×

জাতীয়

খুরশীদ আলম খান

সাংবাদিকদের বাংলাদেশ ব্যাংকে ঢুকতে না দেয়া নেক্কারজনক

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ১০:৩০ পিএম

সাংবাদিকদের বাংলাদেশ ব্যাংকে ঢুকতে না দেয়া নেক্কারজনক

ছবি: সংগৃহীত

দেশের মানুষের তথ্য জানার একমাত্র উপায় গণমাধ্যম। গণমাধ্যমকর্মীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ঢুকতে না পারলে কিভাবে মানুষ দেশের ইকোনোমির তথ্য জানবে? বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ‘নেক্কারজনক কাজ’ হচ্ছে সাংবাদিকদের বাংলাদেশ ব্যাংকে ঢুকতে না দেয়া।

সম্প্রতি ‘ডয়চে ভেলে খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বিষয়ে এক টকশোতে অতিথি হিসেবে আলোচনায় দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকগুলোর রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের মানুষ জানতে চায় দেশের আর্থিক ব্যবস্থা, ব্যাংকগুলো কিভাবে চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাংবাদিকদের ঢুকতে না দিয়ে যেটা করছে আমি বলবো এটা ‘ইম্যাচিউরিট’ সিদ্ধান্ত।

বিশ্বে ব্যাংক মার্জার ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একটা পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। তবে সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মার্জারের পদক্ষেপগুলো ভালো লাগেনি।

আরো পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে পোশাক শিল্পে সঙ্কট বাড়ার শঙ্কা

‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক মার্জার নিয়ে সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে পারেনি। যখন বেসিক ব্যাংক মুভমেন্ট করলো, ন্যাশনাল ব্যাংক বললো ইউসিবি ব্যাংকের সঙ্গে মার্জারে যাবেন না, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কম্পোমাইজ করতে থাকলো।’ 

তিনি বলেন, সুর্পিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির আদালতে সাংবাদিকরা ঢুকে। প্রধান বিচারপতি অথবা অন্য বিচারপতিরা কি কি বলেন এগুলো সাংবাদিকরা শুনেন, রেগুলার এসব বিষয়গুলো পত্রিকায় আসছে।’

“বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে যদি সাংবাদিকদের অবাধে প্রবেশাধিকার থাকে তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কেনো থাকবে না?”

‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের এমন দুর্বল অবস্থা এটা ভুলের মধ্যে দিয়ে হয়নি। নানান অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে এমন পর্যায়ে এসেছে। বেসিক ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংকসহ আরো অনেক ব্যাংক দুর্বল হয়েছে। পি কে হালদার তৈরি হয়েছে, আব্দুল হাই বাচ্চু তৈরি হয়েছে। অবশ্যই এগুলো মানবসৃষ্ট কারণেই হয়েছে। কেউ ঘুষ খেয়েছে, কেউ ঘুষ দিয়েছে, একজন বেনিফেট হয়েছে, ব্যাংকের অফিসাররাও সুবিধা নিয়েছে, এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও দায় রয়েছে।

আরো পড়ুন: হঠাৎ পাচার হওয়া সেই শিশু আদালতে

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনে এখন পর্যন্ত যে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমগুলো ইনভেস্টিগেশন পর্যায়ে রয়েছে তার মধ্যে কয়েকটি ব্যাংক ছাড়া অধিকাংশ ব্যাংকের ক্ষেত্রেই দুর্নীতির অপরাধ রয়েছে।’

খুরশীদ আলম খানের সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংক নিয়ে মার্জারে নেমেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, এর মধ্যে সরকারের যেকোনো পাওয়ারফুল ব্যক্তির তদবিরে মার্জার থেকে সরে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তিনি প্রশ্ন তোলেন ‘চট্টগ্রামের একটি গোষ্ঠীর কাছে দেশের প্রায় ৪ টি ব্যাংক কিভাবে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই ব্যক্তি খুবই পাওয়ারফুল তাকে নিয়ে কথা বলার মতো দেশের কেউ নেই।

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী বলেন, একক গ্রুপের কাছে দেশের ৪ টি ব্যাংক। এ নিয়ে নিয়মিত ইকোনোমিস্টদের রিসার্সে নিয়মিত নামটা চলে আসে। ওই গোষ্ঠীর অধিনে থাকা ব্যাংকগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে কিনা তা দুদক স্কানিং করছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App