যে টাকা পারিশ্রমিক পান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৪, ০৬:১৮ পিএম
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ সরকারের ক্ষমতায় এসেছে পালাবদল। একসময় গোটা পৃথিবী শাসন করা দেশটি পেয়েছে নতুন প্রধানমন্ত্রী। প্রতাপশালী এই দেশটি বিশ্ব রাজনীতিতেও রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাই অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে এ কত টাকা বেতন পান ব্রিটিশ সরকারের প্রধান। চলুন সেটি যেনে নেয়া যাক।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের তথ্যানুসারে, একজন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেতন হবে ১ লাখ ৭২ হাজার ১৫৩ পাউন্ড। এই অর্থের ৮০ হাজার ৮০৭ পাউন্ড পাবেন তিনি প্রধানমন্ত্রীর সম্মানী ভাতা হিসেবে, আর বাকি ৯১ হাজার ৩৪৬ হাজার পাউন্ড পাবেন এমপি হিসেবে।
তবে কর ও জাতীয় বিমার অর্থ কেটে প্রধানমন্ত্রীর পকেটে ঢুকবে মাত্র ৭৫ হাজার ৪৪০ পাউন্ড। হিসেব করলে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য পেশার তুলনায় প্রধানমন্ত্রী খুব বেশি বেতন-ভাতা পান না। পূর্ববর্তী অনেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে দেখা গেছে ঋণের বোঝা বইতে, অনেকে আবার সরকারি সহায়তাও নিয়েছেন বাধ্য হয়ে। খবর দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক শতাব্দী ধরেই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্নমূখী হয়েছে। আঠারো শতকে ব্রিটিশ ট্রেজারির প্রথম লর্ড হিসেবে বার্ষিক ১০ হাজার ৫০০ পাউন্ড পেতেন উইলিয়াম পিট। বিশ শতকের শুরুর দিকে একজন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্ষিক ৫ হাজার পাউন্ড বেতন পেতেন, যা আজকের বিনিময় হার অনুসারে প্রায় দেড় মিলিয়ন পাউন্ডের সমান। এছাড়া ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেতন ছিল বর্তমান সময়ের প্রায় ৬ লাখ পাউন্ডের সম পরিমাণ।
মার্গারেট থ্যাচারের পদত্যাগের পর পাবলিক ডিউটিকস্টস অ্যালাউন্স (পিডিসিএ) প্রতিষ্ঠা করা হয়। পিডিসিএ থেকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের প্রয়োজনীয় অফিস খরচ ও জনজীবনে তাদের বিশেষ অবস্থানের জন্য অন্যান্য খরচ বাবদ বার্ষিক ১ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড অর্থ দাবি করা করা হয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, একজন প্রাক্তন সরকারপ্রধানের জীবনধারণের জন্য এ পরিমাণ অর্থ দাবি করা যেতেই পারে।
আরো পড়ুন: নতুন প্রধানমন্ত্রী পেলো যুক্তরাজ্য
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের এবারের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভদের হটিয়ে বড় জয় পেয়েছে লেবার পার্টি। এতে টোরিদের ১৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের ৬৫০ আসনের মধ্যে ৪১২টিতেই জয় পেয়েছে বামপন্থীরা। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ইতোমধ্যেই মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে দলটি। এতে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন লেবার পার্টির নেতা কিয়ের স্টারমার।
