×

জাতীয়

ল্যাবএইডের পরিসংখ্যান

ঢাকা বিভাগে ক্যান্সার রোগী ৬৮ শতাংশ

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪, ০৬:১১ পিএম

ঢাকা বিভাগে ক্যান্সার রোগী ৬৮ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত

দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে অসংক্রামক রোগ ক্যান্সার। রাজধানীর ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারে চিকিৎসা সেবা নেয়া ক্যান্সার রোগীদের পরিসংখ্যানও তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। হাসপাতালটিতে গত ৩ বছরে ১ লাখ ৩ হাজার ৬২৭ জন ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৬৮.৬২ শতাংশই ঢাকা বিভাগের। এরপরেই রয়েছে চট্টগ্রাম। বিভাগটি থেকে ১৪ শতাংশ রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছে। উল্লেখযোগ্য রোগী রয়েছে রংপুর ও রাজশাহীতেও। যদিও ঢাকা বিভাগের রোগী বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসপাতালটির অবস্থান ঢাকাতে হওয়ায় এবং এই অঞ্চলে প্রচার প্রচারণা বেশি হওয়ায় এমনটি হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) হাসপাতালটির ১০০০তম সফল সার্জারি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। এসময় হাসপাতালটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) সাকিফ শামীম, পরিচালক মেডিক্যাল সার্ভিসেস এবং অ্যানেস্থেসিওলজির সিনিয়র কনসালটেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আলীম, ব্রেস্ট সার্জন ড. আলী নাফিসা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানের শেষে কেক কেটে ১০০০তম সফল সার্জারি উদযাপন করা হয়। শুরুতে হাসপাতালটি বিশ্বমানের হওয়ার কারণ ও রোবটিক অপারেশন থিয়েটারসহ নানা বিষয় উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আলীম। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতালটির এমডি সাকিফ শামীম বলেন, মাত্র ১ বছর আগে এখানে ওটি-র উদ্বোধন হয়। এই স্বল্পসময়ে সফলতার সঙ্গে ১০০০টি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে হাসপাতালটিতে। ফিরে এসেছে ১০০০টি পরিবারের ম্লান হয়ে যাওয়া মুখের হাসি। এই সফলতা নিঃসন্দেহে আমাদের আরো উজ্জীবিত করবে। এর পেছনে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থেকে শুরু করে নার্স ও স্টাফদের অবদান রয়েছে। আমরাও চেষ্টা করেছি বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করার। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালসহ বিভিন্ন নামকরা হাসপাতালের প্রফেসররা এটি পরিদর্শন করে প্রশংসা করে গেছেন। 

তিনি আরো বলেন, ল্যাবএইড ৪০ বছরের বিশ্বস্ত একটি প্রতিষ্ঠান। আমরাই ২০০৭ সালে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট শুরু করেছিলাম। চিকিৎসার মানোন্নয়নে সামনে আরো অবদান রাখতে চায় ল্যাবএইড। তার বক্তব্যে উঠে আসে ক্যান্সার চিকিৎসায় বাংলাদেশের প্রতিবন্ধকতা এবং তা কাটিয়ে উঠতে কী ধরণের পদপে নেয়া জরুরি।

অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আলীম বলেন, বিগত দিনগুলোতে দেশের অধিকাংশ মানুষ ক্যান্সারের মত দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য পাড়ি জমাতেন বিদেশে। কিন্তু ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালের স্থাপন করা দৃষ্টান্ত অল্পসময়ে অনেক মানুষকে নিজের দেশে চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করেছে। আমরা ব্যাপকভাবে আশাবাদী যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ মানুষের ভরসার এক অনন্য নাম হিসেবে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালের পরিচিতি আরো উজ্জ্বল করবে।

তিনি আরো বলেন, মাত্র ১.২৫ শতাংশ সার্জিক্যাল সাইট ইনফেকশন রেট নিয়ে ১০০০টি অপারেশন সম্পন্ন করে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই হাসপাতাল। যা ভারত, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মত উন্নত দেশের হাসপাতালগুলোর থেকেও কম। ইনফেকশন রেট কম হওয়ার কারণে রোগীকে বেশিদিন হাসপাতালে থাকতে হয় না। 

এছাড়াও ক্যান্সার প্রতিরোধে একজন সাধারণ মানুষের কী ধরণের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং জীবনধারায় কি কি পরিবর্তন আনা জরুরি সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন হাসপাতালটিতে কর্মরত অন্যান্য ডাক্তাররা। ক্যান্সার সনাক্তকরণে স্ক্রিনিং-এর গুরুত্ব নিয়েও হয় বিশেষ আলোচনা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App