×

সংসদ নির্বাচন

৪০ বছর ধরে আগুনে পোড়া রোগীর চিকিৎসা দেয়া সামন্ত লাল স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:৪২ পিএম

৪০ বছর ধরে আগুনে পোড়া রোগীর চিকিৎসা দেয়া সামন্ত লাল স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ৪০ বছর ধরে একটানা আগুনে পোড়া রোগীর চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাওয়া ডা. সামন্ত লাল সেন দেশের পরবর্তী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিনি শপথ নেন। এরপরই নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সামন্ত লাল সেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। 

এবার মন্ত্রীপরিষদের চমক হিসেবে এসেছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি সংসদ সদস্য নন। ফলে তিনি টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। 

শপথ নেয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি আমি মন্ত্রী হবো। এটা আমার কাম্যও ছিলো না। প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর আস্থা রেখেছেন আমি চেষ্টা করব সে দায়িত্ব পালন করতে। সামন্ত লাল সেন বলেন, বুধবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমি ফোন পেলাম। আমাকে বললেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলছি। প্রথমে ভাবছিলাম কোনো রোগী নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলবে। আমি কোনোদিন ভাবিনি যে আমাকে মন্ত্রীপরিষদে ডাকা হবে। এটা জানার পর আমি সত্যি ঘাবড়ে গেলাম। ফোন পাওয়ার পর আমি প্রথমে বিশ্বাস করিনি। আমি মনে করলাম ভুয়া টেলিফোন হবে। পরে যখন টেলিভিশনে দেখলাম তখন নিশ্চিত হলাম। 

অনুভূতির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা নতুন জিনিস, একটা চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর আস্থা রেখেছেন আমি সে আস্থা ধরে রাখতে চেষ্টা করব।

সামন্ত লাল সেন ১৯৪৯ সালের ২৪ নভেম্বর হবিগঞ্জের নাগুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম জিতেন্দ্র লাল সেন, যিনি সরকারি চাকরি করতেন। তিনি সেন্ট ফিলিস হাইস্কুল থেকে ১৯৬৪ সালে মাধ্যমিক ও সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। ১৯৮০ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা থেকে ‘ডিপ্লোমা ইন স্পেশালাইজড সার্জারি’ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে জার্মানি ও ইংল্যান্ডে সার্জারিতে আরও প্রশিক্ষণ নেন। 

সামন্ত লাল সেন এমবিবিএস পাশ করার পর ১৯৭৫ সালে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ঢাকায় বদলি হয়ে শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন। ১৯৮০ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগদান করেন। ডা. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে ঢাকা মেডিকেলে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম বার্ন বিভাগ চালু হয়। সামন্ত লাল সেন এই বিভাগ চালু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে ২০০৩ সালে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির জন্য স্বতন্ত্র একটি ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়।  

তিনি এ ইউনিটের প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অবসরে যান। পরে সরকার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে নিয়োগ দেন। পরে এই ইউনিটটিকে স্বতন্ত্র একটি ইন্সটিটিউটে রূপান্তর করে ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট’ নামে ২০১৯ সালের ৪ জুলাই এখান থেকে চিকিৎসাসেবা প্রদান শুরু হয়। শুরু থেকেই সামন্ত লাল সেনের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পান। সামন্ত লাল সেন ব্যক্তিজীবনে রত্না সেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দেশে বড় কোনো আগুনের ঘটনা ঘটলেই তাদের চিকিৎসার ত্রাতার ভূমিকা রাখেন সামন্ত লাল।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App