×

মধ্যপ্রাচ্য

চূড়ান্ত আঘাত হানতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছে সৌদি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

চূড়ান্ত আঘাত হানতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছে সৌদি

ছবি: সংগৃহীত

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি আজ চরম অস্থিরতার মুখে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে এর নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। এমন সংকটময় মুহূর্তে সৌদি আরব এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছে, যা এই যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সৌদি আরবের একটি গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে রিয়াদ সরাসরি যোগ দেওয়ার বিষয়টি আরো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তেহরানের ওপর আক্রমণের তীব্রতা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সৌদি আরবের একটি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

মার্কিন বার্তা সংস্থা নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনকে সমর্থন করে সৌদি গোয়েন্দা সূত্রটি জানিয়েছে, ‘সৌদি আরবের অঘোষিত শাসক ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ মাঝপথে থামিয়ে না দেন। সৌদি আরবের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে নতুন করে সাজানোর একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’।’

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সৌদি যুবরাজের এই ভূমিকার বিষয়ে কিছুটা ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ‘হ্যাঁ, তিনি (এমবিএস) একজন যোদ্ধা। সে আমাদের সঙ্গেই লড়াই করছে।’

এখন পর্যন্ত এই সংঘাতের ময়দানে সৌদি আরবের সরাসরি উপস্থিতির তথ্য নেই। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনা যদি সফল না হয়, তবে রিয়াদ সরাসরি যুদ্ধে যোগ দিতে পারে।

সৌদি ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলহামেদ বলেন, ‘এখন সবকিছু নির্ভর করছে ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর। ইরান যদি শর্তগুলো মেনে নিয়ে আলোচনায় বসে, তবে উত্তেজনা কমানোর পথ খোলা আছে। কিন্তু তারা যদি শর্ত প্রত্যাখ্যান করে হামলা চালিয়ে যায়, তবে সৌদি আরব আর বসে থাকবে না।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘সৌদি আরব হুট করে কোনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না, বরং তারা প্রতিটি পদক্ষেপ বিবেচনা করে দেখছে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধে সৌদি আরব ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলীয় ইয়ানবু তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন আঘাত হেনেছে।

পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি ইরান কার্যত বন্ধ করে দিলেও সৌদি আরব লোহিত সাগরের পাইপলাইনের মাধ্যমে তাদের তেল রপ্তানি সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে ইয়ানবুতে হামলার মাধ্যমে তেহরান মূলত রিয়াদকে এই বার্তাই দিয়েছে যে, তাদের এই বিকল্প 'অর্থনৈতিক লাইফলাইনও' এখন আর নিরাপদ নয়। এছাড়া ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা যদি এই যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যোগ দেয়, তবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।

শিয়া ও সুন্নি বিশ্বের নেতৃত্ব নিয়ে ইরান ও সৌদি আরবের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ২০০৮ সালের একটি গোপন মার্কিন নথি অনুযায়ী, তৎকালীন সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ ইরানকে নির্দেশ করে যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছিলেন, ‘সাপের মাথা কেটে ফেলুন’।

সৌদি নির্বাসিত বিশ্লেষক খালিদ আলজাবরি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিয়াদ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষপাতী ছিলো। কিন্তু যখন যুদ্ধ শুরু হয়েই গেছে, তখন আহত সিংহ (ইরান) আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নীতিটি ছিলো এমন, যুদ্ধ শুরু করবেন না, কিন্তু যদি শুরু করেই ফেলেন, তবে কাজটি শেষ করে তবেই থামুন।’

বিশ্লেষকদের মতে, ‘মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের ওপর বিশাল বিনিয়োগ করেছিলেন এই আশায় যে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কিন্তু ২০১৯ সালে সৌদি তেল স্থাপনায় বড় হামলার পর ট্রাম্প প্রশাসন কেবল মৌখিক সমর্থন দিয়েছিলো, কোনো সামরিক প্রতিশোধ নেয়নি। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই সৌদি আরব চীনের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেছিল যাতে কোনও যুদ্ধে ইরান সরাসরি সৌদি আরবের ওপর হামলা না করে।’

ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস-এর ফেলো এলি গেরানমায়েহ বলেন, ‘এমবিএস তার সব বাজিতেই হেরেছেন। তিনি ট্রাম্পের পরিবার ও হোয়াইট হাউসে বিনিয়োগ করেছিলেন, কিন্তু দিনশেষে দেখা যাচ্ছে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের চাওয়াকে উপেক্ষা করে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ইচ্ছাই প্রাধান্য পাচ্ছে।’

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে ইরানের চূড়ান্ত সামরিক পরাজয় দাবি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত আমিরাতি রাষ্ট্রদূত ইউসেফ আল ওতাইবা এই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, ‘শুধু একটি যুদ্ধবিরতিই যথেষ্ট নয়; বরং ইরানের সব ধরনের হুমকি স্থায়ীভাবে নির্মূল হয়, এমন একটি চূড়ান্ত ফলাফল আমাদের প্রয়োজন।’

সৌদি আরব এখন এক কঠিন সংকটের মুখে। সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে তাদের লোহিত সাগরের বিকল্প পাইপলাইনটিও ধ্বংস হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে। 

গেরানমায়েহ বলেন, ‘বোমা বর্ষণ বন্ধ হলে রিয়াদকে গভীরভাবে ভাবতে হবে। এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে ঠেলে দেওয়া নয়, বরং নিজের হাতে আরও বিকল্প রাখা নিয়ে।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বিমান হামলার টার্গেটে ইরানের দুটি ইস্পাত কারখানা

বিমান হামলার টার্গেটে ইরানের দুটি ইস্পাত কারখানা

ইরানের আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারেনি চীন

ইরানের আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারেনি চীন

বিএনপি নেতার গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি পেট্রল উদ্ধার

বিএনপি নেতার গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি পেট্রল উদ্ধার

‌‘তেল নেই’ লেখা পাম্পে পাওয়া গেলো পৌনে ৯ হাজার লিটার তেল

‌‘তেল নেই’ লেখা পাম্পে পাওয়া গেলো পৌনে ৯ হাজার লিটার তেল

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App