সংসদে এমপিরা
শেখ হাসিনার জাদুকরী নেতৃত্বে দেশে আজ ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৪, ১১:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনার জাদুকরী নেতৃত্বে ফলে দেশে আজ ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে, অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে। পাকিস্তান আমাদের দিকে তাকিয়ে হাহুতাস করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। আজকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজার সহিংসতা হচ্ছে, পৃথিবী আজ টালমাটাল, এসমস্ত কারণে সমগ্র বিশ্ব আজ মূল্যস্ফীতিতে আক্রান্ত। তার পরেও প্রধানমন্ত্রীর নানা উদ্যোগের কারণে আমাদের মূল্যস্ফিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সরকার দলীয় এমপিরা।
বুধবার (২৬ জুন) প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় এসব কথা বলেন এমপিরা। এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পরে ডেপুটি স্পিকার সভাপতিত্ব করছিলেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, অনেক সমালোচক বলে বেড়াচ্ছে এই বাজেট উচ্চাভিলাষী, এ বাজের বাস্তবায়ন অযোগ্য, জনবিরোধী দিকনির্দেশনা নেই। যদি বাজেটে দিক নির্দেশনা না থাকতো তাহলে দেশে দারিদ্র্যতা ৪৮ শতাংশ থেকে ১৮.৫ শতাংশে কেন নেমে আসলো। অতিদারিদ্র্যতাও ২৫ থেকে ৫ শতাংশে নেমে আসছে। ১০ কোটি মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে আনা হয়েছে। আমরা একটি মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাদুকরী নেতৃত্বে ফলে দেশে আজ ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে দেশে বিদেশে, নির্বাচনটা যাতে না হয়-বানচাল করার প্রতিহত করার চেষ্টা হয়। সেটাতে ব্যর্থ হয়ে এখন তারা সরকারের যাতে গ্রহণযোগ্য না হয় সেজন্য বিএনপিসহ তাদের সহযাত্রী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চেষ্টা করেছে, কিন্তু সব ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে ট্যাক্স দেয়া মানুষের সংখ্যা তেমন বাড়েনি। ট্যাক্স ও জিডিপির অনুপাত বেশ কম। ট্যাক্স ধার্য করার জন্য তিনি ১০০ টাকা দিয়ে ট্যাক্স ফাইল করার দাবি জানান। সবার জন্য অন্তত ৫০ টাকা হলেও ট্যাক্স ফাইল করার বিধান জারি করার কথা বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
হাছান মাহমুদ বলেন, এবারের বাজেটে দিকনির্দেশনা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য প্রচেষ্টা আছে, এ বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এ বাজেটে নিত্যপণ্য আমদানির জন্য উৎসে কর কমানো হয়েছে। বড় বাজেট বাস্তবায়নের ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি হচ্ছে, দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। এসময় তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির তুলনা দিয়ে বলেন, ২০০৮ সালে মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ৬০০ ইউএস ডলার, বিএনপির সময় ছিল ৫৪৩ ডলার। আজকে মাথাপিছু আয় ২৮০০ ইউএস ডলারের কাছাকাছি। তিনি বলেন, আজকে সমালোচনার জন্য দেশে সব ধরনের বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ আছেন, তারা বিশেষ কারণে অজ্ঞ বিশেষজ্ঞ, বিশেষ উদ্দেশ্যে অজ্ঞ বিশেষজ্ঞ। আজকে ভারত ও পাকিস্তান কিন্তু আমাদের উন্নয়নের প্রশংসা করে।
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন,সংসদ সদস্যদের নির্বাচনের আগে যেভাবে নির্বাচন কমিশনে সম্পদের বিবরণী দিতে হয় সেভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরিতে ঢোকার আগেও সম্পদের বিবরণী দেয়া বাদ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি যে ব্যবস্থায় দুনীতি হচ্ছে সেই ব্যবস্থারও একটা পর্যালোচনার প্রস্তাব করেন তিনি।
১৭ হাজার লোক কেন মালয়েশিয়ায় যেতে পারেনি তার জবাব চেয়ে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, আজকে ১৭ হাজার লোক মালয়েশিয়ায় যেতে পারেনি। দিতে হয়েছে ১০০ মিলিয়ন ডলার। কি হচ্ছে কেউ কোনো কিছু জানে না। এই যে ১৭ হাজার লোক যেতে পারলো না এটা নিয়ে কোনো কথা নেই। এই লোকগুলো যারা জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছে তাদের টাকা কোথায় গিয়েছে এটার মধ্যে কারো কোনো আগ্রহ নেই। এইভাবে একটা দেশ চলতে পারে না, এইভাবে একটা দেশের উন্নয়ন আসতে পারে না। দুনীতির সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনা আমরা দেখেছি চিন্তাই করা যায় না। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যারা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্ব দেয় তাদের বিরুদ্ধে দুনীতির অভিযোগ এসেছে। দুনীতির অভিযোগ ১০০ কোটি টাকার না হাজার হাজার কোটি টাকা। উনারা এয়ারপোর্ট দিয়ে চলে গেছেন। কত লোককে এয়ারপোর্টে থামানো হয়েছে, যেতে দেওয়া হয়নি, পরে কোর্টের পারমিশন নিয়ে যেতে হয়েছে। আজকে বলা হচ্ছে কোর্টের পারমিশন ছিলো তাই তারা চলে গেছে। কেন আপনারা এয়ারপোর্টে রোক বন্ধ করেননি যাওয়া, কিভাবে গেলো। আজকে যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে এ অবস্থায় একটি দেশ চলতে পারে না। বছরের পর বছর তারা এগুলো করেছে, তারা কি দেখেছে, তাদের কাজ কি, এই সংস্থাগুলোর সামনে কি দুনীতির কোনো ছাপ পড়েনি। আজকে সময় এসেছে এই দুনীতি নিয়ে, এই ব্যবস্থা নিয়ে একটা পর্যালোচনা করার। কেন, যারা দুনীতি করেছে তাদের শাস্তি চাই কিন্তু সাথে সাথে যে ব্যবস্থায় এই রকম দুনীতি হতে পারে সেই ব্যবস্থার একটা পর্যালোচনা দরকার। সেইখানে আমি মনে করি একটা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন করা উচিত।
মতিয়া চৌধুরী বাজেটের প্রশংসা করে বলেন, এবারের বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য এবং বাজেট বাস্তবায়িত হলে দেশের উন্নয়ন ঘটবে। তিনি এনবিআরের ওপর যে ট্যাক্স আদায়ের টার্গেট দেয়া হয়েছে তা পূরণে ট্যাক্স দাতার সংখ্যা বাড়ানো, সামাজিক নিরাপত্তা খাত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানোর দাবি জানান।
প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলো আলোচনায় আরো অংশ নেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বর্ষীয়ান এমপি (স্বতন্ত্র) আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, এমপি আশেক উল্লাহ রফিক, মজিবুর রহমান মজনু, আবুল কালাম, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া, ড. বীরেন শিকদার, সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, রুমা চক্রবর্তী, কাজী নাবিল আহমেদ, জাপার এমপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, রুনু রেজা, শরীফ আহমেদ, শাজাহান ওমর, এম আবদুল লতিফ, বিএম কবিরুল হক, খালেদা বাহার বিউটি প্রমুখ।
