া ২৯ মে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এনবিআর বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের কর অবকাশসহ ৮টি কর সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়। ১০ বছর মেয়াদি কর অবকাশ সুবিধা তুলে নেয়ার ফলে শিল্পভেদে কোম্পানিগুলোর আয়ের ওপর করহার ২০-২৭.৫ শতাংশ বা এরও বেশি প্রযোজ্য হওয়ার কথা। এছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় কারিগরি সহায়তাকারী হিসাবে কর্মরত বিদেশিদের প্রথম তিন বছরের বেতনের ওপর ৫০ শতাংশ আয়কর ছাড় পেত। সেটিও বাতিল করা হয়। এসব অঞ্চলে স্থাপিত কোম্পানির ১০ বছরের জন্য লভ্যাংশ, মূলধনি আয়, রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নো-হাউ এবং কারিগরি সহায়তা ফির ওপরও ১০ বছরের কর অব্যাহতি ছিলো, এগুলোও বাতিল করা হয়। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের চাপে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কর অবকাশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। অর্থাৎ বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীরা আগের মতোই কর অবকাশ সুবিধা পাবে। এছাড়া কালো টাকা সাদা করার ট্যাক্স অ্যামনেস্টি বা বিশেষ সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা এবং বর্গমিটার প্রতি নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে প্লট-ফ্ল্যাট রিটার্নে প্রদর্শনের সুযোগ থাকছে।

আরো পড়ুন: বিরোধীদলীয় নেতা কালো টাকা সাদা করেছেন কিনা খোঁজ নিতে হবে

প্রতিবছর বাজেটে অর্থ আইনের মাধ্যমে সরকার আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস আইনে পরিবর্তন এনে থাকে। সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় পেনশন বাবদ যেকোনো আয় এবং পেনশন স্কিমে প্রদত্ত যেকোনো পরিমাণ চাঁদা করের আওতামুক্ত থাকবে। কোম্পানি, তহবিল ও ট্রাস্ট কর্তৃক অর্জিত মূলধনি আয়ের উপরও ১৫ শতাংশ কর বসছে। এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটে কেবল ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই বিধান রাখা হয়েছিলো। একাধিক গাড়ির ক্ষেত্রে ব্যক্তিকে পরিবেশ সারচার্জ দিতে হবে, কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির জন্য এই বিধান প্রযোজ্য হবে না বলে অর্থবিলে সংশোধন আনা হয়েছে।

বিল পাসের প্রক্রিয়ায় জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবনার ওপর আলোচনায় অংশ নেন মো. হামিদুল হক খন্দকার, হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, পংকজ নাথ, খান আহমেদ শুভ, আবুল কালাম, মো. আহসানুল হক চৌধুরী প্রমুখ। 

উল্লেখ্য, গত ৬ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। সুখী সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মানের অঙ্গীকার শিরোনামে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা বেশি। এতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৭৫ ভাগ এবং মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App