×

জাতীয়

আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নারীপক্ষের সঙ্গে থাকবে গণমাধ্যম

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৪, ০৬:১৫ পিএম

আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নারীপক্ষের সঙ্গে থাকবে গণমাধ্যম

ছবি: ভোরের কাগজ

দীর্ঘ ৪০ বছরের পথ চলায় অনেক বিস্তৃত পরিসরে কাজ করেছে ‘নারীপক্ষ’। নারী অধিকার নিশ্চিতকরণ ও নারীর প্রতি সব বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কাজ করে চলেছে সংগঠনটি। তবে ধর্মান্ধগোষ্ঠীর কারণে আগামীর দিনগুলো আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গণমাধ্যমের নীতিনির্ধারকরা নারীপক্ষের সঙ্গে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

নারীপক্ষ’র ৪০ বছরের পথচলার অভিজ্ঞতা নিয়ে গণমাধ্যম নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তারা এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

সোমবার (১৩ মে) সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভাটি সঞ্চালনা করেন নারীপক্ষ’র সভানেত্রী গীতা দাস। সংগঠনের ৪০ বছরের পথচলার অভিজ্ঞতা ও অর্জন নিয়ে উপস্থাপনা দেন সংগঠনের সদস্য ও প্রকল্প পরিচালক সামিয়া আফরীন ও কামরুন নাহার। সভায় ভোরের কাগজ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দৈনিক আজকের পত্রিকার সম্পাদক ড. মো. গোলাম রহমান, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, ডেইলি স্টারের বাংলা বিভাগের সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব ও নাগরিক টিভির হেড অব নিউজ দীপ আজাদ, যুগান্তরের উপ-সম্পাদক আহমেদ দীপু, দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তা সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভায় মুক্ত আলোচনা সঞ্চালনা করেন নারীপক্ষের প্রচার সম্পাদক মাহফুজা মালা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনের আন্দোলন সম্পাদক সাফিয়া আজীম। 

১৯৮৮ সাল থেকে নারীপক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করেছেন উল্লেখ করে স্মৃতিচারণ করে শ্যামল দত্ত বলেন, নারীপক্ষের কাজের পরিধি অনেক বিস্তৃত। নারীপক্ষের স্লোগান হলো সারা পৃথিবীই নারীর জন্য যুদ্ধ ক্ষেত্র। আমার মনে হচ্ছে এই যুদ্ধক্ষেত্রটি এখন আরো ভয়াবহ হয়েছে। আশির দশকে যুদ্ধক্ষেত্রটি পরিচিত ছিলো। এখন পরিচিত-অপরিচিত শত্রুর সঙ্গে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। সমাজের ধর্মান্ধতা ও রক্ষণশীলতা যুদ্ধক্ষেত্রটাকে আরো বেশি ভয়াবহ করে তুলেছে। এটিই হচ্ছে নারীপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে। বেগম রোকেয়া যে স্বপ্ন ১৯০৫ সালে দেখেছিলেন সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন। 

আরো পড়ুন: নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবাসন প্রকল্পের উদ্যোগ নিচ্ছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

শ্যামল দত্ত আরো বলেন, ৪০ বছর আন্দোলনের পর আত্মমূল্যায়ণ দরকার। বাংলাদেশ কি নারী বান্ধব হয়েছে? যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন তাদের রাজনৈতিক দর্শনটা কী? সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সংস্কৃতির কোনো জায়গা আছে বলে মনে হয়না। মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে আপোষ করতে করতে মুক্তিযুদ্ধের যে মূল চেতনা সেটিই বিসর্জন দিয়ে দিয়েছি। এই লড়াই সংগ্রামে গণমাধ্যম নারীপক্ষের সঙ্গে থাকবে। 

ড. মো. গোলাম রহমান বলেন, দেশে ৫২ বছরে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। সামগ্রিক অর্থে যদি আমরা উন্নয়ন করতে না পারি তাহলে পরমুখাপেক্ষি হয়ে থাকতে হবে। সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো প্রয়োজন। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মধ্যে দিয়েই জনসাধারণের মধ্যে নারী আন্দোলনের গুরুত্ব ও ইতিবাচকতা ছড়িয়ে পড়বে।

মুস্তাফিজ শফি বলেন, ৪০ বছরে নারীপক্ষের অর্জন অনেক। প্রয়াত নাসরীন হকের সঙ্গে এসিড সারভাইভারদের নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে তিনি নারী আন্দোলনে তরুণদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।

৪০ বছর ধরে নারীপক্ষের পথ চলাকে সাধুবাদ জানিয়ে গোলাম মোর্তোজা বলেন, নারীপক্ষ একটি গতিশীল সংগঠন। নারীর এগিয়ে যাওয়ায় প্রতিবন্ধকতাগুলো নিরসনে নারীপক্ষ বিস্তৃতভাবে যে ভূমিকা রাখছে তাতে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা পাশে থাকবো।  

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App