×

আন্তর্জাতিক

জিম্মি ২ ইসরায়েলির প্রাণ গেল ইসরায়েলের হামলায়

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৪, ১১:২০ এএম

জিম্মি ২ ইসরায়েলির প্রাণ গেল ইসরায়েলের হামলায়

হামাসের প্রকাশিত সাম্প্রতিক ফুটেজে দুইজন পুরুষ বন্দিকে দেখানো হয়েছে, তাদের একজন ছিলেন ইতাই সভিরস্কি। ছবি: দি মিডিয়া লাইন

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হাতে জিম্মি দুই ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই দুই জিম্মির নিহত হওয়ার খবর জানিয়ে তাদের মরদেহের ভিডিও প্রকাশ করেছে হামাস। 

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত দুই ইসরায়েলি জিম্মির মৃতদেহ দেখিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের সশস্ত্র শাখা। সোমবার কাসাম ব্রিগেডসের প্রকাশিত ওই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, তিনজন ইসরায়েলি জিম্মি ক্যামেরার সামনে কথা বলছেন (সম্ভবত চাপের মুখে)।

অযাচাইকৃত এই ভিডিওর প্রথম অংশে এক নারী জিম্মি ও অন্য দুজন পুরুষ জিম্মি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে গাজায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। ভিডিওতে থাকা ওই নারী জিম্মিকে নোয়া আরগামানি (২৬) বলে শনাক্ত করেছে ইসরায়েলি মিডিয়া।

ভিডিওর দ্বিতীয় অংশে আরগামানি বলেছেন, ‘আমাদের নিজস্ব (ইসরায়েলি) বিমান হামলার কারণে’ জিম্মি অন্য দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। দুই জিম্মির মৃতদেহ দেখানোর মাধ্যমে ভিডিওটি শেষ হয়। অবশ্য ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

ভিডিওটির সাথে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কাসাম ব্রিগেড বলেছে, এই দুই ব্যক্তি ‘জায়নবাদী সেনাবাহিনীর বোমা হামলায়’ নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি হামাসের সর্বশেষ ভিডিওতে থাকা পুরুষ বন্দিকে ইতাই সভিরস্কি হিসেবে চিহ্নিত করলেও পরিবারের অনুরোধে দ্বিতীয় ব্যক্তির নাম বা অন্যান্য বিবরণ দেননি তিনি।

তিনি দাবি করেন, ইতাইকে আমাদের বাহিনী গুলি করেনি। এটা হামাসের মিথ্যা কথা। যে বিল্ডিংয়ে তাদের আটকে রাখা হয়েছিল সেটি লক্ষ্যবস্তু ছিল না এবং আমাদের বাহিনী সেখানে আক্রমণ করেনি। ‘আমরা কোনও স্থানে হামলা করি না যদি আমরা জানি যে, সেখানে জিম্মি থাকতে পারে।’

হামাস এর আগে গত রোববার আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে তিন জিম্মিকে জীবিত দেখানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্র ধর্মীয় স্থান আল-আকসা মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের অত্যাচারের জবাব দিতে গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ নামে একটি অভিযান চালায়।

হামাসের এই হামলায় নিহত হন কমপক্ষে ১২০০ ইসরায়েলি। নিহতদের প্রায় ৩০০ জন সেনাসদস্যও ছিলেন। এছাড়া সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকসহ আরও দুই শতাধিক মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায় হামাস।

হামাসের হাতে আটক বিপুল এসব জিম্মির মুক্তি দাবি করেছে ইসরায়েল। আর এ লক্ষ্যে গত ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

তবে টানা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে আগ্রাসন চালানোর পরও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হাতে আটক থাকা বেশিরভাগ জিম্মিকেই উদ্ধার করতে পারেনি ইসরায়েল।

চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, গাজায় এখনও ১৩৬ ইসরায়েলি হামাসের হাতে আটক রয়েছে।


সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App