×

জাতীয়

থার্ড টার্মিনালের কাজ শেষ পর্যায়ে

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:০১ পিএম

থার্ড টার্মিনালের কাজ শেষ পর্যায়ে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী ৫ এপ্রিল থার্ড টার্মিনালের সব কাজ শেষ করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৬ এপ্রিল বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বুঝে নেবে। এরপর থেকে নানা ট্রায়াল শেষে অপারেশন শুরু করবে এই টার্মিনাল। এর আগে গত বছর ৭ অক্টোবর আংশিকভাবে উদ্বোধন করা হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল (থার্ড টার্মিনাল)।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন এই টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিলো ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর এবং এরপর করোনা মহামারির সময়েও বিশেষ ব্যবস্থায় এ প্রকল্পের কাজ চলমান রাখা হয়েছিলো। ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকায় জাপানের মিৎসুবিশি, ফুজিটা ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং যৌথভাবে টার্মিনালটির নির্মাণ কাজ করেছে এবং এ টার্মিনালকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেলের একটি রুটের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। 

এছাড়া ফ্রান্সের সহায়তায় আধুনিক প্রযুক্তির রাডারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় আকাশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে এ টার্মিনালে। এছাড়া একটি টানেলের মাধ্যমে এই টার্মিনাল থেকে সরাসরি হজ ক্যাম্প ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনের সঙ্গে যাতায়াতের ব্যবস্থার কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

বেবিচকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অপারেশন প্রথমদিন থেকেই নতুন টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের প্রয়োজন হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির কথা বলা হলেও ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। তাই শুরুতে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের কাজ দেয়ার কথা ভাবছে বেবিচক। এমন ইঙ্গিত পেয়ে ইতোমধ্যে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিমান।

তবে বিমান বলছে, স্থায়ীভাবে তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং করতে প্রস্তুত তারা। চূড়ান্তভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার আগে তারা নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করে দেখাবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি হতে হতে জুলাই-আগস্ট হতে পারে। এই চুক্তি হয়ে গেলে তারা টেকওভার করবে। তবে আগস্টে টেকওভার করে অক্টোবর মাসে পুরোপুরি অপারেশনে আনা অসম্ভব। তাই সিভিল এভিইয়েশন বুঝে নিয়ে কাজ শুরু করে দেবে। বিমানকে আপাতত গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের কাজ দিয়ে আমরা শুরু করব।

তিনি বলেন, পুরোনো টার্মিনাল থেকে নতুন টার্মিনালে যেতে একটা প্রক্রিয়া আছে। এই প্রক্রিয়াটা আমরা চালু করেছি। যন্ত্রপাতিগুলোর টেস্ট অ্যান্ড ট্রায়াল ও ক্যালিব্রেশনের কাজ চলছে। ছোটখাটো কিছু ইন্টেরিয়রের কাজ বাকি আছে সেগুলো চলছে। আশা করছি চুক্তি অনুযায়ী ৬ এপ্রিল কাজ বুঝে নেব।

এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগে থেকেই গ্রাউন্ড হ্যান্ডিলিংয়ের কাজ পাওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছিল। তবে নানা অব্যবস্থাপনা ও অভিযোগের কারণে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর জাপানি প্রতিষ্ঠানকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের কাজ দিতে চাচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও শফিউল আজিম বলেন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের পারফর্মেন্স নির্ভর করে এয়ারপোর্ট ফ্যাসিলিটিসের ওপর। যথেষ্ট বোর্ডিং ব্রিজ, বে, পার্কিং এরিয়া, লাগেজ বেল্ট থাকলে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং ভালো হবে। তৃতীয় টার্মিনালে এসব ফ্যাসিলিটি রয়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য বিমানের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও জনবল রয়েছে, জনবলের ট্রেনিংও করানো হয়েছে।

আরো পড়ুন: সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে নাগরিকত্ব পাবে রোহিঙ্গারা!
তিনি বলেন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের কাজ স্থায়ীভাবে কে করবে তা এখনো নির্ধারিত নয়। তবে বিমান বাংলাদেশ যেহেতু শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুই টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং করছে সেই অর্থে তারাই শুরু থেকে তৃতীয় টার্মিনালের কাজ করবে। বিমানের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা আশা করছি, বিমানের পার্ফরমেন্স বিবেচনায় পিপিপি কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে বিমানও চূড়ান্তভাবে এই দায়িত্ব পেতে পারে।

নতুন নির্মিত টার্মিনালটি সম্পর্কে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ

  • টার্মিনালটির যাত্রী ক্যাপাসিটি হবে ১ কোটি ৬০ লাখ। এখন যে দুটি টার্মিনালে আছে তার সক্ষমতা আছে ৮০ লাখ যাত্রী। ফলে তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
  • টার্মিনালটির ফ্লোর আয়তন ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গ মিটার। এর আগের দুটি টার্মিনালের মোট ফ্লোর স্পেস ছিলো ১ লাখ বর্গমিটার।
  • নতুন টার্মিনালে মোট বোর্ডিং ব্রিজ থাকবে ২৬টি, যেখানে আগের দুটি টার্মিনালে মোট ব্রিজ ছিলো ৮টি। একই সাথে নতুন টার্মিনালে মোট ৩৭টি উড়োজাহাজ পার্কিং করা যাবে। আগের দুটিতে রাখা যেতো ২৯টি উড়োজাহাজ।
  • আগে লাগেজ কনভেয়ার বেল্ট ছিলো দুই টার্মিনাল মিলিয়ে আটটি। আর তৃতীয় টার্মিনালে এ ধরণের বেল্ট আছে ১৬টি।
  • আগের দুটি টার্মিনালে মোট চেক ইন কাউন্টার ছিলো ৬২টি আর ইমিগ্রেশন কাউন্টার ছিলো ১০৭টি। তৃতীয় টার্মিনালে আরও যুক্ত হয়েছে চেক ইন কাউন্টার ১১৫টি আর ইমিগ্রেশন কাউন্টার ১২৮টি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App