বাংলাদেশ নিয়ে ভুয়া তথ্যের ফাঁদে পা দেবেন না: মমতা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৪, ১০:০৮ এএম
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উসকানিমূলক ‘ভুয়া ও মিথ্যা’ তথ্যের ফাঁদে পা না দিতে পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া বাংলাদেশ নিয়ে উসকানিমূলক কথাবার্তা না বলতে রাজ্যের রাজনৈতিক নেতাদের অনুরোধ করেছেন তিনি।
তিনি বলেছেন, আমি সব গোত্রের মানুষদের কাছে হাত জোর করে অনুরোধ করছি শান্ত থাকুন এবং সাম্প্রদায়িক কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবেন না। আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। যদি বাংলাদেশে আমাদের ভাইবোনরা সমস্যায় পড়েন তাহলে এটি কেন্দ্র সরকার দেখবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কোনো কিছু শেয়ার না করার অনুরোধ জানিয়ে মমতা বলেছেন, বিজেপির কিছু নেতা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে অসঙ্গত কথাবার্তা বলছে।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা কিছু ভিডিও ও পোস্ট দেখেছি। যেগুলো শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে পারে। দয়া করে উসকানিমূলক ভিডিও শেয়ার করবেন না। ভুয়া তথ্যের ফাঁদে পা দেবেন না। রাজ্য প্রশাসন সজাগ রয়েছে। শান্ত থাকুন এবং শান্তি বজায় রাখুন— যোগ করেন মমতা।
এর আগে বাংলাদেশের নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শুভেচ্ছা বার্তায় মমতা ব্যানার্জি বলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বাংলাদেশে যারা কার্যভার গ্রহণ করেছেন, তাদের প্রতি আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা রইল। আশা করি, তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরো উন্নত হবে।
মমতা বলেন, বাংলাদেশের উন্নতি, শান্তি, প্রগতি ও সর্বস্তরের মানুষের আরো ভালো হোক, এ কামনা করি। ওখানকার ছাত্র, যুব, শ্রমিক, কৃষক, মহিলা থেকে শুরু করে সকলের প্রতি আমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইলো। এছাড়া খুব শিগগিরই সংকট কেটে শান্তি ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ছাত্র ও জনতার গণবিপ্লবের মুখে গত ৫ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপরই ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভুয়া ও উসকানিমূলক খবর প্রকাশ করা হয়। এতে করে ভারতের মানুষ মনে করতে থাকেন, হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের হিন্দুরা ব্যাপক সহিংসতার মুখে পড়েছেন। গুজব এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, পশ্চিমবঙ্গের এক বিজেপি নেতা দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে ১ কোটি মানুষ ভারতে প্রবেশ করতে পারে, যা পুরোপুরি ভুয়া খবর।
