×

জাতীয়

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন

এখনও নীরবে চলছে ধর্ম ও জাতিগত সংখ্যালঘু নির্যাতন

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৪, ১১:৫১ এএম

এখনও নীরবে চলছে ধর্ম ও জাতিগত সংখ্যালঘু নির্যাতন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলছে। এই সহিংসতার মাত্রা হয়তো অতীতের মতো ভয়াবহ ছিল না, কিন্তু তা সত্ত্বেও যে সহিংসতা হয়েছে তা গণতান্ত্রিক ধারা ও মানবাধিকারের সঙ্গে যায় না। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে মামলা ও নির্যাতন বেশি হয়েছে। নির্বাচনের আগে প্রচারণার সময় ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার ও হামলা শুরু হয়েছিল, এখনও তা নীরবে চলছে। 

‘নির্বাচন, সহিংসতা মানবাধিকার: উত্তরণের পথ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় উত্থাপিত লিখিত বক্তব্যে এই অভিযোগ করা হয়।‌

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত এই সভা অনুষ্ঠিত হয় শনিবার সিরডাপ মিলনায়তনে। সভায় লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন পূজা উদযাপন পরিষদের

সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার। পরিষদের সভাপতি জেএল ভৌমিকের সভাপতিত্বে  সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিজামুল হক ভূঁইয়া, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক শাহরিয়ার কবির, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিদের একজন অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ, বাসুদেব ধর প্রমুখ । 

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, এবারের নির্বাচনে প্রকৃতপক্ষে কোনো বিরোধী দল অংশ নেয়নি। আমরা আশা করেছিলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামি নির্বাচন বর্জন করায় নির্বাচনে ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতা সেভাবে আসবে না। তারপরও আমরা সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিলাম। বাস্তবতা হচ্ছে, এই নির্বাচনও বহু স্থানে বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিশ্চিন্তে ভোট দিতে দেয়নি। আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টির কোনো কোনো প্রার্থী সরাসরি হিন্দু সম্প্রদায়কে হুমকি দিয়েছেন, ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য বলেছেন। পরে বাড়িঘরে হামলা হয়েছে, লুটপাট হয়েছে, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। কিন্তু পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের পরাজিতরা পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। দুঃখজনক হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের ধারার মধ্যেও তাদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তারা কৌশলে গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতাকে পরাজিত করার ষড়যন্ত্র করছে। এই অবস্থা থেকে বেড়িয়ে আসতে না পারলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারবো না। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান শক্তি আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ । অন্যথায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে, অন্ধকারে পথ হারাবে।

মতবিনিময় সভায় বিদ্যমান সমস্যা থেকে উত্তরণের সুনির্দিষ্ট পথ খুঁজে নিতে এবং সে অনুযায়ী সমাজ পরিচালিত করার প্রত্যাশা রাখেন অংশগ্রহণকারীরা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App