×

আন্তর্জাতিক

নিজের দুঃসহ স্মৃতির কথা জানালেন রানিম হিজাজি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ০৫:২৩ পিএম

নিজের দুঃসহ স্মৃতির কথা জানালেন রানিম হিজাজি

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি বিমান হামলার আগে নিজের এক বছরের ছেলে আজজুজকে শক্ত হাতে ধরেছিলেন, সেই স্মৃতিরই রোমন্থন করলে রানিম হিজাজি। গাজায় নিজেদের বাসার উপর দিয়ে একটি ড্রোনটি তীব্র বেগে উড়ে যাওয়ার পর তিনি নিজেকে আবিস্কার করেন ধ্বংষস্তুপের নিচে। 

ঘটনার আবছায় স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, আমি তীব্র আঘাত অনুভব করেছি। আমার শাশুড়ি ধ্বংষস্তুপের নিচ থেকে আমাকে টেনে বেড় করে। আমার বাচ্চা আমার পেটের উপড়েই পড়ে ছিল। 

২৪ অক্টোবরের সেই মুহূর্ত থেকে আমি কেন বেঁচে আছি, তা জানি না। আমি মারা যাওয়ার জন্য পরিবারের সবাইকে ছেড়ে যেতে বলেছি। কিন্তু তারা খান ইউনিসের ওই বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে আমাকে উদ্ধার করে।

রানিম হিজাজি বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় তাকে মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল। তার আট মাসের গর্ভাবস্থার কারণে চিকিৎসকরা তাকে আবার দেখেন এবং সিজারের মাধ্যমে তার মেয়ে মরিয়মের জন্ম হয়।

তিনি বলেন, ‘সে তার প্রথম শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি জীবন ফিরে পেয়েছি। চিকিৎসকরা আমাকে বলেছিলেন যে এটি একটি অলৌকিক ঘটনা।’

কাতারের রাজধানী দোহায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ক্ষীণ কণ্ঠে নিজের গল্প বলেন হিজাজি। তার বাম হাত কেটে ফেলা হয়েছে। তার দুই পা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চিকিৎসার জন্য হাড়ের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।

মাঝে মাঝে ব্যথার আর্তনাদ সত্ত্বেও দোহারের হামাদ হাসপাতাল গাজার ওয়ার্ডের থেকে শান্ত এবং চিকিৎসা সুবিধাগুলো সম্পূর্ণ আলাদা। প্রতিটি দরজার পেছনে রয়েছে অসহনীয় ক্ষতির কলঙ্কিত অধ্যায়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে থাকার গল্প। এই আঘাতের চিকিৎসা শেষে মায়েরা সন্তান হারানোর যন্ত্রণা এবং বেঁচে থাকা শিশুদের যত্ন নেওয়ার কম সক্ষমতা নিয়ে লড়াই করে।

হিজাজি বলেন, ‘আমার মেয়েই আমাকে বাঁচিয়েছে। আমি যখন প্রথম আহত হয়েছিলাম, তখন আমি বলছিলাম, আমি তাকে চাই না। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই।’ তিনি বলেন, ‘আমি মাথা তুলতে পারিনি। আমি তাকে দেখতে পারিনি। তার খুব কম যত্ন নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আশা করেন যে একদিন তার মেয়ে তার চলার পথের শক্তি হবে।

আঘাতের এক মাস পর চিকিৎসার জন্য হিজাজিকে গাজা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। মরিয়ম প্রায় যুদ্ধের মতোই বৃদ্ধ এবং গাল দুটো তার প্রয়াত ভাইয়ের মতোই নিটোল। মিশরে দাদা-দাদির সঙ্গে আছে মরিয়ম। হিজাজি ভিডিও কলে মরিয়মকে বড় হতে দেখেছেন। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি তাকে ছুঁয়ে দেখতে পারেননি। দোহায় অস্ত্রোপচারের পর তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান এবং চিকিৎসকরা তাকে আশ্বাস দেন যে, তিনি আবার হাঁটতে পারবেন। হিজাজি বলেছেন, ‘জীবন শেষ হয়ে গেছে। আর কোনো আনন্দ নেই।’

উল্লেখ্য, হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলে সামরিক অভিযানে গাজা থেকে ৪ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়া আরো হাজার হাজার গুরুতর অবস্থায় চলে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

গত ১০ মে জাতিসংঘ এবং সহায়তা সংস্থাগুলো জানায়, ইসরায়েল ৪২ শতাংশ মেডিকেল সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App