মেহেরপুর
২৯ কার্যদিবসে শিশু ধর্ষণের রায়, আসামির মৃত্যুদণ্ড
মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মামলার একমাত্র আসামি শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে তিন লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে মেহেরপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ মো. তাজুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আবদাল হকের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের ইছানুল হকের নয় বছর বয়সী মেয়ে বাবার জন্য মাঠে খাবার নিয়ে যাচ্ছিল। পথে শাকিল হোসেন তাকে কৌশলে ডেকে একটি পাটখেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটির কান্না শুনে মাঠে কর্মরত লোকজন এগিয়ে এলে শাকিল পালিয়ে যান। পরে এলাকাবাসী তাঁকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
ঘটনার দিনই শিশুটির বাবা গাংনী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে দূরবর্তী সাক্ষীদের ভার্চ্যুয়াল সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার বিচারকাজ শেষ করা সম্ভব হয়। মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শাকিল হোসেনকে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেন।
রায়ে আরও বলা হয়, আসামির কাছ থেকে আদায় করা তিন লাখ টাকা ভুক্তভোগী শিশুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। বর্তমানে সম্পত্তি না থাকলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকেও এই অর্থ আদায় করা যাবে এবং এ দাবিই অগ্রাধিকার পাবে।
