রমজানের প্রথম জুমায় আল-আকসায় ইসরায়েলের বাধা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রমজানের প্রথম জুমার নামাজ উপলক্ষে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েল। শত শত ফিলিস্তিনি রামাল্লাহর নিকটবর্তী কালান্দিয়া চেকপয়েন্টে প্রবেশের আশায় দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ইসলাম ধর্মের অন্যতম পবিত্র এই স্থানে দিনে মাত্র ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে প্রবেশের অনুমতি দেবে, তাও আবার বিশেষ পারমিট সাপেক্ষে। এটি পূর্ববর্তী বছরগুলোতে আগত মুসল্লিদের সংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
শুধুমাত্র নির্দিষ্ট বয়সের ব্যক্তিদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে- ১২ বছরের কম বয়সী শিশু, ৫৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ এবং ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারী।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের মধ্যবর্তী চেকপয়েন্টগুলোতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর উচ্চ সতর্কবস্থার কারণে সকাল পর্যন্ত মাত্র ২ হাজার ফিলিস্তিনি কালান্দিয়া চেকপয়েন্ট অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছেন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করে। সেখানে এই প্রথম জুমায় মাত্র ১০ হাজার জনকে নামাজের অনুমতি দেওয়া সাগরে এক ফোঁটা পানির মতো। এমনকি এই সামান্য সংখ্যক মানুষের মধ্যেও খুব অল্প কয়েকজন ভেতরে ঢুকতে পেরেছেন।
আল জাজিরা জানায়, আগের বছরগুলোতে ফিলিস্তিনিরা এই পবিত্র স্থানে ২ লাখ ৫০ হাজার পর্যন্ত মুসল্লি নামাজ আদায় করেছে, আর এখন তার সামান্য একটি অংশ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই মুসল্লিরা অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম এবং ইসরায়েলের ভেতরে থাকা ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্য থেকে আসেন।
শত শত মানুষ এখনও চেকপয়েন্টে আটকে আছেন এবং মসজিদে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, কিন্তু তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ‘ওয়াফা’ জানায়, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে যে পশ্চিম তীর থেকে প্রবেশের নির্ধারিত কোটা ইতোমধ্যেই পূর্ণ হয়ে গেছে।
এই নতুন বিধিনিষেধের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের মধ্যকার বন্ধন ছিন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আল-আকসা মসজিদে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের শত বছরের ঐতিহ্য এবং তাদের উত্তরাধিকারের অংশ। কিন্তু এ বছর অনেকে জেরুজালেমে ইফতার করতে পারবেন না, যা অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের সঙ্গে পশ্চিম তীরের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার ইসরায়েলি কৌশলেরই একটি অংশ।
