২২ তলা থেকে সন্তানকে ফেলে হত্যা করলো মা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পৃথিবীতে যে মানুষটির কাছে একটি সন্তান সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকে, তিনি হলেন মা। তবে এই চিরন্তন সত্যকে স্তব্ধ করে দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য ও মর্মান্তিক ঘটনা। যেখানে নিজের ৫ বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে ২২ তলা ভবন থেকে নিচে ছুঁড়ে ফেলে নিজে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন এক ভারতীয় প্রবাসী নারী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহর আল নাহদা এলাকার একটি আবাসিক ভবনে গত বুধবার (২০ মে) সকাল সোয়া ৭টার দিকে এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, ৩৫ বছর বয়সী ওই মা প্রথমে তার সন্তানকে ভবনের ১৫ তলার ব্যালকনি (বারান্দা) থেকে নিচে ফেলে দেন এবং এর পরপরই নিজে লাফ দেন। ভবনটিতে ছয় তলার পার্কিং স্পেস এবং জিমনেশিয়ামের বাড়তি তলা থাকায়, মা ও শিশু মূলত ভূপৃষ্ঠ থেকে ২২ তলা উচ্চতার সমপরিমাণ ওপর থেকে নিচে আছড়ে পড়েন।
ভবনের নিরাপত্তাকর্মী জানান, ‘ঘটনার সময় তিনি বিকট একটি শব্দ শুনতে পান। দ্রুত বাইরে এসে তিনি দেখতে পান ভবনের সামনের রাস্তায় শিশুটি এবং ফুটপাতে মায়ের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স বিভাগে খবর দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি কর্ডন করে ফেলে। পরবর্তীতে মরদেহগুলো উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং শনিবার (২৩ মে) বিকেল নাগাদ ঘটনাস্থল পরিষ্কার করা হয়।’
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ মৃত নারীর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে একটি এয়ারক্রাফট রিসোর্স অ্যালোকেশন অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ‘ভারতের কেরালা থেকে আসা এই দম্পতি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বিবাহিত এবং গত সাত বছর ধরে তারা এই অ্যাপার্টমেন্টেই বসবাস করছিলেন।’
নিরাপত্তাকর্মী জানান, ‘জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্বামী দাবি করেছেন যে তার স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন।’
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ‘ঘটনার আগের দিনও পারিবারিক কলহের জেরে ওই বাসায় পুলিশ এসেছিল।’
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো আবাসিক এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। ভবনের নিরাপত্তাকর্মী অত্যন্ত দুঃখপ্রকাশ করে জানান, ফুটফুটে শিশুটি প্রতিদিন সকালে যখন তার বাবার সাথে স্কুলে যেত, তখন সে হাসিমুখে সবাইকে হাত নেড়ে বিদায় জানাত। পুরো ভবনের সবার সাথেই শিশুটির খুব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।
শারজাহ পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ ও বিস্তারিত তদন্তের জন্য মামলাটি পাবলিক প্রসিকিউশনে স্থানান্তর করা হয়েছে।
