×

ময়মনসিংহ

৩০ বছরেও মেলেনি সমাধান

খাদ্য সংকটে হাতি, আতঙ্কে পাহাড়ি জনপদ

Icon

খোরশেদ আলম, শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম

খাদ্য সংকটে হাতি, আতঙ্কে পাহাড়ি জনপদ

ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরের গারো পাহাড়ে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে তিন দশকেও গড়ে ওঠেনি বন্যহাতির খাদ্যভান্ডার বা অভয়ারণ্য। ফলে গত দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দারা। থামছে না মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব। হাতির আক্রমণে যেমন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তেমনি মারা যাচ্ছে হাতিও। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি।

জানা গেছে, ১৯৯৬ সাল থেকে শেরপুরের ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতির উপদ্রব শুরু হয়। এসব এলাকায় প্রায় ৫০টি গ্রামে গারো, হাজং, কোচ, বানাই বর্মণসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। তাঁদের বেশির ভাগই কৃষিনির্ভর ও শ্রমজীবী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দিনের বেলায় হাতির দল গভীর অরণ্যে অবস্থান করলেও সন্ধ্যার পর খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে। কৃষকেরা ক্ষেতের ফসল ও জানমাল রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। ঢাকঢোল, পটকা ও মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করা হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। বরং হাতির দল আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে।

ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয়দের ভাষ্য, হাতি তাড়ানোর জন্য প্রতিটি পরিবারকে কেরোসিন তেল ও টর্চলাইট মজুত রাখতে হচ্ছে। কিন্তু পাহাড়ি এলাকার দরিদ্র মানুষের পক্ষে এটি বহন করা কঠিন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি সহায়তায় টর্চলাইট ও কেরোসিন বিতরণ হলেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা অনেক সময় তা পান না।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যহাতির তাণ্ডবে শত শত একর জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। ধান পাকতে শুরু করলেই বাড়ে হাতির উপদ্রব। ফলে অনেক কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না।

মধুটিলা গ্রামের বাসিন্দা বাদশা মিয়াসহ স্থানীয়রা জানান, ক্ষতিপূরণ পেতে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়। বছরের পর বছর ঘুরেও অনেকে ক্ষতিপূরণ পান না। বিশেষ করে খাসজমি বা বন বিভাগের জমিতে চাষাবাদ করলে ক্ষতিপূরণের সুযোগ নেই।

স্থানীয়দের দাবি, মানুষ-হাতি দ্বন্দ্বে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। জীবিকার তাগিদে কেউ কেউ চুরি, ছিনতাই ও মাদক পাচারের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গারো পাহাড়ে বর্তমানে প্রায় ১২০টি বন্যহাতি রয়েছে। খাদ্য সংকট ও বনভূমি দখলের কারণে হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ভারতের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও বন উজাড়ের কারণেও হাতির দল বাংলাদেশ অংশে আটকে পড়েছে। মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব কমাতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ২৫টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করা হয়েছে। তবে সরকারি সহায়তার অভাবে এসব টিমের কার্যক্রম অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে।

২০১৬ সালে ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীর হাতিপ্রবণ এলাকায় প্রায় ১৩ কিলোমিটার সোলার ফেন্সিং স্থাপন করা হয়। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব বৈদ্যুতিক বেড়া নিম্নমানের কাজের কারণে অল্প সময়েই অকেজো হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শেরপুর জেলা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত দুই যুগে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্বে অন্তত ৩০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছে ৩০টি হাতিও।

ময়মনসিংহ বিভাগের বন কর্মকর্তা কাজি মো. নুরুল করিম বলেন, “গারো পাহাড়ে মানুষ যেমন থাকবে, তেমনি বন্যহাতিরও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব কমাতে ইআরটি টিমগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা যাতে দ্রুত ক্ষতিপূরণ পান, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।”


সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মেট্রোরেলে চালু হচ্ছে বিশেষ ভাড়া ছাড় সুবিধা

মেট্রোরেলে চালু হচ্ছে বিশেষ ভাড়া ছাড় সুবিধা

চলন্ত অবস্থায় ‘অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন

চলন্ত অবস্থায় ‘অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন

২৩ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার

২৩ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার

জাল সনদে আরো ১১৭ শিক্ষকের এমপিও বাতিল, নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা

জাল সনদে আরো ১১৭ শিক্ষকের এমপিও বাতিল, নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App