×

আন্তর্জাতিক

যেভাবে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩৫ বাংলাদেশীকে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৯:০৪ এএম

যেভাবে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩৫ বাংলাদেশীকে

ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে আসতে গিয়ে প্রতি বছর অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়রয়টার্স ফাইল ছবি

সোমবার ভূমধ্যসাগরে মাল্টা ও ইতালির মধ্যকার জলসীমা থেকে ৩৫ বাংলাদেশীকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের সময় তারা একটি ফাইবারের নৌকায় গাদাগাদিকরে বসে ছিলেন। এসময় তাদের চোখমুখ ছিল বসা, কাপড় ছিল ভেজা। তারা ঠান্ডায় থরথর করে কাঁপছিলেন। সবার পা ছিল খালি আর চোখ ছিল লাল ।

 অভিবাসন প্রত্যাশীদের সেই নৌকাকে টেনে তীরের দিকে আনতেই নৌকাটির আরোহীরা তাদের (উদ্ধারকারী) হাত ও জ্যাকেট আঁকড়ে ধরেন। একপর্যায়ে তারা উদ্ধারকারী জাহাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। 

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, তারা ৩ দিন ধরে নৌকায় ভাসছিলেন। লিবিয়ার বেনগাজি থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে গন্তব্য ছিল ইতালির সিসিলি দ্বীপ।

এসওএস মেডিটারেনি জানায়, ২০১৯ সাল থেকে তারা ওশান ভাইকিংয়ের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগর থেকে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে ইতোমধ্যে উদ্ধার করেছে।

উদ্ধারকারী দলের নার্সিং স্টাফরা জানান, নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ জনের জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা দরকার ছিল। একজন অচেতন অবস্থায় ছিলেন। তাকে এসময় কম্বলে মুড়িয়ে দেয়া হয়।

সকালে উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগ দেয় ইন্টারন্যাশনাল রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট। তারা পানি, খাবার ও কম্বল দিয়ে উদ্ধার হওয়া অভিবাসন প্রত্যাশীদের সহায়তা করেন। এরপর অভিবাসন প্রত্যাশীরা গোসল করেন, তাদের কালো ট্র্যাকস্যুট পরানো হয়। শরীরের উষ্ণতার জন্য শুকনো ফল ও পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ানো হয়।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (আইআরএফসি) অপারেশনস ব্যবস্থাপক সারা মানসিনেলি বলেন, ‘তারা যেন সুস্থ বোধ করে, এটিই ছিলো আমাদের অগ্রাধিকার। এখানে সবাই এখন নিরাপদে আছে এবং তাদের লিবিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে না বলে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। যদিও তারা বারবারই আমাদের জিজ্ঞেস করছিল, তোমরা কি আমাদের লিবিয়ায় ফেরত পাঠাচ্ছ? তারা তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারছিল না আমরা কারা। তারা মানসিকভাবে প্রচণ্ড ভেঙে পড়েছিল।’

পরে আইএফআরসির সানা নামের একজন ক্রু উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বুঝিয়ে বলেন, এখন তাদের কিভাবে সহায়তা করা হবে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে মাত্র একজনই ইংরেজি জানতেন। তিনি অন্যদের বাংলায় ট্রান্সলেট করে বলে দিতেন। পরে জাহাজটি এখন ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক উপকূলীয় ওরতোনা বন্দরের দিকে যাত্রা শুরু করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অনেকে ঘুমিয়ে পড়েন।

ইতালির কট্টর ডানপন্থী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর চালু করা নতুন নীতি অনুযায়ী, উদ্ধারকারী জাহাজগুলো একই সময়ে একটি অভিযানে অংশ নেবে এবং এরপর সোজা নির্ধারিত বন্দরে চলে যাবে। জাহাজটি ওরতোনায় পৌঁছাতে আরো দুই দিনের বেশি সময় লাগবে।

চলতি মাসে রোম বাংলাদেশকে ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর অর্থ হলো উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ইতালিতে আশ্রয় চাওয়া এখন কঠিন হবে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যমতে, গত জানুয়ারি থেকে মধ্য ভূমধ্যসাগরে ৬২২ জন অভিবাসন প্রত্যাশী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য রুটটিকে সবচেয়ে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App