ছাড়া পেলেন সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু, তদন্ত চলবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৮ এএম
মুক্তি পাওয়ার পর পুলিশ স্টেশন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করার সন্দেহে গ্রেফতারের পর সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকবে।
টেমস ভ্যালি পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে জানিয়েছে, তারা নরফোক থেকে ৬০ বছর বয়সী একজনকে গ্রেফতার করেছে এবং বার্কশায়ার ও নরফোকের ঠিকানাগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে।
অ্যান্ড্রুর গ্রেফতার প্রতিক্রিয়ায় তার রাজা তৃতীয় চার্লস বলেছেন, "আইনকে অবশ্যই তার নিজস্ব গতিতে চলতে হবে" এবং পুলিশকে "পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতা" দেওয়া হয়েছে। অ্যান্ড্রু রাজা চার্লসের ছোট ভাই।
পুলিশ আগে বলেছিল, তারা যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্কের অভিযোগ তদন্তের কথা বিবেচনা করছে এবং গোপন তথ্য লেনদেনের অভিযোগ পর্যালোচনা করছে।
সম্প্রতি মার্কিন সরকার জেফরি এপস্টিনের যেসব ফাইল প্রকাশ করেছে তার একটি অংশে তার সঙ্গে অ্যান্ড্রুর যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে, টেমস ভ্যালি পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে "তদন্তের অধীনে ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে"। নরফোকে তাদের তল্লাশিও শেষ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আইলসহ্যাম থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাবেক রাজপুত্র অ্যান্ড্রুকে গাড়ির পেছনের সিটে বসে থাকতে দেখা গেছে।
এই প্রথম অ্যান্ড্রুকে গ্রেফতার করা হলো। যদিও কোনো অন্যায় কাজ করার বিষয়টি ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছেন তিনি।
টেমস ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছে যে, 'বিস্তারিত পর্যালোচনা' করার পর এখন একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে দাবি করার হয়েছিল যে, একটি পৃথক অভিযোগের তদন্ত করা হচ্ছে যেখানে ২০১০ সালে এপস্টিন আরেকজন নারীকে অ্যান্ড্রুর সাথে যৌন সম্পর্কের জন্য যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছিলেন।
ওই নারীর বয়স তখন ২০ এর কোটায় ছিল এবং তিনি ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় স্যান্ড্রিংহামে এই গ্রেফতার ঘটনাটি যৌন অপরাধের কোনো অভিযোগের সাথে সম্পর্কিত ছিল না।
ব্রিটেনের রাজার নরফোক এস্টেটের বাইরে, যেখানে প্রাক্তন রাজপুত্র বার্কশায়ারের উইন্ডসরের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে বসবাস করছেন, সেখানেই চিহ্নহীন কিছু গাড়িকে পুলিশের যান বলে মনে করা হয়।
এছাড়া বিবিসি জানতে পেরেছে যে, উইন্ডসর গ্রেট পার্কে অ্যান্ড্রুর পুরনো বাড়ি- রয়েল লজ-এ তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। সেখানে গেটের বাইরে বেশ কয়েকজন ইউনিফর্ম পরা অফিসারকে দেখা গেছে।
'জাতীয় নির্দেশিকা অনুসারে' গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করার কথা জানায় টেমস ভ্যালি পুলিশ। এছাড়া মামলা চলমান থাকায় আদালত অবমাননার বিষয়েও সবাইকে সতর্ক করেছে তারা।
সহকারী চিফ কনস্টেবল অলিভার রাইট জানিয়েছেন, "এই ঘটনা নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে এটি আমরা বুঝতে পারছি এবং আমরা উপযুক্ত সময়েই নতুন তথ্য সবাইকে জানাবো।"
ইয়র্কের সাবেক ডিউক অ্যান্ড্রু ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ করেছেন। ওই সময় বিশ্বজুড়ে ঊর্ধ্বতন সরকারি ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি।
মনে করা হচ্ছে, ২০১০ সালে ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর এবং চীন সফরের সরকারি প্রতিবেদন এপস্টিনের কাছে পাঠিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু।
প্রকাশিত নথি অনুসারে, আফগানিস্তানে সোনা ও ইউরেনিয়ামে বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য এপস্টিনের কাছে পাঠিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু।
সরকারি নির্দেশনায়, বাণিজ্য দূতদের সরকারি সফর সম্পর্কে সংবেদনশীল, বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।
রাজা চার্লস বলেছেন যে তিনি তার ভাইয়ের গ্রেফতারের খবরটি "গভীর উদ্বেগের" সাথে জেনেছেন।
"এখন যা হবে তা হলো পূর্ণাঙ্গ, ন্যায্য এবং যথাযথ ব্যবস্থা। বিষয়টি সঠিক পদ্ধতিতে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্বারা তদন্ত করা হবে," তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন।
"আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে হবে," বলেন রাজা চার্লস।
বিবিসি বুঝতে পেরেছে যে, রাজা চার্লস এর এই বক্তব্য সমর্থন করেছেন ওয়েলসের যুবরাজ এবং রাজকুমারী।
এছাড়া অ্যান্ড্রুর ৬৬তম জন্মদিনে গ্রেফতারের ব্যাপারে রাজা বা বাকিংহাম প্যালেস কাউকেই আগাম সতর্ক করা হয়নি বলেই মনে হচ্ছে।
এদিকে এমন নানা ঘটনা প্রবাহের মধ্যেও, রাজপরিবারের সদস্যরা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নিজেদের ব্যস্ততা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার লন্ডন ফ্যাশন সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও নিজের ভাইয়ের গ্রেফতারের বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি রাজা।
এপস্টিনের সাথে সম্পর্কের সূত্রে কোনো অন্যায় কাজ করার কথা সব সময় অস্বীকার করে আসছেন অ্যান্ড্রু।
এমনকি জানুয়ারিতে এপস্টিন সংক্রান্ত লাখ লাখ ফাইল প্রকাশের পর, এর সাথে সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে বিবিসির প্রশ্নেরও জবাব দেননি তিনি।
