×

জাতীয়

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

খেতে খেতেই ফাঁসির আদেশে স্বাক্ষর করতো জিয়া

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৪, ০৬:৩৫ পিএম

খেতে খেতেই ফাঁসির আদেশে স্বাক্ষর করতো জিয়া

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খুনি জিয়া তো রক্তাক্ত হাতেই খাবার খেতে বসতেন এবং খেতে খেতেই ফাঁসির আদেশে স্বাক্ষর করতেন। 

বুধবার (২৬ জুন) জাতীয় সংসদে এমপি আসাদুজ্জামান আসাদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদে সভাপতিত্ব করছিলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ঢাকা নগর ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজ বাবু জিয়ার আমলে গুম হয়ে যায়, জিয়ার পেটোয়া বাহিনীর হাতে নিহত হয় চট্টগ্রামের মৌলভি সৈয়দ, যুবলীগের মুনিরসহ আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী। জিয়া ইনডেমনিটি জারি করে জাতির পিতার খুনিদের রক্ষা করেছে, বিদেশে বাংলাদেশি মিশনে চাকুরি দিয়ে পুনর্বাসন করেছে। খালেদা জিয়ার ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, বিদেশিদের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আরোহণ, ২০০৬ সালে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করে ১/১১ এর মত রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। ওরা কখনোই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় আসতে পারে নাই। এমনকি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কখনোই ক্ষমতা হস্তান্তর করে নাই। 

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর জন্ম হয়েছিল বন্দুকের নল দিয়ে রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমানের হাতে। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করে একাধারে সেনা প্রধান ও রাষ্ট্রপতির পদ দখল করেন। ইতিহাসের এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ডে জিয়ার সংশ্লিষ্টতা ছিল। খুনি ফারুক-রশিদরা আগে যা থেকেই জাতির পিতাকে হত্যার পরিকল্পনা করে- যেটা জিয়া জানতো। অথচ জাতির পিতাই মেজর জিয়াকে ১৯৭২ সালে কর্নেল এবং ১৯৭৩ সালে ব্রিগেডিয়ার এবং একই বছরে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতির চেয়ারে নিজেকে আজীবন আসীন করে রাখার বাসনা নিয়ে আইয়ুব খানের অনুকরণে সেনাছাউনিতে বসে দলছুট রাজনীতিবিদদের নিয়ে বিএনপি গঠন করে। 

আরো পড়ুন: তারেককে ফেরাতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চলমান রয়েছে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩১শে অক্টোবর দালাল আইন বাতিল করে সাজাপ্রাপ্ত ১১ হাজার স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার ও আলবদরকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেয়। যুদ্ধাপরাধী দল জামাত ও যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়। যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি নাগরিক গোলাম আজমকে দেশে ফিরিয়ে এনে এবং স্বাধীনতাবিরোধী শাহ আজিজ ও আলীমকে মন্ত্রী বানিয়েছে। জিয়ার সাড়ে ৫ বছরের শাসন আমলে ২১টি ক্যু ও পাল্টা-ক্যু হয়। অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল তাহেরকে সে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছিল।

২০০১ সালে নৌকায় ভোট দেবার অপরাধে ভোলার চর অন্নদা প্রসাদ গ্রামে এক রাতে শতাধিক নারী ও শিশুকে ধর্ষণ করে। স্বামীকে বেধে রেখে তার চোখের সামনে ৫ মাসের অন্তঃসত্তা সাবিত্রিকে বেঁধে রেখে গণর্ধন করা হয়। এমনকি পঙ্গু শেফালিও রক্ষা পায়নি। নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে গফরগাঁয়ের বেদানাকে দুদিন আটকে রেখে গণধর্ষণ করে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, বরিশাল, নড়াইল, পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ সারাদেশে হত্যা, ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, দখল, মামলা, হামলা ও নির্যাতন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। বিএনপি জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ, বাংলা ভাই ইত্যাদি সৃষ্টি করে দেশব্যাপী সন্ত্রাসী তাণ্ডবলীলা চালাতে থাকে। আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালিপাড়ায় আওয়ামী লীগের জনসভাস্থলে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা এবং ৮৪ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রেখেছিল। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করে। আল্লাহতা'লার অশেষ রহমতে আমি প্রাণে বেঁচে গেলেও জীবন দিতে হয় আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ জন নেতা-কর্মীকে, পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন এবং অনেককেই পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়। শুধু আমার উপরেই ১৯ বার হত্যাচেষ্টায় হামলা করেছে। আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী এসএএমএস কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টার এমপি, সাবেক এমপি মমতাজ উদ্দিনসহ ২১ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। 

সংসদ নেতা বলেন, ১৯৭৮ সালের জুনে তার নির্বাচন সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অসাংবিধানিক ছিল। ব্যাকডেটে সই করে সে তার সমস্ত প্রমোশন নিয়েছিল। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে বারবার আমাদের পবিত্র সংবিধান কাটাছেঁড়া করেছিল। জিয়ার নির্দেশে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা স্বাধীন দেশের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। খুনি জিয়ার মানুষ হত্যার নমুনা দিয়েছিলেন অ্যান্থনী মাসকারেনহাস তাঁর  বাংলাদেশ এ লিজেসি অব ব্লাড বইতে। যেখানে তিনি লিখেছিলেন, সরকারি হিসাবমতে জিয়া ১৯৭৭ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র দু’মাসের মধ্যে ১১৪৩ জন সৈনিককে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছিল। খুনি জিয়ার উত্তরসূরি স্বৈরশাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদও একই কায়দায় দেশ শাসন করেছিল।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App