সোমবার ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা শুরু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। একইসঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীসহ একাধিক সমুদ্রপথ অবরোধ করেছে তেহরান, যার ফলে বিশ্ব রপ্তানি বাণিজ্যে ধস নামার পাশাপাশি তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে গোটা বিশ্ব। এই যুদ্ধ নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রথম দফার বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেস্তে গেলেও হাল ছাড়েনি পাকিস্তান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আগামী সোমবার ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘দুই দেশের প্রতিনিধিদল রোববার ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন।’
এর আগে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের সরকারি সূত্রগুলো জানায়, মঙ্গলবার থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের জন্য শান্তি প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যখন ত্রিদেশীয় সফরে বের হন, ঠিক একই সময়ে তেহরান সফরে যান দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। সৌদি আরব ও কাতারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ তুরস্কে পৌঁছান। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে টানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অতিবাহিত করেন।
যদিও এসব বৈঠকের ফলাফল নিয়ে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবে নিরাপত্তা জোরদারে ইসলামাবাদ ও পার্শ্ববর্তী রাওয়ালপিন্ডিতে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। অন্যান্য প্রদেশ থেকে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের আনা হচ্ছে।
গত শনিবার প্রথম দফার বৈঠক উপলক্ষে ইসলামাবাদে ১০ হাজারের বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।
এদিকে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তিনি ইসলামাবাদ সফর করতে পারেন এবং আলোচনার বেশিরভাগ বিষয়েই অগ্রগতি হয়েছে।
উল্লেখ্য, টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পরবর্তীতে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা ১৯৭৯ সালের পর দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনা ছিল। তবে ২১ ঘণ্টার সেই বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার আলোচনার তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এ বিষয়ে যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
