লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় নিহত বেড়ে ৪৯২
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৮:২২ এএম
লেবাননে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ছবি : সংগৃহীত
লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯২ জন। এর মধ্যে ২৪ জন শিশু, ৩৯ জন নারী এবং দুইজন প্যারামেডিক সদস্য রয়েছেন। আহতের সংখ্যা ১৬৪৫ ছাড়িয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর আল জাজিরার।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে হামলা পালটা হামলা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বেশ কয়েক দফায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েল বলেছে, তারা লেবাননে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। গত বছরের ৮ অক্টোবর সংঘাত শুরুর পর প্রতিবেশী দেশে এটাই ইসরাইলি বাহিনীর সবচেয়ে বড় হামলা। হামলায় বিনতে জবেইল, আইতারুন, মাজদাল সেলেম, হুলা, তোরা, কলাইলেহ, হারিস, নাবি চিত, তারায়া, শ্মেস্টার, হারবাতা, লিবায়া ও সোহমোরসহ কয়েক ডজন শহরকে টার্গেট করা হয়েছে। বেশিরভাগ হামলাই চালানো হয়েছে দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে। হামলায় নাবাতিয়েহ ও বেকা উপত্যকা অঞ্চলে বহু বাড়ি, গুদাম ও কারখানায় আগুন ধরে গেছে। লেবানিজ সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু লেবাননের জনগণকে এখনই ক্ষতির পথ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। হিজবুল্লাহ অস্ত্র মজুত করে এমন ভবনগুলো থেকে দূরে সরে যেতে সতর্ক করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বার্তা পাঠিয়েছে।
লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, হামলাটি দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার আলী কারাকিকে লক্ষ্য করে হয়েছে। তবে তিনি নিহত হয়েছেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। হিজবুল্লাহ পরে বলেছিল কারাকি ভালো এবং একটি নিরাপদ স্থানে চলে গেছে। পূর্বে লেবাননের বেকা উপত্যকার বাসিন্দাদের এই এলাকায় ব্যাপক বোমা হামলা চালানোর আগে ইসরায়েল তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
এদিকে, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে ২০০ টিরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অল্প সংখ্যক অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমনভাবে কাজ করছে যাতে মানুষ নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে।
আরো পড়ুন : লেবাননে ভয়াবহ হামলা ইসরায়েলের: একদিনেই ২৭৪ জনের মৃত্যু, আহত ১০২৪
প্রসঙ্গত, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সশস্ত্র ইসলামি রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লার প্রধান ঘাঁটি লেবানন। দেশটির সরকারে এই গোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধি নেই, তবে ক্ষমতার প্রকৃত নিয়ন্ত্রক তারাই। এই গোষ্ঠীটি ইরানের মদদপুষ্ট।
১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হিজবুল্লাহ। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগে আছে গোষ্ঠীটির। তবে এর উল্লম্ফণ ঘটেছে গত বছর ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে। ওই হামলার পর হামাসের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েরের উত্তরাঞ্চলে রকেট-ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া শুরু করে হিজবুল্লাহ। জবাবে ইসরায়েলও সমান তালে হামলা অব্যাহত রাখে।
গত সপ্তাহে লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সদস্যদের ব্যবহার করা হাজার হাজার পেজার ও ওয়াকি-টকিতে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের এই ঘটনায় লেবাননে ৪০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে; যাদের মধ্যে হিজবুল্লাহর অন্তত ১৬ সদস্য রয়েছেন। এই বিস্ফোরণের জন্য ইসরায়েলকে ব্যাপকভাবে দায়ী করছে হিজবুল্লাহ।
সশস্ত্র গোষ্ঠীটির যোগাযোগের যন্ত্রে বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মাঝেই সোমবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় একাধিক শহরে একযোগে বিমান হামলার ঘটনা ঘটল।
