×

আন্তর্জাতিক

জেনে নিন

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা আসলে কয়টি?

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা আসলে কয়টি?

ছবি: ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স এন্ড ডেমোক্রেসিস (এফডিডি) থেকে

ইরান তার ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা পরিচালনা করে, যা তার পারমাণবিক জ্বালানি চক্রের বিভিন্ন ধাপ সম্পাদন করে। এই স্থাপনাগুলোর মধ্যে ইউরেনিয়াম খনি, সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, গবেষণা চুল্লি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত।

ইরানে এক ডজনের বেশি পারমাণবিক স্থাপনা থাকলেও, চূড়ান্ত গোপনীয়তা অবলম্বনের ফলে এর সবগুলো সম্পর্কে জানা যায় না। ২০২১ ও ২০২৫ সালে দুই দফায় ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছিলো।

ইরানের প্রধান কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা হলো-

নাতানজ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমপ্লেক্স (শহীদ আহমদী রোশন) : তেহরানের ২৫০ কিমি দক্ষিণে, ইসফাহান প্রদেশ  ইরানের বৃহত্তম ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সুবিধা। এতে ভূগর্ভস্থ জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ প্ল্যান্ট (এফইপি) এবং উপরিভাগের পাইলট প্ল্যান্ট (পিএফইপি) অন্তর্ভুক্ত। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় এটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নাতানজ ইউরেনিয়াম প্ল্যান্টটি ২০২৬ সালের ২ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ‍যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার শিকার। দু’বারই এই পারমাণবিক স্থাপনাটির উপরিভাগের স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ অংশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাঙ্কার-বাস্টার বোমার আঘাত লাগে। 

ফোর্ডো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সাইট :  ইরানের কোম শহরের কাছে একটি পর্বতের অভ্যন্তরে নির্মিত গভীর-ভূগর্ভস্থ  ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র এটি। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় বাঙ্কার-বাস্টার বোমার আঘাতে এই স্থাপনার প্রবেশ পথ ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছলেন- ‘ফোর্ডো ধ্বংস হয়ে গেছে’।

কারাজ টেসা কমপ্লেক্স :  ইরানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত পারমাণবিক স্থাপনা, যা আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরে অবস্থিত। এর পূর্ণরূপ হলো ইরান সেন্ট্রিফিউজ টেকনোলজি কোম্পানি, যেখানে মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সেন্ট্রিফিউজ মেশিনের যন্ত্রাংশ তৈরি করা হয়। স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এবং পশ্চিমা দেশগুলোর নজরদারিতে রয়েছে। ইরান অনেক সময় এখানে IAEA পরিদর্শকদের প্রবেশ বা ক্যামেরা স্থাপনে বাধা দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের জুনে এটি মার্কিন-ইসরায়েল বাহিনীর ভয়াবহ হামলার শিকার হয়। পরে নিরাপত্তার কারণে ইরান কারাজ কমপ্লেক্স থেকে তাদের সেন্ট্রিফিউজ তৈরির কিছু কার্যক্রম ইসফাহান শহরের ভূগর্ভস্থ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় ইরান।

ইসফাহান পারমাণবিক প্রযুক্তি কেন্দ্র (ইএনটিসি) :  ইসফাহান শহরের উপকণ্ঠে  ইউরেনিয়াম রূপান্তর সুবিধা (ইউসিএফ), জ্বালানি উৎপাদন, এবং গবেষণা চুল্লিসহ ইরানের অন্যতম পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র এটি। ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইসফাহানের ১১টি ভবন এবং ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ ও জ্বালানি উৎপাদন প্ল্যান্ট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরাক ভারী পানি চুল্লি (খোন্দাব) :  ‘খোন্দাব’ হলো ইরানের মার্কাজি প্রদেশের আরাক শহরের কাছে অবস্থিত, যেটি মূলত ‘ইরান-৪০’ নামের একটি ভারী পানি গবেষণা চুল্লি (যা প্লুটোনিয়াম উৎপাদনে সক্ষম) বিশাল একটি বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন    প্ল্যান্ট। ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন-ইসরায়েল হামলায় এটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, চুল্লির কন্টেইনমেন্ট গম্বুজ এবং মূল সিল ভেঙে যায়।

তেহরান পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র (টিএনআরসি):  এটি রাজধানী তেহরানে অবস্থিত এবং এখানে তেহরান রিসার্চ রিঅ্যাক্টর (TRR) রয়েছে, যা মূলত চিকিৎসা আইসোটোপ তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। ২০২৫ সালের হামলায় এর একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও টিআরআর অক্ষত থাকে।

বনাব পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র :  ‘বনাব’ ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক গবেষণা স্থাপনা, যা দেশটির পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের বনাব শহরে অবস্থিত। ১৯৯৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করা ‘বনাব’  মূলত কৃষিখাতে পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেয়। এর মধ্যে রয়েছে শস্যের মান উন্নয়ন এবং পোকামাকড় দমনে বিকিরণ পদ্ধতির ব্যবহার।  ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন-ইসরায়েল হামলার শিকার হলেও তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি বানাবের।

বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র :  ইরানের বুশেহর বন্দর শহরে অবস্থিত দেশটির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এটি, যার অফিশিয়াল নাম ‘বুশেহর-১’। বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কখনোই কোনো হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়নি এবং এটি শতভাগ কার্যকর রয়েছে।

এর বাইরেও ইরানের বেশ কয়েকটি পারমাণবিক কেন্দ্র রয়েছে, যার কয়েকটি সম্পর্কে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাও এখনো অন্ধকারে রয়ে গেছে।

টাইমলাইন: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

একাত্তরের পরাজিত শক্তিরাই সংবিধান ছুড়ে ফেলতে চায়

সমাজকল্যাণমন্ত্রী একাত্তরের পরাজিত শক্তিরাই সংবিধান ছুড়ে ফেলতে চায়

দুদিন ধরে সংঘর্ষে জড়িয়ে ৯ গ্রামের মানুষ, শতাধিক আহত

দুদিন ধরে সংঘর্ষে জড়িয়ে ৯ গ্রামের মানুষ, শতাধিক আহত

রাজধানীরতে যুবদল নেতাকে গুলি

রাজধানীরতে যুবদল নেতাকে গুলি

লঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষে বালুবাহী বাল্কহেড ডুবে গেছে

লঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষে বালুবাহী বাল্কহেড ডুবে গেছে

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App