×

জাতীয়

সরকার নিরাপদ নৌযান ও নদী দূষণমুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৪, ০৭:৪১ পিএম

সরকার নিরাপদ নৌযান ও নদী দূষণমুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

ছবি: ভোরের কাগজ

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার নিরাপদ নৌযান ও দূষণমুক্ত নদী গড়ার লক্ষ্যে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশপ্রেম না থাকলে, দেশের জন্য কাজ না করলে এগিয়ে যাওয়া যায় না। ৭৫ এর পর নদ-নদী নিয়ে কোনো সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান কথা বলেনি।

মঙ্গলবার (৪ জুন) ঢাকায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২৪’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় অভ্যন্তরীণ নাবিকদের স্মার্ট কার্ড, সনদ ও সার্ভিস বুক উদ্বোধন করা হয়। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দূষণমুক্ত নদী ও নিরাপদ নৌযান’ এর লক্ষ্যে আমরা এখনো পৌঁছতে পারিনি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা ‘দূষণমুক্ত নদী ও নিরাপদ নৌযান’ এ লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারবো ততদিন আমরা ‘দূষণমুক্ত নদী ও নিরাপদ নৌযান, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে রাখবে অবদান’ এ প্রতিপাদ্যটি ব্যবহার করবো। বিশ্বের অনেক বড় বড় নদী টেমস, হাইমস, রাইন, হান নদী একসময় দূষিত ছিল। এখন সেসব নদীর পানি পান করা যায়। বর্তমান সরকার নিরাপদ নৌযান ও দূষণমুক্ত নদী গড়ার লক্ষ্যে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ২০১৯ সালে নদী দখলমুক্ত করার অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া সাহসে আমরা সফল হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী নদী নিয়ে ভাবেন, নদীর প্রবাহ নিশ্চিত করার কথা বলেন। নৌপথ খননে বঙ্গবন্ধুর সময়ে সংগৃহিত সাতটি ড্রেজারের পর ২০০৮ সাল পর্যন্ত কোনো সরকার ড্রেজার সংগ্রহ করেনি। আওয়ামী লীগ গত তিন মেয়াদে ৪০টি ড্রেজার সংগ্রহ করেছে। আরো ৩৫টি ড্রেজার সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। নদী দূষণমুক্ত করতে গ্র্যাপ ড্রেজার, হপার ড্রেজার সংগ্রহের টেন্ডার চলমান রয়েছে। আমরা সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছি। আমাদের দায়িত্ব স্বাধীনতার সুখ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া। না হলে স্বাধীনতা বিরোধীরা বলতে পারে ১৯৭১-এ ভুল হয়েছে। আমরা সেটি হতে দিবো না। স্বাধীনতার সুখ পাচ্ছি। মানুষ অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান ও চিকিৎসা পাচ্ছে।

আরো পড়ুন: চা দেশের মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা এনে দিতে সহায়তা করছে

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেছেন। আমরা অঙ্গীকার করছি ২০৪১ সালের আগেই দূষণমুক্ত নদী ও নিরাপদ নৌযান করতে পারি তাহলে এই দিবস পালন স্বার্থক হবে। বঙ্গবন্ধু একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রমর্যাদা দিয়েছেন। ৭৫ পরবর্তী সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙ্গে ফেলেছিল। ভিক্ষুকের জাতিতে পরিণত করেছিল। ১৫ আগস্ট এর পর বুড়িগঙ্গাসহ নদ-নদী, খাল-বিল সবকিছু দূষিত করা হয়েছে। ১৯৯৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নদীর নাব্যতা, দখল ও দূষণমুক্ত রাখার কথা বলেছেন। ২০১৯ সালে নদী তীরের অবৈধ দখল মুক্ত করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। কোভিডের কারণে এগিয়ে যেতে পারিনি। ম্যানমেইড বর্জ্য, শিল্প-কারখানার বর্জ্য দূষণমুক্ত করতে কাজ করছি।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর এম মাকসুদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নৌপরিবহন অদিপ্তরের চীফ ইঞ্জিনিয়ার এন্ড শিপ সার্ভেয়ার মনজুরুল কবীর। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মাহফুজুর রহমান এমপি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তফা কামাল, বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান ড. এ কে এম মতিউর রহমান, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাপ) সংস্থার সাবেক প্রধান উপদেষ্টা গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যাপ) সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব উদ্দিন বীরবিক্রম, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ট্যাংকার ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপিত খন্দকার মশিউজ্জামান (রোমেল), বাংলাদেশ কোস্টাল শিপ ওনার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহবুব কবির, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শাহা আলম ও বাংলাদেশ নৌ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর বেপারী। 

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App