×

আন্তর্জাতিক

রাজনৈতিক সহিংসতায় যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৪, ১২:৩৮ পিএম

রাজনৈতিক সহিংসতায় যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

রাজনৈতিক সহিংসতায় ভারতে যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা। ছবি: সংগৃহীত

গুলি করার পর যুবককে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম মো হাফিজুর শেখ (৩৫)। সে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার কালীগঞ্জের পচা চাঁদপুর রেললাইনে পাড়ার বাসিন্দা।  

শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির কাছেই তাকে প্রথমে গুলি করে, পরে কুপিয়ে খুন করা হয়। খুনের পর পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে অনেক রাত পর্যন্ত মরদেহ আটকে রাখেন নিহতের আত্মীয়-পরিজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে পুলিশ সে অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে অনেক রাত পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। খবর আনন্দবাজারের। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রতিবেদনে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশীদের সঙ্গে জাতীয় সড়কের একপাশে ক্যারাম খেলছিলেন হাফিজুল। এ সময় কয়েকজন এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় হাফিজুরের উপর। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, আততায়ীরা কেউ-কেউ পুলিশের মতো খাকি পোশাক পরে এসেছিলেন।

নিহতের এক ভাই সুকু শেখ সিপিএমের টিকিটে দেবগ্রাম পঞ্চায়েতে আসন জিতলেও বর্তমানে তৃণমূলের সমর্থক বলে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছিলেন। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন- ‘পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ সবকিছুই জানে, কিন্তু কিছুই করেনি।’

এ ঘটনায় পুলিশ আগাম খবর পাওয়ার বিষয়ে বা কোন ধরনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ভোট গণনার ৩ দিন আগে এই খুনে ক্রমশ রাজনৈতিক দাবি-পাল্টা দাবির সামনে আসতে শুরু করেছে। সুকু শেখ নিজেকে এখন তৃণমূল দাবি করলেও তার স্ত্রী জানিয়েছেন সুকু  সিপিএম সমর্থক। কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের এই সংখ্যালঘু নেতা গত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও সিপিএমের সমর্থনে নির্বাচন করেছেন।  

অন্যদিকে হাফিজুরের আরেক ভাই জয়নুদ্দিন মোল্লার দাবি, পঞ্চায়েত নির্বাচনে তারা সিপিএম করেছিলেন ঠিকই, তবে লোকসভা নির্বাচনের আগে যোগ দেন বিজেপিতে। সে কারণেই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা হাফিজুরকে খুন করেছে। রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিবারের লোকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বিজেপির নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস। 

তিনি দাবি করেন- ‘জয়নুদ্দিন মোল্লা ওরফে বগার নেতৃত্বে ওই গ্রামের অনেকেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছে, আর সে কারণেই এই খুন।’

অন্যদিকে পুলিশের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেই এই হামলা ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই উঠে এসেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

কালীগঞ্জের তৃণমূলের বিধায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদ দাবি করে বলেন- ‘এটা রাজনৈতিক কোনো ঘটনা নয়। পুলিশ তদন্ত করছে, তাদের তদন্তেও তাই এসেছে। দোষীরা গ্রেপ্তার হলেই খুনের আসল কারণ বোঝা যাবে।’

আরো পড়ুন: আসামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, মৃত বেড়ে ১৫

এসময় খুনের শিকার মো হাফিজুর শেখের স্ত্রী সখী বিবি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন- ‘ আমার স্বামীকে ওরা খুন করে দিল। ছোট-ছোট বাচ্চাগুলোর কি হবে এখন।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App