×

সাহিত্য

জিতু আজমাইনের একগুচ্ছ কবিতা

Icon

জিতু আজমাইন

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ০৬:০২ পিএম

জিতু আজমাইনের একগুচ্ছ কবিতা

জিতু আজমাইন, প্রভাষক (বাংলা), নরসিংদী পাবলিক কলেজ

কবিতার নাম - নারী-নদী-নেতৃত্ব
ও নদী তুমি বয়ে যাও
নারীর মত! 
নাকি! নারী সদা খরস্রোতা
তোমার মত?
এ দেশ আমার কথা কয়
নদী ও নারীর মত।
নদী ও নারী কোথাও কি একই সূত্রে গাঁথা!
বলোতো প্রিয় দেশ মাতা?
হ্যাঁ রে পাগল, হ্যাঁ
নদী তো আগলে রাখে ভূমি, মাটি ও কৃষি;
যা দিয়ে আমরা বাঁচি।
নারী যে, এই প্রকৃতির অপরূপা।
ধৈর্য দিয়ে, মায়া দিয়ে স্নেহমাখা আঁচলেতে;
বাঁধিছে সকল অস্পষ্টতা।
নারীর বুকে, নদীর বুকে,
সকল ব্যথা জমা করে;
জন্ম নিলো শত ইতিহাস।
সেই সুরেরই পথ ধরে
আজও আমরা পেলাম খুঁজে,
পদ্মা নদীর বুকটা চিরে;
বিশাল সৃষ্টি পদ্মা সেতুর ইতিহাস।
পদ্মা নদীর পদ্মা সেতু
নয়রে শুধু ইতিহাস।
এ যে নারীর নেতৃত্বের, মাতৃত্বের;
তীব্র পরিশ্রমের বহিঃপ্রকাশ।।
নারী যে আমরা সব পারি
নদীর মত বুকে বিশালতা ধারণ করি।
তাইতো আজ ইতিহাস গড়লো,
নারীর নেতৃত্বে নদীর বুকে
অমর কৃতিত্ব।

কবিতার নাম - আত্মপ্রকাশ
আমি সেই পুষ্পকানন,
যেখানে ফুল ফুটে থাকে আজীবন।
খসে পড়েনা একটাও পাঁপড়ি, 
সুগন্ধ ছড়ায় অহোরাত্র।
আমি সেই চন্দ্রাবতী,
যার চাঁদোয়ায় ভালোবাসা পাওয়া যায়।
স্থিরতা, ধীরতা ও স্থবিরতায় পূর্ণ হওয়া যায়,
ফিরে পাওয়া যায় প্রচন্ডরকম মনোশক্তি।
আমি সেই হাসির প্রতীক,
যেখান থেকে হাসতে শেখা যায়।
নতুন করে বাঁচতে পারা যায়,
পাওয়া যায় ভালোবাসার নতুন ছন্দ।
আমি চঞ্চলা- চপলা,
মুগ্ধতার আঁচলে সকলকে বাঁধতে জানি।
চঞ্চলতা আমার দূর করে ক্লান্তি সবার;
উচ্ছলতা আর প্রাণবন্ততায়,
ছুঁয়ে থাকি পৃথিবীকে শুভ্র নবীনতায়।
আমি সন্ধ্যার মত অভিমানী,
যে অভিমানে পৃথিবীতে নেমে আসে রাত্রি।
বেড়ে যায় অসুখ, বুকের পাশে ধুকধুক;
আড়াল রাখি তাই অভিমান,
ভালোবাসার হাসি হেসে যাই অবিরাম।
আমি কোথায় থাকি?
সকলকে ভালোবেসে ভালোরাখার,
মধ্যখানেই আমার বাড়ি।

কবিতার নাম - প্রদক্ষিণ
আমি পুরো পৃথিবীকে ভালোবাসতে যেয়ে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম। 
আমি তোমার চোখে চেয়ে সমুদ্রকে আর আকাশ একত্র করে তীব্র গর্জন করেছি,
গ্রহ-নক্ষত্রকে সময়ের সীমারেখায় বেঁধে ফেলতে চেয়েছিলাম তোমার মায়ায়।
শতাব্দী জুড়ে জমে থাকা নবীনতার তীব্র সাহসিকতা আমি বার বার তোমার গন্ধে পেয়েছি।
তোমার রাগে ঘেরা ক্লান্ত ঘামে আছে প্রচণ্ড রকম সাহস, আমি যার মোহে বিভোর। 
তুমি নিকোটিনের মতো প্রকট এক নেশা, যাকে উপেক্ষা বা অবহেলার মতো মানব জন্ম হয়নি।
তুমি, যাকে বার বার হারিয়ে ফিরে পাওয়ার আশায় আমি এক নির্ঘুম মুসাফির।
আমি পুরো পৃথিবী ভ্রমণে বেড়িয়ে তোমাকে পাঠ করতে করতে থমকে গেছি।
আমি পুরো পৃথিবীকে ভালোবাসতে গিয়ে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।

কবিতার নাম - সম্পর্ক
কিছু সম্পর্কের নাম থাকেনা;
থাকেনা কোনো পরিচয়,
তবুও সম্পর্কগুলো বহন করে বৃহত্তর আত্মিক টান।
কিছু সম্পর্কের বানানটা কঠিন হলেও 
সম্পর্কের মানুষগুলো স্বপ্নে থাকে অনেক সহজে।
অনেকটা সময় আমরা, সম্পর্কগুলোকে বাধিনা কোনো নামে
তবে বুকের ভেতর পুষে রাখি যুগ থেকে যুগান্তরে।
কিছু সম্পর্কের মানুষগুলোকে কাছে থেকে ছুঁয়েও অচেনা লাগে।
আর কিছু সম্পর্কের মানুষগুলো,
না ছুঁয়েও থাকে বুক পাজরে।
সম্পর্কগুলো থাকুক না,
সম্পর্কের তালে; 
গভীরতা বাড়ুক মনের অতলে।
সম্পর্কগুলো নাম নাই বা পেল
নাই বা হলো ছুঁয়ে দেখা। 
অনুভূতিগুলোকে থাকুক আজীবন 
সজীবতায় প্রানবন্ততায়।
লেখক: জিতু আজমাইন, প্রভাষক (বাংলা), নরসিংদী পাবলিক কলেজ, নরসিংদী।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App