×

আন্তর্জাতিক

মৃত্যুর আগে ইসরায়েলকে যা বলে গেলেন মার্কিন সেনা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:০৬ পিএম

মৃত্যুর আগে ইসরায়েলকে যা বলে গেলেন মার্কিন সেনা

ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে সোমবার সন্ধ্যায় শত শত মানুষ সমবেতভাবে মার্কিন বিমানসেনা অ্যারন বুশনেলের (২৫) মৃত্যুতে শোক জানাতে আসেন। 

তিনি গাজায় ইসরায়েলের 'গণহত্যা' বন্ধের দাবিতে এবং বর্বরতার প্রতিবাদে নিজের শরীরে আগুন দিয়েছিলেন।

ধারণা করা হচ্ছে, অ্যারন বুশনেল মৃত্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার ইসরায়েল নীতিতে পরিবর্তন আনবেন। খবর আনোদোলুর।

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা মনে করেন এই ঘটনা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি ও সমর্থন যোগাবে। এর ফলে সাধারণ আমেরিকানরাও ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে আরো সোচ্চার হবে। ফলে পরিবর্তন হতে পারে যুদ্ধের গতিপথ।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধে অব্যাহত মার্কিন সমর্থনের প্রতিবাদে রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ওই সেনা ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যারন বুশনেল বলছেন- ‘আমি আর গণহত্যার সঙ্গে জড়িত থাকব না। আমি এই হামলার ঘটনার চরম প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি যা করতে যাচ্ছি তা ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো বর্বরতার চেয়ে মোটেই বেশি কিছু নয়। 

কিন্তু আমাদের শাসক শ্রেণি এটিকে স্বাভাবিক বলে চালিয়ে দিচ্ছে। নিজের শরীরে আগুন দেয়ার আগে তিনি ফ্রি প্যালেস্টাইন বলে চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। বুশনেলের এ ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা আনোদোলুকে জানান, বুশনেলের মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় ৩০০ আমেরিকান প্রতিবাদ জানাতে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়েছেন। তারা ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় সেখানে অবস্থান করেন।

সাবেক সেনা গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোসেফাইন গুইলবেউ আনাদোলুকে বলেন, আমিও প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। কারণ আমি বিশ্বাস করি বুশনেলের মৃত্যু বৃথা যেতে পারে না।

আরো পড়ুন: গাজায় যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত দিলেন বাইডেন

বিক্ষোভে অংশ নেয়া ভার্জিনিয়ার আনানডেলের বাসিন্দা জেনি রোজমেরি (২২) বলেন, ‘বুশনেল যা করেছেন সেটি নিঃসন্দেহে একটি চরম প্রতিবাদ। তবে আমর মনে হয় তিনি নৈতিকভাবে যা করেছেন তা ঠিকই করেছেন।’

রোজমেরি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদেরকে এখনই একটি ঐক্যমত্যে পৌঁছানো দরকার। কিন্তু সরকার সাধারণ জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোন মূল্য দিচ্ছে না। তবুও আশার কথা সামরিক বাহিনীর একজন সদস্য এটির প্রতিবাদ করেছেন। আশা করি সবকিছু দ্রুতই পরিবর্তন হবে।’

ছবি: সংগৃহীত

৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় বর্বর বিমান ও স্থল হামলা শুরু করে। তাদের হামলায় অন্তত ৩০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। পুরো উপত্যকায় চালানো হয়েছে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। এর আগে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাজার ইসরায়েলের হামলার কারণে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটে পড়েছে ভূখণ্ডটির প্রয় ৮৫ শতাংশ মানুষ। জাতিসংঘের হিসেবে গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ইতিমধ্যে আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলকে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। জানুয়ারিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে তেল আবিবকে গণহত্যা বন্ধ করতে এবং গাজার বেসামরিক নাগরিকদের মানবিক সহায়তা প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়ার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App