×

আন্তর্জাতিক

মেডিকেলে ভর্তিতে ৭২০ নম্বরে ৭২০ পেয়ে প্রথম আমিনা আরিফ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ০৩:১৬ পিএম

মেডিকেলে ভর্তিতে ৭২০ নম্বরে ৭২০ পেয়ে প্রথম আমিনা আরিফ

আমিনা আরিফ

চলতি বছর মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় (নীট-ইউজি) ৭২০ নম্বরের মধ্যে ৭২০ পেয়ে গোটা ভারতে প্রথমস্থান অধিকার করেছেন মুম্বাইয়ের এক মুসলিম শিক্ষার্থী আমিনা আরিফ কাদিওয়ালা। দেশটির প্রায় ২৫ লাখ তরুণ-তরুণীর মধ্যে এ ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া আমিনা সামান্য একজন বেকারি শ্রমিকের মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী ছিলেন তিনি। দশম শ্রেণিতে ৯৩.২০ শতাংশ এবং দ্বাদশ পরীক্ষায় ৯৫ শতাংশ স্কোর করেছিলেন। খবর: দ্যা টাইমস অব ইন্ডিয়ার।  

আমিনা আরিফ পড়াশোনা করেছেন  মুম্বাইয়ের এক উর্দু মিডিয়াম স্কুলে। তিনি একজন হিজাবী মুসলিম তরুণী। হিজাব তার শিক্ষার অগ্রগতিতে বাধা হতে পারেনি। তিনি হিজাব পরেই সাফল্য ছিনিয়ে নিয়েছেন। অবশ্য আমিনা ছাড়াও এ পরীক্ষায় সমান নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন আরও ৬৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে তিনজন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের। সবচেয়ে বেশি ১১ জন করে আছেন উড়িষ্যা ও রাজস্থানের।

উর্দু মিডিয়ামের ছাত্রী আমিনার এই সাফল্য সহজে ধরা দেয়নি। এর পেছনে রয়েছে অনেক না বলা পরিশ্রম, অধ্যবসায়, না ঘুমানো রাত। সবচেয়ে বেশি বাধা ছিল ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যারিয়ার। উর্দু মিডিয়াম হওয়ার কারণে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাকে। তবে দমে যাননি আমিনা। আমিনা তার এই সাফল্যের সিংহভাগ কৃতিত্ব দিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষকে। যারা প্রতিটা মুহূর্তে আমিনাকে সহায়তা ও উত্তম শিক্ষাদান করেছেন।

সেই ছোট্ট থেকেই ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা ছিল আমিনার। দশম শ্রেণি পর্যন্ত উর্দু বিভাগেই পড়াশোনা করেছেন। তারপর এসভিকেএমের মিথিবাই কলেজে ভর্তি হন। প্রথম থেকে ইংরেজিতে দুর্বল হওয়ার কারণে নিটের পড়াশোনায় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাকে। কিন্তু ধীরে ধীরে নিজের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠেন তিনি। ২০২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের ১ লাখ ২০ হাজার ৭০ জন প্রার্থী সর্বভারতীয় মেডিকেল প্রবেশিকার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। 

পরীক্ষা দিয়েছিলেন ১ লাখ ১৬ হাজার ১১০ জন। আর ৬৩ হাজার ১৩৫ জন কোয়ালিফাই করেছেন, যা শতাংশের বিচারে ৫৪। এ পরীক্ষায় মোট ৬৭ জন একই নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। আর তাদের মধ্যে আমিনাও একজন। ৭২০ নম্বরের মধ্যে ৭২০ নম্বর পেয়েছেন তিনি। আমিনার ইচ্ছা, দিল্লির এইমস থেকে মেডিকেল পড়াশোনা করা। তবে অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। 

নিটে প্রথম হওয়ার পর আমিনা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মন দিয়ে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। প্রতিদিন রুটিন করে পড়াশোনা করেছি। শিক্ষকরা যেভাবে গাইড করেছেন, সেভাবেই পড়েছি। 

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App